০৯:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মগবাজারে অবস্থিত আদ-দ্বীন হাসপাতালে বেকারির সন্ধান

  • আপডেট: ০৯:৩৩:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
  • 10

সূর্যোদয় ডেস্ক : রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিচতলায় সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূতভাবে পরিচালিত একটি বাণিজ্যিক বেকারির সন্ধান পাওয়া গেছে। ছয় নবজাতকের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে আজ ৩০ মে শনিবার হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন নিজেই এই অনিয়ম হাতেনাতে ধরে ফেলেন। এসময় হাসপাতালের মতো সংবেদনশীল জায়গায় এমন নোংরা পরিবেশে বেকারি চলায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। হাসপাতালের নিচতলা ঘুরে দেখার পর সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘হাসপাতালের মূল ভবনের নিচের ফ্লোরে একটি বেকারি পাওয়া গেছে, যা দুটি বিশালাকার ইলেকট্রিক ওভেন দিয়ে চালানো হচ্ছিল। সেখানে কোনো দক্ষ মেকানিক্যাল বা সেফটি ইঞ্জিনিয়ার ছিল না। এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং কোনোভাবেই কাম্য নয়। পুরো বেকারিতে প্রচুর ময়লা-আবর্জনা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ লক্ষ্য করা গেছে। আমরা পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছি এবং শক্ত আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’ স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও জানান, এই কারখানায় প্রতিদিন হাজার হাজার মেডিকেল শিক্ষার্থীর জন্য খাবার তৈরি হতো। সেখান থেকে ক্ষতিকর কোনো গ্যাস বা ধোঁয়া নির্গত হয়ে শিশুদের আইসিইউ বা ওয়ার্ডে ছড়িয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘হাসপাতালের দুজন কর্তব্যরত চিকিৎসকের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তারাও দুর্ঘটনা ও পরিবেশ নিয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিয়েছেন। গত ২৭ মে বুধবার ভোরে এই আদ-দ্বীন হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ছয়টি নবজাতকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, হাসপাতালের বিশেষায়িত শিশু ওয়ার্ডের সেন্ট্রাল এসি বা কুলিং সিস্টেমে হঠাৎ যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয় এবং সেখান থেকে বিষাক্ত গ্যাস ছড়াতে শুরু করে। এর পরপরই নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকা শিশুদের অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে এবং একপর্যায়ে ছয়টি শিশু প্রাণ হারায়। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় তিন সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে। তবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন, যে ছয় নবজাতক মারা গেছে, তাদের মায়েদের সাথে কথা না বলে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া সম্ভব নয়। মায়েরা বর্তমানে দেশের বিভিন্ন এলাকায় আছেন। আমাদের টিম তাদের সাথে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলে বক্তব্য রেকর্ড করবে। এরপরই সব তথ্য সমন্বয় করে চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।

মগবাজারে অবস্থিত আদ-দ্বীন হাসপাতালে বেকারির সন্ধান

মগবাজারে অবস্থিত আদ-দ্বীন হাসপাতালে বেকারির সন্ধান

আপডেট: ০৯:৩৩:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬

সূর্যোদয় ডেস্ক : রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিচতলায় সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূতভাবে পরিচালিত একটি বাণিজ্যিক বেকারির সন্ধান পাওয়া গেছে। ছয় নবজাতকের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে আজ ৩০ মে শনিবার হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন নিজেই এই অনিয়ম হাতেনাতে ধরে ফেলেন। এসময় হাসপাতালের মতো সংবেদনশীল জায়গায় এমন নোংরা পরিবেশে বেকারি চলায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। হাসপাতালের নিচতলা ঘুরে দেখার পর সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘হাসপাতালের মূল ভবনের নিচের ফ্লোরে একটি বেকারি পাওয়া গেছে, যা দুটি বিশালাকার ইলেকট্রিক ওভেন দিয়ে চালানো হচ্ছিল। সেখানে কোনো দক্ষ মেকানিক্যাল বা সেফটি ইঞ্জিনিয়ার ছিল না। এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং কোনোভাবেই কাম্য নয়। পুরো বেকারিতে প্রচুর ময়লা-আবর্জনা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ লক্ষ্য করা গেছে। আমরা পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছি এবং শক্ত আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’ স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও জানান, এই কারখানায় প্রতিদিন হাজার হাজার মেডিকেল শিক্ষার্থীর জন্য খাবার তৈরি হতো। সেখান থেকে ক্ষতিকর কোনো গ্যাস বা ধোঁয়া নির্গত হয়ে শিশুদের আইসিইউ বা ওয়ার্ডে ছড়িয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘হাসপাতালের দুজন কর্তব্যরত চিকিৎসকের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তারাও দুর্ঘটনা ও পরিবেশ নিয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিয়েছেন। গত ২৭ মে বুধবার ভোরে এই আদ-দ্বীন হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ছয়টি নবজাতকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, হাসপাতালের বিশেষায়িত শিশু ওয়ার্ডের সেন্ট্রাল এসি বা কুলিং সিস্টেমে হঠাৎ যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয় এবং সেখান থেকে বিষাক্ত গ্যাস ছড়াতে শুরু করে। এর পরপরই নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকা শিশুদের অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে এবং একপর্যায়ে ছয়টি শিশু প্রাণ হারায়। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় তিন সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে। তবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন, যে ছয় নবজাতক মারা গেছে, তাদের মায়েদের সাথে কথা না বলে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া সম্ভব নয়। মায়েরা বর্তমানে দেশের বিভিন্ন এলাকায় আছেন। আমাদের টিম তাদের সাথে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলে বক্তব্য রেকর্ড করবে। এরপরই সব তথ্য সমন্বয় করে চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।