১২:৪৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আধুনগর ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ৭ সদস্যের অনাস্থা, দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগে শোকজ

  • আপডেট: ১২:৪৬:৪০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬
  • 3

খলিল চৌধুরী, লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) থেকে : || : চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার ৯নং আধুনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নাজিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে মিটিং ও রেজুলেশন ছাড়াই সরকারি প্রকল্প বরাদ্দ, ইউপি সদস্যদের বেতন-ভাতা আটকে রাখা, অর্থ আত্মসাৎ এবং বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগে চেয়ারম্যানের প্রতি অনাস্থা জানিয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগে আবেদন করেছেন ইউনিয়ন পরিষদের সাতজন সদস্য। এরই পরিপ্রেক্ষিতে চেয়ারম্যানকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। সম্প্রতি আধুনগর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য সুজন কান্তি দাশের বাড়িতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ইউপি সদস্যরা এসব অভিযোগ তুলে ধরেন। তারা জানান, চলতি বছরের গত ২৪ মে সাতজন ইউপি সদস্য চেয়ারম্যানের প্রতি অনাস্থা জানিয়ে প্যানেল চেয়ারম্যান গঠনের আবেদন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠান। এর প্রেক্ষিতে লোহাগাড়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মং এছন স্বাক্ষরিত এক নোটিশে চেয়ারম্যান মো. নাজিম উদ্দিনকে ১০ কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। নোটিশে উল্লেখ করা হয়, কেন তাঁর বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, সে বিষয়ে সন্তোষজনক জবাব দিতে হবে। এদিকে সংবাদ সম্মেলনে ইউপি সদস্য আবুল হাসান ও ফরিদ আহমদ অভিযোগ করেন, চেয়ারম্যান পরিষদের কোনো সভা আহবান না করে কিংবা রেজুলেশন ছাড়াই নিজের ইচ্ছামতো সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বরাদ্দ দিয়ে আসছেন দীর্ঘদিন। পাশাপাশি পরিষদের বিভিন্ন খাতের অর্থ আত্মসাতেরও অভিযোগ করেন তারা। চেয়ারম্যানের প্রতি অনাস্থা জানানো ৭ ইউপি সদস্যের দাবী, চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন ইচ্ছাকৃতভাবে ইউপি সদস্যদের ১৭ মাসের বেতন-ভাতা বাবদ প্রায় ৭৪ হাজার ৮০০ টাকা আটকে রেখেছেন। এ বিষয়ে বারবার জানানো হলেও চেয়ারম্যান সাফ জানিয়ে দেন, বেতন-ভাতার কোনো টাকা দেওয়া হবে না। ইউপি সদস্যদের ভাষ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর চেয়ারম্যান আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। সরকারি প্রকল্পের বরাদ্দ, কোন ওয়ার্ডে কত টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে কিংবা কার মাধ্যমে কাজ বাস্তবায়ন করা হয়েছে—এসব বিষয়ে চেয়ারম্যান কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেননি। ৯নং আধুনগর ইউনিয়ন পরিষদের অন্তর্গত প্রতিটি ওয়ার্ডে সরেজমিন তদন্ত করে দেখা গেছে, বরাদ্দকৃত অর্থের সঙ্গে বাস্তবায়িত কাজের কোনো সামঞ্জস্য বা মিল নেই। অর্থের বিনিময়ে চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন বিভিন্ন শালিশে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা আদায় করে থাকেন। ইউপি সদস্য সুজন কান্তি দাশের বাড়িতে যে সংবাদ সম্মেলনটি হয়েছিলো সেখানে সবচেয়ে বেশী আলোচিত ছিলো, ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় মাটি ও বালুবাহী যানবাহন থেকে অবৈধভাবে অর্থ আদায়ের বিষয়টি। জানাগেছে, সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে মাটি ও বালু উত্তোলনের সুযোগ করে দেয় চেয়ারম্যান। ইউপি সদস্যদের অভিযোগ, ইউনিয়ন পরিষদের পাঁচজন পুরুষ সদস্য ও একজন নারী সদস্যসহ মোট ছয়জনকে জুলাই আন্দোলন-সংক্রান্ত মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করা হয়েছে। জানাগেছে, চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন নিজেও জুলাই আন্দোলন-সংক্রান্ত লোহাগাড়া থানার জি.আর. মামলা নং ১৭(৮)/২৪, মামলা নং-১৮১/২৪-এর এজাহারভুক্ত ১০৬ নম্বর আসামি। কিস্তু ধরাছোয়ার বাহিরে।এছাড়া গ্রাম আদালতে শালিশের নামে অর্থ গ্রহণ, চুক্তির মাধ্যমে রায় প্রদান এবং জন্মসনদ, ওয়ারিশ সনদসহ বিভিন্ন সনদে অর্থের বিনিময়ে বয়স পরিবর্তনের অভিযোগও করেন ইউপি সদস্যরা। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা চলছে। তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চেয়ারম্যান মো. নাজিম উদ্দিন দৈনিক সূর্যোদয়কে বলেন, “ইউপি সদস্যদের আনা সব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তারা আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। আমি কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত নই।” এ বিষয়ে লোহাগাড়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মং এছন বলেন, “ইউপি সদস্যদের অনাস্থা আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ২৪ জুন আধুনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তাকে ১০ কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।”

আধুনগর ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ৭ সদস্যের অনাস্থা, দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগে শোকজ

আধুনগর ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ৭ সদস্যের অনাস্থা, দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগে শোকজ

আপডেট: ১২:৪৬:৪০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬

খলিল চৌধুরী, লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) থেকে : || : চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার ৯নং আধুনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নাজিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে মিটিং ও রেজুলেশন ছাড়াই সরকারি প্রকল্প বরাদ্দ, ইউপি সদস্যদের বেতন-ভাতা আটকে রাখা, অর্থ আত্মসাৎ এবং বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগে চেয়ারম্যানের প্রতি অনাস্থা জানিয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগে আবেদন করেছেন ইউনিয়ন পরিষদের সাতজন সদস্য। এরই পরিপ্রেক্ষিতে চেয়ারম্যানকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। সম্প্রতি আধুনগর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য সুজন কান্তি দাশের বাড়িতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ইউপি সদস্যরা এসব অভিযোগ তুলে ধরেন। তারা জানান, চলতি বছরের গত ২৪ মে সাতজন ইউপি সদস্য চেয়ারম্যানের প্রতি অনাস্থা জানিয়ে প্যানেল চেয়ারম্যান গঠনের আবেদন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠান। এর প্রেক্ষিতে লোহাগাড়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মং এছন স্বাক্ষরিত এক নোটিশে চেয়ারম্যান মো. নাজিম উদ্দিনকে ১০ কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। নোটিশে উল্লেখ করা হয়, কেন তাঁর বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, সে বিষয়ে সন্তোষজনক জবাব দিতে হবে। এদিকে সংবাদ সম্মেলনে ইউপি সদস্য আবুল হাসান ও ফরিদ আহমদ অভিযোগ করেন, চেয়ারম্যান পরিষদের কোনো সভা আহবান না করে কিংবা রেজুলেশন ছাড়াই নিজের ইচ্ছামতো সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বরাদ্দ দিয়ে আসছেন দীর্ঘদিন। পাশাপাশি পরিষদের বিভিন্ন খাতের অর্থ আত্মসাতেরও অভিযোগ করেন তারা। চেয়ারম্যানের প্রতি অনাস্থা জানানো ৭ ইউপি সদস্যের দাবী, চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন ইচ্ছাকৃতভাবে ইউপি সদস্যদের ১৭ মাসের বেতন-ভাতা বাবদ প্রায় ৭৪ হাজার ৮০০ টাকা আটকে রেখেছেন। এ বিষয়ে বারবার জানানো হলেও চেয়ারম্যান সাফ জানিয়ে দেন, বেতন-ভাতার কোনো টাকা দেওয়া হবে না। ইউপি সদস্যদের ভাষ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর চেয়ারম্যান আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। সরকারি প্রকল্পের বরাদ্দ, কোন ওয়ার্ডে কত টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে কিংবা কার মাধ্যমে কাজ বাস্তবায়ন করা হয়েছে—এসব বিষয়ে চেয়ারম্যান কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেননি। ৯নং আধুনগর ইউনিয়ন পরিষদের অন্তর্গত প্রতিটি ওয়ার্ডে সরেজমিন তদন্ত করে দেখা গেছে, বরাদ্দকৃত অর্থের সঙ্গে বাস্তবায়িত কাজের কোনো সামঞ্জস্য বা মিল নেই। অর্থের বিনিময়ে চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন বিভিন্ন শালিশে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা আদায় করে থাকেন। ইউপি সদস্য সুজন কান্তি দাশের বাড়িতে যে সংবাদ সম্মেলনটি হয়েছিলো সেখানে সবচেয়ে বেশী আলোচিত ছিলো, ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় মাটি ও বালুবাহী যানবাহন থেকে অবৈধভাবে অর্থ আদায়ের বিষয়টি। জানাগেছে, সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে মাটি ও বালু উত্তোলনের সুযোগ করে দেয় চেয়ারম্যান। ইউপি সদস্যদের অভিযোগ, ইউনিয়ন পরিষদের পাঁচজন পুরুষ সদস্য ও একজন নারী সদস্যসহ মোট ছয়জনকে জুলাই আন্দোলন-সংক্রান্ত মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করা হয়েছে। জানাগেছে, চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন নিজেও জুলাই আন্দোলন-সংক্রান্ত লোহাগাড়া থানার জি.আর. মামলা নং ১৭(৮)/২৪, মামলা নং-১৮১/২৪-এর এজাহারভুক্ত ১০৬ নম্বর আসামি। কিস্তু ধরাছোয়ার বাহিরে।এছাড়া গ্রাম আদালতে শালিশের নামে অর্থ গ্রহণ, চুক্তির মাধ্যমে রায় প্রদান এবং জন্মসনদ, ওয়ারিশ সনদসহ বিভিন্ন সনদে অর্থের বিনিময়ে বয়স পরিবর্তনের অভিযোগও করেন ইউপি সদস্যরা। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা চলছে। তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চেয়ারম্যান মো. নাজিম উদ্দিন দৈনিক সূর্যোদয়কে বলেন, “ইউপি সদস্যদের আনা সব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তারা আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। আমি কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত নই।” এ বিষয়ে লোহাগাড়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মং এছন বলেন, “ইউপি সদস্যদের অনাস্থা আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ২৪ জুন আধুনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তাকে ১০ কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।”