১০:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কে হচ্ছেন নতুন রাষ্ট্রপতি? তৃণমূল থেকে হাইকমান্ডের তালিকায় মির্জা ফখরুল

  • আপডেট: ১০:২২:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬
  • 3

শুভ্র নাথ চৌধুরী : নানান গুঞ্জন ও আলোচনা-সমালোচনার পর অবশেষে দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন গতকাল শুক্রবার ২৪ জুলাই পদত্যাগ করেছেন। নতুন রাষ্ট্রপতি চেয়ারে কে বসবেন সেটিই এখন ‘টক অব দ্য কান্ট্রি’। বিএনপির তৃণমূল থেকে শুরু করে হাইকমান্ড পর্যন্ত কয়েকটি নাম বেশ জোরেশোরে উচ্চারিত হচ্ছে। নতুন রাষ্ট্রপতি হতে পারেন এমন ধারণা থেকে বিএনপির কয়েকজন নেতার নাম আলোচনায় এসেছে। তাদের মধ্যে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. মঈন খান, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং নজরুল ইসলাম খান। সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত নামগুলোর মধ্যে রয়েছেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এদের সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত নামের মধ্যে রয়েছেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অনেকেই মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতির মতো সম্মানজনক পদে দেখতে চান। এর বাইরে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম এবং বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরীর নামও সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকায় আলোচিত হচ্ছে। অন্যদিকে, এই পদে একজন সচিবের নামও আলোচনায় এসেছে। তবে বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা বলেছেন, রাজনীতিক বা বিএনপির বাইরে কাউকে রাষ্ট্রপতি করা হবে, এমনটা তারা চান না। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা, দলীয় হিসাব-নিকাশ, ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং দেশীয় রাজনীতির দীর্ঘমেয়াদি কৌশল—সব মিলিয়ে ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়াটি কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং আগামীর বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার এক অন্যতম নির্দেশক। বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের সাংবিধানিক প্রধান। তবে প্রধানমন্ত্রী, প্রধান বিচারপতি নিয়োগসহ কয়েকটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্র ছাড়া তাকে মূলত প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ীই কাজ করতে হয়। তারপরও, রাষ্ট্রের যেকোনো ক্রান্তিলগ্নে বা রাজনৈতিক সংকটে রাষ্ট্রপতির ভূমিকা হয়ে ওঠে অপরিসীম। এ কারণেই ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়টি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। রাজনীতি সচেতন মহল বলছে, লন্ডনে দীর্ঘদিন থেকে দেশে আসা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, দূরদর্শিতা এবং দলের ওপর তার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের প্রতিফলিত রূপই দেখা যাবে ২৩তম রাষ্ট্রপতির মনোনয়নে। সেটিই এখন দেখার বিষয়। সব মিলিয়ে, বঙ্গভবনের চাবি এখন বিএনপির চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতে। এদিকে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী একটি স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়া চালু হয়ে যায়। সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। সেই বিধানের আলোকেই বর্তমানে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির গুরুদায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছেন। সংবিধান আরও বলছে, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। ইতোমধ্যে সেই ক্ষণগণনা শুরু হয়ে গেছে। নির্বাচন কমিশন এই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবে এবং পুরো প্রক্রিয়া পরিচালনা করবে।বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন পরোক্ষ ভোটে। অর্থাৎ সাধারণ জনগণ সরাসরি ভোট দিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করেন না। জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সংসদ সদস্যরাই এখানে ভোটার। এই জায়গাতেই লুকিয়ে আছে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সবচেয়ে বড় সমীকরণ। বর্তমান সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন রয়েছে। ৩৫০ সদস্যের সংসদে (সংরক্ষিত নারী আসনসহ) দলটির সংসদ সদস্য রয়েছেন ২৪৭ জন। এই নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে বিএনপি যাকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেবে তার নির্বাচিত হওয়াটা কেবলই সময়ের ব্যাপার। নিয়ম অনুযায়ী সংসদীয় দলগুলো তাদের প্রার্থী ঘোষণা করবে। বিএনপি যেমন প্রার্থী দেবে, জামায়াতে ইসলামীও চাইলে প্রার্থী দিতে পারে। তবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা যার পক্ষে তিনিই হাসবেন শেষ হাসি।

সর্বাধিক পঠিত

কে হচ্ছেন নতুন রাষ্ট্রপতি? তৃণমূল থেকে হাইকমান্ডের তালিকায় মির্জা ফখরুল

কে হচ্ছেন নতুন রাষ্ট্রপতি? তৃণমূল থেকে হাইকমান্ডের তালিকায় মির্জা ফখরুল

আপডেট: ১০:২২:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

শুভ্র নাথ চৌধুরী : নানান গুঞ্জন ও আলোচনা-সমালোচনার পর অবশেষে দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন গতকাল শুক্রবার ২৪ জুলাই পদত্যাগ করেছেন। নতুন রাষ্ট্রপতি চেয়ারে কে বসবেন সেটিই এখন ‘টক অব দ্য কান্ট্রি’। বিএনপির তৃণমূল থেকে শুরু করে হাইকমান্ড পর্যন্ত কয়েকটি নাম বেশ জোরেশোরে উচ্চারিত হচ্ছে। নতুন রাষ্ট্রপতি হতে পারেন এমন ধারণা থেকে বিএনপির কয়েকজন নেতার নাম আলোচনায় এসেছে। তাদের মধ্যে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. মঈন খান, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং নজরুল ইসলাম খান। সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত নামগুলোর মধ্যে রয়েছেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এদের সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত নামের মধ্যে রয়েছেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অনেকেই মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতির মতো সম্মানজনক পদে দেখতে চান। এর বাইরে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম এবং বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরীর নামও সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকায় আলোচিত হচ্ছে। অন্যদিকে, এই পদে একজন সচিবের নামও আলোচনায় এসেছে। তবে বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা বলেছেন, রাজনীতিক বা বিএনপির বাইরে কাউকে রাষ্ট্রপতি করা হবে, এমনটা তারা চান না। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা, দলীয় হিসাব-নিকাশ, ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং দেশীয় রাজনীতির দীর্ঘমেয়াদি কৌশল—সব মিলিয়ে ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়াটি কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং আগামীর বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার এক অন্যতম নির্দেশক। বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের সাংবিধানিক প্রধান। তবে প্রধানমন্ত্রী, প্রধান বিচারপতি নিয়োগসহ কয়েকটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্র ছাড়া তাকে মূলত প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ীই কাজ করতে হয়। তারপরও, রাষ্ট্রের যেকোনো ক্রান্তিলগ্নে বা রাজনৈতিক সংকটে রাষ্ট্রপতির ভূমিকা হয়ে ওঠে অপরিসীম। এ কারণেই ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়টি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। রাজনীতি সচেতন মহল বলছে, লন্ডনে দীর্ঘদিন থেকে দেশে আসা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, দূরদর্শিতা এবং দলের ওপর তার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের প্রতিফলিত রূপই দেখা যাবে ২৩তম রাষ্ট্রপতির মনোনয়নে। সেটিই এখন দেখার বিষয়। সব মিলিয়ে, বঙ্গভবনের চাবি এখন বিএনপির চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতে। এদিকে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী একটি স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়া চালু হয়ে যায়। সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। সেই বিধানের আলোকেই বর্তমানে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির গুরুদায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছেন। সংবিধান আরও বলছে, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। ইতোমধ্যে সেই ক্ষণগণনা শুরু হয়ে গেছে। নির্বাচন কমিশন এই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবে এবং পুরো প্রক্রিয়া পরিচালনা করবে।বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন পরোক্ষ ভোটে। অর্থাৎ সাধারণ জনগণ সরাসরি ভোট দিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করেন না। জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সংসদ সদস্যরাই এখানে ভোটার। এই জায়গাতেই লুকিয়ে আছে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সবচেয়ে বড় সমীকরণ। বর্তমান সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন রয়েছে। ৩৫০ সদস্যের সংসদে (সংরক্ষিত নারী আসনসহ) দলটির সংসদ সদস্য রয়েছেন ২৪৭ জন। এই নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে বিএনপি যাকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেবে তার নির্বাচিত হওয়াটা কেবলই সময়ের ব্যাপার। নিয়ম অনুযায়ী সংসদীয় দলগুলো তাদের প্রার্থী ঘোষণা করবে। বিএনপি যেমন প্রার্থী দেবে, জামায়াতে ইসলামীও চাইলে প্রার্থী দিতে পারে। তবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা যার পক্ষে তিনিই হাসবেন শেষ হাসি।