০৭:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিএনপির সঙ্গে সমঝোতায় রাষ্ট্রপতি পদ থেকে সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ

  • আপডেট: ০৫:৩৪:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬
  • 5

সূর্যোদয় ডেস্ক : || : রাষ্ট্রপতি পদ থেকে সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ বা বিএনপির সঙ্গে সমেঝোতার বিষয়ে বিএনপি নেতারা কৌশল নিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি যেহেতু ‘গুরুতর শারীরিক অসুস্থার’ কারণে পদত্যাগ করেছেন তাই তারা এই বাইরে কোনো মন্তব‍্য করছেন না। সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগে কোনো সমঝোতা হয়েছে কি না জানতে চাইলে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রসঙ্গ এড়িয়ে বলেন, আগামী ৯০ দিনের মধ্যে সংসদে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করা হবে, যা দলের নীতিনির্ধারণী বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। জানাগেছে, দেশে নিরাপদে চলাচল করতে পারা এবং বাধাহীনভাবে বিদেশ যাওয়ার নিশ্চয়তা পেয়েই পদত্যাগ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তবে সাহাবুদ্দিনের এই একটি অনুরোধ মেনে নিলেও রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে তার বিরুদ্ধে থাকা কোনো দুর্নীতির অভিযোগ মামলা হবে না তার নিশ্চয়তা বিএনপি সরকার দেয়নি। রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন কালে সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদ যে সুরক্ষা দিয়েছে সেটি তিনি পাবেন নিশ্চিতভাবেই।অবশ্য সদ‍্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের দ্রুত দেশের বাইরে চলে যাওয়াকে নিরাপদ মনে করছে সরকার। আওয়ামী লীগের আমলের নির্বাচিত সাবেক এই রাষ্ট্রপতিক দেশে রাজনৈতিকভাবে নানামুখী সমস‍্যায় পড়তে পারেন বলে বিএনপি নেতারা মনে করেন। বিএনপির একাধিক শীর্ষ নেতার সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে তারা প্রকাশ্যে কিছু বলতে চাচ্ছেন না। পদত্যাগের পর সাহাবুদ্দিনও দ্রুত বিদেশ যেতে চাইছেন। পদত্যাগের পর শুক্রবার তিনি গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘কিছুটা সুস্থ হলে ১০/১২ দিন পর বিদেশ যাব। রাষ্ট্রপতি পদ থেকে সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ বা বিএনপির সঙ্গে সমেঝোতার বিষয়টি আগেই জানতেন বলে জামায়াতের শীর্ষ নেতারা বলে যাচ্ছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে দলটির শীর্ষ এক নেতা বলছেন, ‘তাদের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতিকে অভিসংশন করার চাপ ছিল। এ ছাড়া নানান দিক বিবেচনা করে রাষ্ট্রপতিকে বিএনপি আর রাখতে চায়নি। শেষ পর্যন্ত সম্মানজনক বিদায় দিয়ে বিএনপি চেয়েছে সাহাবুদ্দিন বিদেশে চলে যান। এদিকে সাহাবুদ্দিন পদত্যাগের পরও ভিভিআইপি প্রটোকল পেলেও যেকানো সময় তার বাসায় এনসিপিসহ যেকোনো সংগঠন ঝামেলা করতে পারে এমন আশঙ্কা থেকেই বিএনপি তার বিদেশ যাওয়াটাকে নিরাপদ মনে করছে। ইতিমধ্যেই বিদায়ী রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন রাজধানীর গুলশান-১ নম্বরের ১২৩ নম্বর সড়কের ৪১ নম্বর হোল্ডিংয়ে গ্রিন ভিলা ভবনের ৫০২ নম্বর ফ্ল্যাট উঠেছেন। এদিকে গত ২৪ জুলাই শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে থাকা স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, অন্য কোন কারণে রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করেছেন কি না? জবাবে তিনি বলেছিলেন, ‘রাষ্ট্রপতি একজন মানুষ। তিনি অসুস্থার কারণে পদত্যাগ করেছেন। মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনও পদত্যাগের পর থেকেই বলছেন, তিনি শারীরিক অসুস্থতার কারণেই পদত্যাগ করেছেন। অবশ্য বিএনপি ক্ষমতার আসার পর থেকেই চেয়েছিল দলটি রাষ্ট্রপতিকে সম্মানজনক বিদায় জানাবে।

সর্বাধিক পঠিত

ফটিকছড়িতে ৪৮ ঘণ্টার হরতালের দ্বিতীয় দিনেও যান চলাচল বন্ধ, জনজীবনে স্থবিরতা

বিএনপির সঙ্গে সমঝোতায় রাষ্ট্রপতি পদ থেকে সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ

আপডেট: ০৫:৩৪:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

সূর্যোদয় ডেস্ক : || : রাষ্ট্রপতি পদ থেকে সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ বা বিএনপির সঙ্গে সমেঝোতার বিষয়ে বিএনপি নেতারা কৌশল নিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি যেহেতু ‘গুরুতর শারীরিক অসুস্থার’ কারণে পদত্যাগ করেছেন তাই তারা এই বাইরে কোনো মন্তব‍্য করছেন না। সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগে কোনো সমঝোতা হয়েছে কি না জানতে চাইলে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রসঙ্গ এড়িয়ে বলেন, আগামী ৯০ দিনের মধ্যে সংসদে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করা হবে, যা দলের নীতিনির্ধারণী বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। জানাগেছে, দেশে নিরাপদে চলাচল করতে পারা এবং বাধাহীনভাবে বিদেশ যাওয়ার নিশ্চয়তা পেয়েই পদত্যাগ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তবে সাহাবুদ্দিনের এই একটি অনুরোধ মেনে নিলেও রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে তার বিরুদ্ধে থাকা কোনো দুর্নীতির অভিযোগ মামলা হবে না তার নিশ্চয়তা বিএনপি সরকার দেয়নি। রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন কালে সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদ যে সুরক্ষা দিয়েছে সেটি তিনি পাবেন নিশ্চিতভাবেই।অবশ্য সদ‍্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের দ্রুত দেশের বাইরে চলে যাওয়াকে নিরাপদ মনে করছে সরকার। আওয়ামী লীগের আমলের নির্বাচিত সাবেক এই রাষ্ট্রপতিক দেশে রাজনৈতিকভাবে নানামুখী সমস‍্যায় পড়তে পারেন বলে বিএনপি নেতারা মনে করেন। বিএনপির একাধিক শীর্ষ নেতার সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে তারা প্রকাশ্যে কিছু বলতে চাচ্ছেন না। পদত্যাগের পর সাহাবুদ্দিনও দ্রুত বিদেশ যেতে চাইছেন। পদত্যাগের পর শুক্রবার তিনি গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘কিছুটা সুস্থ হলে ১০/১২ দিন পর বিদেশ যাব। রাষ্ট্রপতি পদ থেকে সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ বা বিএনপির সঙ্গে সমেঝোতার বিষয়টি আগেই জানতেন বলে জামায়াতের শীর্ষ নেতারা বলে যাচ্ছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে দলটির শীর্ষ এক নেতা বলছেন, ‘তাদের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতিকে অভিসংশন করার চাপ ছিল। এ ছাড়া নানান দিক বিবেচনা করে রাষ্ট্রপতিকে বিএনপি আর রাখতে চায়নি। শেষ পর্যন্ত সম্মানজনক বিদায় দিয়ে বিএনপি চেয়েছে সাহাবুদ্দিন বিদেশে চলে যান। এদিকে সাহাবুদ্দিন পদত্যাগের পরও ভিভিআইপি প্রটোকল পেলেও যেকানো সময় তার বাসায় এনসিপিসহ যেকোনো সংগঠন ঝামেলা করতে পারে এমন আশঙ্কা থেকেই বিএনপি তার বিদেশ যাওয়াটাকে নিরাপদ মনে করছে। ইতিমধ্যেই বিদায়ী রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন রাজধানীর গুলশান-১ নম্বরের ১২৩ নম্বর সড়কের ৪১ নম্বর হোল্ডিংয়ে গ্রিন ভিলা ভবনের ৫০২ নম্বর ফ্ল্যাট উঠেছেন। এদিকে গত ২৪ জুলাই শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে থাকা স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, অন্য কোন কারণে রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করেছেন কি না? জবাবে তিনি বলেছিলেন, ‘রাষ্ট্রপতি একজন মানুষ। তিনি অসুস্থার কারণে পদত্যাগ করেছেন। মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনও পদত্যাগের পর থেকেই বলছেন, তিনি শারীরিক অসুস্থতার কারণেই পদত্যাগ করেছেন। অবশ্য বিএনপি ক্ষমতার আসার পর থেকেই চেয়েছিল দলটি রাষ্ট্রপতিকে সম্মানজনক বিদায় জানাবে।