আন্তর্জাতিক ডেস্ক | সূর্যোদয় : ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা জানিয়েছে, তারা সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অবস্থিত রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর একটি স্থাপনায় ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ইরানপন্থি এই গোষ্ঠী ও সৌদি আরবের মধ্যে সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করায় এই হামলা চালানো হলো। গতকাল শনিবার ৩ অক্টোবর এক্স-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি জানান, তাদের বাহিনী রিয়াদে আরামকোর লক্ষ্যবস্তুতে ‘ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে একটি সামরিক অভিযান’ পরিচালনা করেছে। তিনি দাবি করেন, এই হামলার ফলে ওই স্থাপনায় আগুন ধরে যায়। তবে এ বিষয়ে সৌদি আরব কর্তৃপক্ষ বা আরামকো তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। শনিবার রিয়াদে আরামকোর একটি স্থাপনার কাছে আকাশে ধোঁয়া ও আগুনের বড় কুণ্ডলী উড়তে দেখা গেছে। অন্যদিকে, ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থনকারী সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, তারাও পাল্টা কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। রবিবার (৪ অক্টোবর) ভোরে তোর আল-বাহা ও তাইজ ফ্রন্টে হুথিদের অবস্থানে যুদ্ধবিমান, ড্রোন, আর্টিলারি, ক্ষেপণাস্ত্র ও স্নাইপার ব্যবহার করে মোট ৯৭টি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক অভিযান চালানো হয়েছে। ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল মাজেদ আবদুল্লাহ আল-নাজিবি দাবি করেন, এসব জোড়ালো হামলায় অন্তত ২৬০ জন হুথি যোদ্ধা হতাহত হয়েছেন এবং তাদের ৪৪টি সামরিক যান ধ্বংস বা অকোজো করা হয়েছে। গত জুলাই মাসে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে ইয়েমেন সীমান্তে উত্তেজনা ও লড়াই ভয়াবহ আকারে বেড়েছে। এর আগে গত মাসের শেষের দিকে লোহিত সাগরের বন্দরনগরী ইয়ানবুতে আরামকোর স্থাপনা ও চলতি সপ্তাহের শুরুতে পবিত্র মদিনা শহরের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রেও হুথিরা হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে সৌদি আরবের নেতৃত্বধীন জোট। প্রসঙ্গত, ২০১৪ সাল থেকে ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ চলছে। ওই বছর হুথিরা রাজধানী সানা ও বেশ কয়েকটি প্রদেশ দখল করার পর থেকেই মূলত ইয়েমেন গভীর সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। এরপর আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার রাজধানী ছেড়ে এডেনে সরে যেতে বাধ্য হয়। ২০১৫ সালে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সমর্থনে দেশটিতে সামরিক হস্তক্ষেপ করে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোট।
০৬:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ সংবাদ













