১২:১৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফটিকছড়ির হেঁয়াকোতে কোটি টাকা প্রতারণায় হত্যা মামলার আসামী মজনু

  • আপডেট: ১২:১৫:০৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
  • 0

চট্টগ্রাম ব্যুরো | সূর্যোদয় : চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার দাঁতমারা ইউনিয়নে অংশীদারত্বের ব্যবসা ও জমি কেনাবেচায় অধিক মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে অর্ধশতাধিক মানুষের কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মহিমুজ্জামান মজনু (৩৭) নামে এক বীমা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। টাকা ফেরত না দিয়ে তিনি চট্টগ্রাম শহরে অবস্থান করছেন বলে দাবি ভুক্তভোগীদের। তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন তারা। এ ঘটনায় টাকা ফেরত না পেয়ে উত্তর ফটিকছড়ির ভূজপুর থানায় ইতোমধ্যে তিনজন ভুক্তভোগী অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে জানা গেছে।অভিযুক্ত মহিমুজ্জামান মজনু দাঁতমারা ইউনিয়নের হেঁয়াকো বাজারসংলগ্ন বাংলাপাড়ার বাসিন্দা। তিনি সোনালী ইনস্যুরেন্সের মাঠ কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিনি মৃত সালাম মাস্টারের তৃতীয় স্ত্রীর সন্তান। জানাগেছে, বীমা প্রতিষ্ঠানে চাকরির সুবাদে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলতেন মজনু। শুরুতে পরিচিত ব্যক্তিদের কাছ থেকে এক থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত ধার নিয়ে নির্ধারিত সময়ের আগেই ফেরত দিতেন। এতে তার প্রতি মানুষের আস্থা তৈরি হতো। পরবর্তী সময়ে সেই বিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে অংশীদারত্বের ব্যবসা কিংবা কম দামে জমি কিনে বেশি দামে বিক্রির কথা বলে বড় অঙ্কের টাকা সংগ্রহ করতেন তিনি। অভিযোগ রয়েছে, এসব লেনদেনের বিপরীতে জামানত হিসেবে স্ট্যাম্পে লিখিত কাগজপত্রও দিতেন মজনু। ফলে অনেকেই তার প্রস্তাবে আশ্বস্ত হয়ে নিজেদের সঞ্চয়, ব্যবসার পুঁজি কিংবা ধার করা টাকা বিনিয়োগ করেন। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হলেও বিনিয়োগের টাকা ও প্রতিশ্রুত মুনাফা ফেরত না পাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন তারা। অভিযোগকারীরা জানান, মজনুর কথাবার্তা ও বিলাসী জীবনযাপনে আকৃষ্ট হয়ে অনেকে তাকে বিশ্বাস করেছিলেন। শুধু সচ্ছল ব্যক্তি নন, তার বিরুদ্ধে নিজ কর্মস্থলের সহকর্মী এবং হেঁয়াকো বাজারের মাছ, মাংস ও মুরগি বিক্রেতাদের কাছ থেকেও টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এদিকে টাকা ফেরত না পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তাদের অভিযোগ, মজনু বর্তমানে তাদের ফোনকল গ্রহণ করছেন না। ফলে পাওনা টাকা উদ্ধার নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। এ বিষয়ে মহিমুজ্জামান মজনুর বক্তব্য জানার জন্য ফোন দেয়া হলে তিনি জানান, তিনি টাকা নিয়েছেন সময়মত টাকা ফেরত দিবেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী জানান, এনজিওতে জমানো ১০ লাখ টাকা তিনি মজনুর হাতে তুলে দিয়েছিলেন অধিক মুনাফার আশায়। এখন সেই টাকা হারিয়ে তিনি নিঃস্ব। এ বিষয়ে ভূজপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে বলেন, এবিষয়ে থানায় কয়েকটি অভিযোগ জমা পড়েছে বিষয়টি নিয়ে তিনি খোজখবর নিচ্ছেন। এছাড়াও বীমাকর্মী মহিমুজ্জামান মজনুর বিরুদ্ধে স্থানীয় এক ছাত্রদল নেতাকে হত্যা ও চাঁদার জন্য উক্ত ছাত্রদল নেতার বাড়ীতে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়ার ঘটনায় ৪টি মামলা রয়েছে।