০১:৫৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দিল্লিতে বন্ধ মেট্রো-ট্রেন-ইন্টারনেট, চলছে লকডাউন

  • আপডেট: ০১:৫১:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
  • 14

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | সূর্যোদয় : প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে তরুণদের বিক্ষোভ ঠেকাতে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা জারি করা হয়েছে। বন্ধ রাখা হয়েছে মেট্রোর একাধিক স্টেশন, বাতিল করা হয়েছে শত শত ট্রেন এবং মধ্য দিল্লির বিস্তীর্ণ এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা স্থগিত করা হয়েছে। আন্দোলনের অন্যতম নেতা ধ্রুব রেঠিকেসহ এই বিক্ষোভ ঘিরে প্রায় ২০০ জনকে আটক করেছে পুলিশ। ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে শনিবার ১০ অক্টোবর এ বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়। ককরোচ জনতা পার্টি’সহ বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচিতে হাজারো মানুষকে সমবেত করার পরিকল্পনা রয়েছে। ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম বাদ দিয়ে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টিকে (বিজেপি) সুবিধা দেওয়ার অভিযোগে এ আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়। রয়টার্সের প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, নয়াদিল্লির প্রধান বাণিজ্যিক এলাকায় পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ধাওয়া করে এবং তাদের কয়েকজনকে আটক করে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, ওই এলাকা থেকে প্রায় ২০০ বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে আন্দোলনের সমর্থক ও ইউটিউব ব্যক্তিত্ব ধ্রুব রাঠিও রয়েছেন বলে পুলিশের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন। বিক্ষোভ মোকাবিলায় দিল্লি মেট্রোর ৪৫টি স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছে। নয়াদিল্লি ও হজরত নিজামুদ্দিন স্টেশনে আসা-যাওয়া করার কথা ছিল, এমন অন্তত ২৪৫টি ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও প্রবেশপথে একাধিক স্তরের ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে বাস ও অন্যান্য যানবাহনে তল্লাশি চালানোর পাশাপাশি বিক্ষোভকারীদের খোঁজে বাসেও তল্লাশি চালিয়েছে পুলিশ। গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে কংক্রিটের ব্লক ও ব্যারিকেড দিয়ে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপের সরঞ্জামসহ দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত বিশেষ যানবাহনও মোতায়েন করা হয়েছে। বিক্ষোভের আয়োজক ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপ দিল্লির উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে সরকারের কঠোর পদক্ষেপের সমালোচনা করেন। মুম্বাইয়ে সংবাদ সংস্থা এএনআইকে তিনি বলেন, কেন আপনাদের সব রেলওয়ে ও মেট্রো পরিষেবা বন্ধ করতে হলো, ইন্টারনেট ও রাস্তাঘাট বন্ধ করতে হলো? এসবই কেবল ভয়ের বহিঃপ্রকাশ।বিক্ষোভকারীরা জানিয়েছেন, শনিবার সকাল ১০টায় নয়াদিল্লির কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত যন্তর মন্তরে তাদের সমবেত হওয়ার পরিকল্পনা ছিল। কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত এই স্থানেই তারা প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে প্রতিবাদ জানাতে চেয়েছিলেন। তবে শুক্রবার দিল্লি পুলিশ জানায়, বিক্ষোভের অনুমতি দেওয়া হয়নি। আইন অমান্য করলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করে পুলিশ। এক বিবৃতিতে পুলিশ জানায়, জনসাধারণের চলাচল নিয়ন্ত্রণ, ভিড় এড়ানো, জনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিক্ষোভকারী ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাময়িক ও সতর্কতামূলক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। অন্যদিকে, আন্দোলনকারীরা পুলিশের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। তাদের দাবি, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করা তাদের মৌলিক অধিকার। ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্ক থেকেই এই আন্দোলনের সূত্রপাত। ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় প্রায় ১৩ কোটি ভোটারের নাম বাদ দেওয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরে প্রশ্ন ও মতবিরোধ তৈরি হয়েছিল। প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশনের কয়েকজন কর্মকর্তা এ বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে প্রশ্ন তুলেছিলেন। তবে কুমার এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি ভোটার তালিকা সংশোধনের মাধ্যমে নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ অস্বীকার করেছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ভোটার তালিকা যাচাই-বাছাইয়ের সময় প্রায় ১৩ কোটি নাম বাদ দেওয়ার জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৬ কোটি ৩০ লাখ ভোটার অন্যত্র চলে গেছেন, ৩ কোটি ভোটারের কোনো হদিস পাওয়া যায়নি এবং ২ কোটি ৮০ লাখ ভোটারকে মৃত হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। তবে কমিশনের বক্তব্য, এই সংখ্যা খসড়া সংশোধনের পর্যায়ে চিহ্নিত ভোটারদের হিসাব। যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়া এখনো সম্পন্ন হয়নি। ভুলবশত যাদের নাম বাদ পড়েছে, তারা পুনরায় নিজেদের নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ পাবেন। সূত্র : এনডিটিভি

সর্বাধিক পঠিত

আবারো রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ

দিল্লিতে বন্ধ মেট্রো-ট্রেন-ইন্টারনেট, চলছে লকডাউন

আপডেট: ০১:৫১:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | সূর্যোদয় : প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে তরুণদের বিক্ষোভ ঠেকাতে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা জারি করা হয়েছে। বন্ধ রাখা হয়েছে মেট্রোর একাধিক স্টেশন, বাতিল করা হয়েছে শত শত ট্রেন এবং মধ্য দিল্লির বিস্তীর্ণ এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা স্থগিত করা হয়েছে। আন্দোলনের অন্যতম নেতা ধ্রুব রেঠিকেসহ এই বিক্ষোভ ঘিরে প্রায় ২০০ জনকে আটক করেছে পুলিশ। ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে শনিবার ১০ অক্টোবর এ বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়। ককরোচ জনতা পার্টি’সহ বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচিতে হাজারো মানুষকে সমবেত করার পরিকল্পনা রয়েছে। ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম বাদ দিয়ে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টিকে (বিজেপি) সুবিধা দেওয়ার অভিযোগে এ আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়। রয়টার্সের প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, নয়াদিল্লির প্রধান বাণিজ্যিক এলাকায় পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ধাওয়া করে এবং তাদের কয়েকজনকে আটক করে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, ওই এলাকা থেকে প্রায় ২০০ বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে আন্দোলনের সমর্থক ও ইউটিউব ব্যক্তিত্ব ধ্রুব রাঠিও রয়েছেন বলে পুলিশের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন। বিক্ষোভ মোকাবিলায় দিল্লি মেট্রোর ৪৫টি স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছে। নয়াদিল্লি ও হজরত নিজামুদ্দিন স্টেশনে আসা-যাওয়া করার কথা ছিল, এমন অন্তত ২৪৫টি ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও প্রবেশপথে একাধিক স্তরের ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে বাস ও অন্যান্য যানবাহনে তল্লাশি চালানোর পাশাপাশি বিক্ষোভকারীদের খোঁজে বাসেও তল্লাশি চালিয়েছে পুলিশ। গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে কংক্রিটের ব্লক ও ব্যারিকেড দিয়ে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপের সরঞ্জামসহ দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত বিশেষ যানবাহনও মোতায়েন করা হয়েছে। বিক্ষোভের আয়োজক ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপ দিল্লির উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে সরকারের কঠোর পদক্ষেপের সমালোচনা করেন। মুম্বাইয়ে সংবাদ সংস্থা এএনআইকে তিনি বলেন, কেন আপনাদের সব রেলওয়ে ও মেট্রো পরিষেবা বন্ধ করতে হলো, ইন্টারনেট ও রাস্তাঘাট বন্ধ করতে হলো? এসবই কেবল ভয়ের বহিঃপ্রকাশ।বিক্ষোভকারীরা জানিয়েছেন, শনিবার সকাল ১০টায় নয়াদিল্লির কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত যন্তর মন্তরে তাদের সমবেত হওয়ার পরিকল্পনা ছিল। কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত এই স্থানেই তারা প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে প্রতিবাদ জানাতে চেয়েছিলেন। তবে শুক্রবার দিল্লি পুলিশ জানায়, বিক্ষোভের অনুমতি দেওয়া হয়নি। আইন অমান্য করলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করে পুলিশ। এক বিবৃতিতে পুলিশ জানায়, জনসাধারণের চলাচল নিয়ন্ত্রণ, ভিড় এড়ানো, জনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিক্ষোভকারী ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাময়িক ও সতর্কতামূলক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। অন্যদিকে, আন্দোলনকারীরা পুলিশের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। তাদের দাবি, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করা তাদের মৌলিক অধিকার। ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্ক থেকেই এই আন্দোলনের সূত্রপাত। ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় প্রায় ১৩ কোটি ভোটারের নাম বাদ দেওয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরে প্রশ্ন ও মতবিরোধ তৈরি হয়েছিল। প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশনের কয়েকজন কর্মকর্তা এ বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে প্রশ্ন তুলেছিলেন। তবে কুমার এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি ভোটার তালিকা সংশোধনের মাধ্যমে নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ অস্বীকার করেছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ভোটার তালিকা যাচাই-বাছাইয়ের সময় প্রায় ১৩ কোটি নাম বাদ দেওয়ার জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৬ কোটি ৩০ লাখ ভোটার অন্যত্র চলে গেছেন, ৩ কোটি ভোটারের কোনো হদিস পাওয়া যায়নি এবং ২ কোটি ৮০ লাখ ভোটারকে মৃত হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। তবে কমিশনের বক্তব্য, এই সংখ্যা খসড়া সংশোধনের পর্যায়ে চিহ্নিত ভোটারদের হিসাব। যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়া এখনো সম্পন্ন হয়নি। ভুলবশত যাদের নাম বাদ পড়েছে, তারা পুনরায় নিজেদের নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ পাবেন। সূত্র : এনডিটিভি