০৬:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিভিন্ন জেলায় দুর্গা প্রতিমা ও মন্দির ভাঙচুরের বিষয়ে হিন্দু মহাজোটের প্রতিবাদ

  • আপডেট: ০১:৪৪:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬
  • 13

ডেস্ক রিপোর্ট | সূর্যোদয় : দুর্গাপূজা উপলক্ষে সারা দেশে ১০ দিন আগে থেকেই প্রতিটি স্থায়ী ও অস্থায়ী পূজামন্দির ও মণ্ডপে নিরাপত্তা জোরদার ও সিলেট, রাজবাড়ী, পঞ্চগড়, মানিকগঞ্জ, রংপুর ও টাঙ্গাইলসহ বিভিন্ন জেলায় দুর্গা প্রতিমা ও মন্দির ভাঙচুরের প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট। শুক্রবার ২ অক্টোবর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। এ সময় সিলেট, রাজবাড়ী, পঞ্চগড়, মানিকগঞ্জ, রংপুর ও টাঙ্গাইলসহ বিভিন্ন জেলায় দুর্গা প্রতিমা ও মন্দির ভাঙচুরের বিষয়েও প্রতিবাদ করা হয়। আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের মুখপাত্র ও নির্বাহী মহাসচিব পলাশ কান্তি দে। এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি ড. প্রভাস চন্দ্র রায়। লিখিত বক্তব্যে পলাশ কান্তি দে বলেন, অল্প কয়েক দিনের মধ্যে সারা দেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা শুরু হবে। ইতিমধ্যে মন্দিরে প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। দুর্গাপূজা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন— এই দুটি বিষয় নিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের অতীত অভিজ্ঞতা মোটেই সুখকর নয়। পূজার আগে ও পরে এবং যেকোনো নির্বাচনের আগে ও পরে হিন্দু সম্প্রদায় ও তাদের স্থাপনার ওপর আঘাত নিয়মিতভাবে হচ্ছে। তিনি বলেন, এরই মধ্যে ছয়টি জেলায় দুর্গা প্রতিমা ভাঙচুর করা হয়েছে। পূজার আগে এ ধরনের হামলা ও ভাঙচুর আরো বাড়তে পারে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার জামুর্কী পশ্চিমপাড়া দুর্গামন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুর করা হয়েছে। দুর্বৃত্তরা সব কটি প্রতিমার মাথা ভেঙে দেয়। এ পরিস্থিতিতে দুর্গাপূজার নিরাপত্তা নিয়ে হিন্দু সম্প্রদায় এখনই ভাবতে শুরু করেছে বলে জানান পলাশ কান্তি দে। তিনি বলেন, বিগত পাঁচ বছরের ইতিহাস দেখলেই বোঝা যায়, শারদীয় দুর্গাপূজা নিয়ে জাতীয় হিন্দু মহাজোটের শঙ্কা করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়, ২০১৮ সালে শ্যামলিম্ব রাধাগোবিন্দ মন্দিরে ভাঙচুর ও লুটপাটের মামলার এখনো তদন্ত ও বিচার হয়নি। ২০২১ সালের দুর্গাপূজার আগে, পূজার সময় এবং বিশেষ করে পরে দেশের বিভিন্ন স্থানে দুর্গা প্রতিমা ভাঙচুর, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে ভীতি প্রদর্শন, মন্দিরে হামলা ও পূজায় বাধা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছিল। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, সারা দেশে ধারাবাহিকভাবে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা, হত্যা, মন্দির ভাঙচুর, ঘরবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে লুটপাট এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এসব অভিজ্ঞতার কারণে ২০২৬ সালের শারদীয় দুর্গাপূজা নিয়ে তারা শঙ্কিত। পলাশ কান্তি দে বলেন, প্রতিটি ঘটনায় কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও পরে তারা জামিনে বের হয়ে বাদীদের ওপর অধিকমাত্রায় চাপ প্রয়োগ করেন। এতে মামলাগুলো দীর্ঘসূত্রতায় পরিণত হয় এবং কোনো বিচার হয় না। যেসব জেলায় হিন্দু সম্প্রদায়কে হুমকি দেওয়া, মন্দির ও প্রতিমা ভাঙচুর করা হচ্ছে, তারা যে দলেরই হোক না কেন, তাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনতে হবে। সংবাদ সম্মেলনে হিন্দু মহাজোটের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের হত্যা ও আত্মহত্যার ঘটনা ঘটছে। ২০২৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর ময়মনসিংহে দীপু দাসকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। ২০২৬ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর ময়মনসিংহে ড্রামের ভেতর নিরঞ্জন চন্দ্র সূত্রধরের লাশ উদ্ধার করা হয়। এই নয় মাসে হত্যা ও লাশ উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে ৪৬টি বলে দাবি করা হয়। এসব ঘটনায় নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে একের পর এক রহস্যজনক মৃত্যু আদৌ আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, তা নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, আগামী ১৬ অক্টোবর থেকে হিন্দু সম্প্রদায়ের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা শুরু হতে যাচ্ছে। এ অবস্থায় প্রতিটি স্থায়ী ও অস্থায়ী পূজামন্দির ও মণ্ডপে সরকারি খরচে সিসিটিভি ক্যামেরার ব্যবস্থা এবং পূজার ১০ দিন আগে থেকে পূজা চলাকালীন সময় পর্যন্ত নিরাপত্তা জোরদার করা প্রয়োজন। এ ছাড়া সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন ও সংখ্যালঘু কমিশন গঠন এবং দুর্গাপূজায় নিরাপত্তা জোরদারের জন্য কেন্দ্রীয়ভাবে একটি মনিটরিং সেল গঠনের দাবি জানিয়েছে হিন্দু মহাজোট। সংগঠনটির পক্ষ থেকে আগামী বছর থেকে দুর্গাপূজায় অষ্টমী, নবমী ও দশমী—এই তিন দিন সরকারি ছুটি ঘোষণারও দাবি জানানো হয়। এবার নবমী ও দশমীর ছুটির সঙ্গে ২২ অক্টোবর নির্বাহী আদেশে ছুটি দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানানো হয়। তবে ভবিষ্যতে নির্বাহী আদেশের পরিবর্তে অষ্টমী, নবমী ও দশমী—এই তিন দিন সাধারণ ছুটি করার দাবি জানানো হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের পক্ষ থেকে চার দফা দাবি তুলে ধরা হয়।