চট্টগ্রাম ব্যুরো : || : চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় টানা বৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় সুন্দরপুর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা। বন্যার পানিতে অধিকাংশ মানুষের বাড়িঘর তলিয়ে যাওয়ায় দুর্ভোগে পড়েন হাজারো পরিবার।
এমন পরিস্থিতিতে ফটিকছড়ি পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করেন। বানভাসী মানুষের জন্য ৫০০টি ত্রাণ প্যাকেট প্রস্তুত করে তারা উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে বিতরণের সিদ্ধান্ত নেন। ত্রাণ বিতরণের আগে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের কর্তৃপক্ষ ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিমের কাছে জানতে চান, উপজেলার কোন এলাকায় বন্যার ক্ষয়ক্ষতি সবচেয়ে বেশি হয়েছে? এ সময় ইউএনও জানান, ফটিকছড়ি সদরের পার্শ্ববর্তী সুন্দরপুর ইউনিয়নের অধিকাংশ মানুষের বাড়িঘর পানিতে তলিয়ে গেছে। সদরের নিকটবর্তী ইউনিয়ন হওয়ায় সেখানে ত্রাণ বিতরণ করলে বেশি উপকার হবে বলে তিনি মত দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের কর্তৃপক্ষ ৫০০টি ত্রাণ প্যাকেট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করে। পরে ইউএনও সুন্দরপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শহিদুল আজমকে ডেকে ৩০০টি প্যাকেট দেওয়ার কথা জানান এবং অবশিষ্ট ২০০টি প্যাকেট মো. হোসেন ও সুজা চৌধুরীকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। অভিযোগ রয়েছে, ২০০টি প্যাকেট অন্যদের দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানানো হলে সাবেক চেয়ারম্যান শহিদুল আজম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে ক্ষুব্ধ আচরণ করেন। সুত্র জানায়, এসময় সাবেক চেয়ারম্যান শহিদুল আজম ইউএনওর সঙ্গে দুর্ব্যবহারও করেন এবং বিষয়টি নিয়ে উভয়ের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এদিকে ঘটনাকে ঘিরে স্থানীয়ভাবে আরও নানা অভিযোগ ও আলোচনা চলছে। স্থানীয়দের দাবি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম একজন সাবেক চেয়ারম্যানকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দিয়ে আসছিলেন। তাদের ভাষ্য, বিভিন্ন বিষয়ে শহিদুল আজমের কথাকেই প্রাধান্য দেওয়া হতো এবং তাকে অনেক ক্ষেত্রে একজন সংসদ সদস্যের মতো গুরুত্ব দেওয়া হতো। কী কারণে ইউএনও তার কথাকে এতটা গুরুত্ব দিতেন, সেটি ইউএনও এবং শহিদুল আজমই ভালো বলতে পারবেন বলে স্থানীয় বেশ কয়েকজন বাসিন্দার মন্তব্য। এ ছাড়া অভিযোগ রয়েছে, এর আগে সুন্দরপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিবকেও সন্ত্রাসী কায়দায় হুমকি দিয়েছেন বিএনপি নেতা ও সাবেক চেয়ারম্যান শহিদুল আজম। একই সঙ্গে দাবি করা হয়, ঘটনার বিষয়ে গণমাধ্যমকর্মীরা যোগাযোগ করলে তিনি সংবাদ প্রকাশ না করার জন্যও অনুরোধ বা নিষেধ করেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
০৫:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
ফটিকছড়িতে ত্রাণ নিয়ে ইউএনও ও সাবেক চেয়ারম্যানের মধ্যে উত্তেজনা
সর্বাধিক পঠিত



















