১২:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বগুড়ায় ডিবির হেফাজতে হত্যা মামলার আসামির মৃত্যু

  • আপডেট: ০২:৪১:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
  • 13

সূর্যোদয় ডেস্ক : || : বগুড়া ডিবি পুলিশের হেফাজতে অটোরিকশা ছিনতাই ও হত্যামামলার আসামি আসাদুজ্জামান আসাদের (২৫) মৃত্যু হয়েছে। যদিও পুলিশের দাবি, রবিবার ১৯ জুলাই সকালে তিনি হাজতখানার বাথরুমের ভেন্টিলেটরের রডের সঙ্গে গলায় লুঙ্গির ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। এরআগে, শনিবার দুপুরে তাকে বগুড়া স্টেশন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) হুসাইন মোহাম্মদ রায়হান এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান। নিহত আসাদুজ্জামান আসাদ বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার জোড়গাছা উত্তরপাড়া গ্রামের মতি মুন্সীর ছেলে। জানা গেছে, গত ২৮ জুন রাতে বগুড়া মহানগরীর বউবাজার এলাকা থেকে সিএনজি অটোরিকশা ভাড়া করেন আসামি আসাদসহ আরো দুইজন। পরে সারিয়াকান্দি উপজেলার কামালপুর ইউনিয়নের দড়িপাড়া কৈখালী এলাকায় রাস্তার পাশে নিয়ে চালক আবদুল মান্নানকে শ্বাসরোধে হত্যা করে। হত্যাকারীরা অটোচালকের মোবাইল ফোন হাতিয়ে নেয়। এরপর তারা অটোরিকশা নিয়ে নওগাঁয় পালিয়ে যায়। এ বিষয়ে নিহত মান্নানের স্বজনরা ১ জুলাই সারিয়াকান্দি থানায় হত্যা মামলা করেন। নিহত আবদুল মান্নান বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বালিয়াদীঘি ইউনিয়নের মালিয়ানডাঙ্গা গ্রামের আফজাল হোসেন মোল্লার ছেলে। তিনি ইসলামী সমাজ নামে একটি রাজনৈতিক দলের বগুড়া জেলা শাখার দায়িত্বশীল নেতা ছিলেন। এদিকে, শনিবার বেলা সোয়া ১টার দিকে বগুড়া ডিবি পুলিশের একটি দল নিহতের মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে বগুড়া রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে আসামি আসাদুজ্জামান আসাদকে গ্রেপ্তার করে। ডিবি অফিসে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি অটোরিকশা চালক আবদুল মান্নানকে যাত্রীবেশে হত্যা ও অটোরিকশা ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। তার কাছে নিহতের মোবাইল ফোনটিও পাওয়া যায়। এছাড়া শনিবার রাতে আসাদের দেওয়া তথ্য অনুসারে তাকে নিয়ে নওগাঁয় অভিযান চালানো হলেও অন্য দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। ছিনিয়ে নেওয়া অটো রিকশা উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। রবিবার দুপুরে আসাদকে আদালতে হাজির করার প্রস্তুতি চলছিল। একইদিন সকালে দিকে নাশতার পর আসাদ ডিবি অফিসের হাজতখানার বাথরুমে প্রবেশ করেন। প্রায় ১০ মিনিট অতিবাহিত হলেও তিনি বের না হওয়ায় অন্য হাজতি বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করেন। এরপর পুলিশ সদস্যরা বাথরুমে গিয়ে তাকে ভেন্টিলেটরের রডের সাথে গলায় পরনের লুঙ্গির ফাঁস দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। তাকে দ্রুত উদ্ধার করে বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসা কর্মকর্তা ইফতেখারুল ইসলাম জানান, বেলা ১০.৪৪ মিনিটে আসামি আসাদকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তাকে অক্সিজেনসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হলেও বাঁচানো সম্ভব হয়নি। আসাদের বাবা মাদ্রাসা শিক্ষক মতি মুন্সি জানান, উচ্চ মাধ্যমিক পাস করার তার ছেলে মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন। এরপর তিনি পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যান। দীর্ঘদিন পরিবারের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল না। ডিবি পুলিশ হেফাজতে তার (আসাদ) মৃত্যুর খবর জানতে পেরেছেন। বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি, অপরাধ) হুসাইন মোহাম্মদ রায়হান এবং ওসি ডিবি ইকবাল বাহার জানান, অটোরিকশা চালক আবদুল মান্নান হত্যা মামলার আসামি আসাদুজ্জামান আসাদের আত্মহত্যার বিষয়ে তাদের কাছে সিসিটিভি ফুটেজ রয়েছে। একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতি সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। পুলিশি হেফাজতে মৃত্যুর বিষয়ে সদর থানায় অপমৃত্যু মামলা করা হবে বলেও জানান তারা।

সর্বাধিক পঠিত

রেলপথ অবরোধে রাজশাহীর সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ

বগুড়ায় ডিবির হেফাজতে হত্যা মামলার আসামির মৃত্যু

আপডেট: ০২:৪১:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

সূর্যোদয় ডেস্ক : || : বগুড়া ডিবি পুলিশের হেফাজতে অটোরিকশা ছিনতাই ও হত্যামামলার আসামি আসাদুজ্জামান আসাদের (২৫) মৃত্যু হয়েছে। যদিও পুলিশের দাবি, রবিবার ১৯ জুলাই সকালে তিনি হাজতখানার বাথরুমের ভেন্টিলেটরের রডের সঙ্গে গলায় লুঙ্গির ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। এরআগে, শনিবার দুপুরে তাকে বগুড়া স্টেশন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) হুসাইন মোহাম্মদ রায়হান এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান। নিহত আসাদুজ্জামান আসাদ বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার জোড়গাছা উত্তরপাড়া গ্রামের মতি মুন্সীর ছেলে। জানা গেছে, গত ২৮ জুন রাতে বগুড়া মহানগরীর বউবাজার এলাকা থেকে সিএনজি অটোরিকশা ভাড়া করেন আসামি আসাদসহ আরো দুইজন। পরে সারিয়াকান্দি উপজেলার কামালপুর ইউনিয়নের দড়িপাড়া কৈখালী এলাকায় রাস্তার পাশে নিয়ে চালক আবদুল মান্নানকে শ্বাসরোধে হত্যা করে। হত্যাকারীরা অটোচালকের মোবাইল ফোন হাতিয়ে নেয়। এরপর তারা অটোরিকশা নিয়ে নওগাঁয় পালিয়ে যায়। এ বিষয়ে নিহত মান্নানের স্বজনরা ১ জুলাই সারিয়াকান্দি থানায় হত্যা মামলা করেন। নিহত আবদুল মান্নান বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বালিয়াদীঘি ইউনিয়নের মালিয়ানডাঙ্গা গ্রামের আফজাল হোসেন মোল্লার ছেলে। তিনি ইসলামী সমাজ নামে একটি রাজনৈতিক দলের বগুড়া জেলা শাখার দায়িত্বশীল নেতা ছিলেন। এদিকে, শনিবার বেলা সোয়া ১টার দিকে বগুড়া ডিবি পুলিশের একটি দল নিহতের মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে বগুড়া রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে আসামি আসাদুজ্জামান আসাদকে গ্রেপ্তার করে। ডিবি অফিসে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি অটোরিকশা চালক আবদুল মান্নানকে যাত্রীবেশে হত্যা ও অটোরিকশা ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। তার কাছে নিহতের মোবাইল ফোনটিও পাওয়া যায়। এছাড়া শনিবার রাতে আসাদের দেওয়া তথ্য অনুসারে তাকে নিয়ে নওগাঁয় অভিযান চালানো হলেও অন্য দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। ছিনিয়ে নেওয়া অটো রিকশা উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। রবিবার দুপুরে আসাদকে আদালতে হাজির করার প্রস্তুতি চলছিল। একইদিন সকালে দিকে নাশতার পর আসাদ ডিবি অফিসের হাজতখানার বাথরুমে প্রবেশ করেন। প্রায় ১০ মিনিট অতিবাহিত হলেও তিনি বের না হওয়ায় অন্য হাজতি বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করেন। এরপর পুলিশ সদস্যরা বাথরুমে গিয়ে তাকে ভেন্টিলেটরের রডের সাথে গলায় পরনের লুঙ্গির ফাঁস দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। তাকে দ্রুত উদ্ধার করে বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসা কর্মকর্তা ইফতেখারুল ইসলাম জানান, বেলা ১০.৪৪ মিনিটে আসামি আসাদকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তাকে অক্সিজেনসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হলেও বাঁচানো সম্ভব হয়নি। আসাদের বাবা মাদ্রাসা শিক্ষক মতি মুন্সি জানান, উচ্চ মাধ্যমিক পাস করার তার ছেলে মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন। এরপর তিনি পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যান। দীর্ঘদিন পরিবারের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল না। ডিবি পুলিশ হেফাজতে তার (আসাদ) মৃত্যুর খবর জানতে পেরেছেন। বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি, অপরাধ) হুসাইন মোহাম্মদ রায়হান এবং ওসি ডিবি ইকবাল বাহার জানান, অটোরিকশা চালক আবদুল মান্নান হত্যা মামলার আসামি আসাদুজ্জামান আসাদের আত্মহত্যার বিষয়ে তাদের কাছে সিসিটিভি ফুটেজ রয়েছে। একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতি সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। পুলিশি হেফাজতে মৃত্যুর বিষয়ে সদর থানায় অপমৃত্যু মামলা করা হবে বলেও জানান তারা।