ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি : ফটিকছড়ি দাঁতমারার সাবেক চেয়ারম্যান পলাতক আওয়ামী লীগনেতা জানে আলমের ইশারায় এখনো চলে বেতুয়া, শান্তিরহাট, দাঁতমারা বাজার, নিচিন্তা, কাঞ্চনা, নিচিন্তা, আধারিয়া টিলা, হোসেনেরখীল, ইসলামপুর, গ্রামপাড়া গিলাতলী, ধর্মপুর, হেয়াকো সওদাগর পাড়া, ও পশ্চিম শিকদারখিল । স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় জানে আলম নিজে অস্ত্র হাতে মাঠে ছিলেন এবং আন্দোলন প্রতিহত করতে তার অনুসারীদের সক্রিয়ভাবে পরিচালনা করেন। পরবর্তীতে ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান। বর্তমানে তিনি এলাকায় ফেরার চেষ্টা করছেন এবং তার অনুসারীদের মাধ্যমে দাঁতমারা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় প্রভাব বজায় রেখেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, বেতুয়া, শান্তিরহাট, দাঁতমারা বাজার, নিচিন্তা, কাঞ্চনা, আধারিয়া টিলা, হোসেনেরখীল, ইসলামপুর, গ্রামপাড়া, গিলাতলী, ধর্মপুর, হেঁয়াকো সওদাগরপাড়া ও পশ্চিম শিকদারখিলসহ বিভিন্ন এলাকায় এখনো তার অনুসারীদের সক্রিয়তা রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, তার ভয়ে অনেকেই এখনো প্রকাশ্যে কথা বলতে চান না। স্থানীয় সূত্রের দাবি, টানা তিন মেয়াদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান থাকাকালে জানে আলম বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি ও খাসজমি দখল, বাগানবাড়ি নির্মাণ, একাধিক গাড়ি এবং শত শত কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন তিনি। যদিও এসব সম্পদের বিষয়ে তার কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। জানে আলমের বিরুদ্ধে ফটিকছড়ি-২ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীরের গাড়িবহরে হামলার একটি মামলা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এছাড়া সরকারি প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে বলেও জানা গেছে। এর বাইরে ইয়াবা ব্যবসা, ডিস ও ইন্টারনেট সংযোগ নিয়ন্ত্রণ, ইট-বালুর ব্যবসা, চাঁদাবাজি, কমিশন বাণিজ্য এবং ভূমি দখলের অভিযোগও রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, চেয়ারম্যান থাকাকালে উত্তর ফটিকছড়ির মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ তার হাতে ছিল। তার প্রভাবে শান্তিরহাট, দাঁতমারা বাজার, হেঁয়াকো বাজার, বেতুয়া, ইসলামপুর, হোসেনেরখীল ও বান্দরমারা এলাকায় দীর্ঘদিন ইয়াবা, ফেনসিডিল ও গাঁজাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক বেচাকেনা চলেছে। রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরও এসব এলাকায় মাদক ব্যবসা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, ইসলামপুর গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে সবুজ মিয়া দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। একসময় তাকে প্রায়ই চেয়ারম্যান জানে আলমের সঙ্গে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় এবং তার ব্যক্তিগত গাড়িতে চলাফেরা করতে দেখা যেত বলে দাবি করেছেন একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী। স্থানীয় সূত্রের দাবি, এক পর্যায়ে সবুজ মিয়াকে মাদকসহ পুলিশ আটক করে। অভিযোগ রয়েছে, ওই সময় তাকে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় থেকে আটক করা হলেও বিষয়টি মামলার এজাহারে উল্লেখ না করার জন্য তৎকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তার ওপর প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। স্থানীয় সচেতন মহলের বক্তব্য, জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব অপরাধ দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করা। কিন্তু জানে আলমের বিরুদ্ধে উল্টো অপরাধী ও মাদক কারবারিদের প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়ভাবে আলোচিত হয়ে আসছে।
০৮:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:



















