০১:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কক্সবাজারের উখিয়ায় ২৪ ঘণ্টা পরও জ্বলছে গ্যাসের আগুন

  • আপডেট: ১২:৩৯:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
  • 20

ডেস্ক রিপোর্ট | সূর্যোদয় : কক্সবাজারের উখিয়ায় নলকূপ বসানোর জন্য মাটি খনন করতে গিয়ে ভূগর্ভ থেকে বের হওয়া গ্যাসে জ্বলে ওঠা আগুন ২৪ ঘণ্টা পেরিয়েও নেভেনি। ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানান, বাপেক্সের বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী- গ্যাসের চাপ বেশি থাকায় আপাতত আগুন নেভানোর চেষ্টা না করে গ্যাসের প্রবাহ শেষ হওয়া পর্যন্ত সেটি জ্বলতে দিতে হবে। এ পরিস্থিতিতে ঘটনাস্থলের অন্তত ২০০ মিটার এলাকা ঘিরে জনসাধারণের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন। কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন বলেন, আগুন নেভাতে বিভিন্ন কৌশল প্রয়োগ করা হলেও গ্যাসের চাপ বেশি থাকায় তা সম্ভব হয়নি। আমরা মঙ্গলবার সকাল থেকে চারটি ইউনিট নিয়ে কাজ করেছি। বিভিন্ন কৌশল প্রয়োগ করেও আগুন নেভাতে পারিনি। পরে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে বাপেক্সের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে প্রতিষ্ঠানটির বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থলে আসেন বলে জানান তিনি। এর আগে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উখিয়া উপজেলার ছোট ইনানী এলাকায় মোস্তফা সিকদারের বাড়ির আঙিনায় নলকূপ বসানোর জন্য মাটি খননের সময় ভূগর্ভ থেকে গ্যাস বের হতে শুরু করে। একপর্যায়ে সেই গ্যাসে আগুন ধরে যায়। এরপর থেকে আগুন জ্বলছে। বাপেক্স এর পরামর্শ হচ্ছে, আগুন এভাবে জ্বলতে দিতে হবে। গ্যাসের প্রবাহ শেষ না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। বাপেক্সের বিশেষজ্ঞদের বরাতে মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন বলেন, আগুন জ্বলতে এক সপ্তাহ থেকে ১৫ দিন পর্যন্ত লাগতে পারে। তবে আগুনের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখতে ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট সার্বক্ষণিক রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। এদিকেউখিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার বলেন, বাপেক্সের বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে গুরুত্বপূর্ণ কিছু পর্যবেক্ষণ জানিয়েছেন। তাদের পরামর্শ অনুযায়ী, প্রথমেই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাটি বিচ্ছিন্ন করে নিরাপত্তাবেষ্টনী তৈরি করা জরুরি। তিনি বলেন, আমাদের এখন প্রধান উদ্বেগ হচ্ছে, জায়গাটিকে বিচ্ছিন্ন করে অন্তত ২০০ মিটার বা তার বেশি এলাকা ঘিরে রাখা। যাতে জনসাধারণ ওই এলাকার ভেতরে প্রবেশ করতে না পারে। ইউএনও বলেন, কখন, কোন দিক দিয়ে গ্যাস বের হবে, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। গ্যাসের সঙ্গে আগুনের স্ফুলিঙ্গ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও রয়েছে। এ ছাড়া এলাকাটি পর্যটন এলাকার মধ্যে এবং আশপাশে মানুষের বসতি রয়েছে। শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিরা আগুন দেখতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হতে পারেন।

সর্বাধিক পঠিত

কক্সবাজারের উখিয়ায় ২৪ ঘণ্টা পরও জ্বলছে গ্যাসের আগুন

কক্সবাজারের উখিয়ায় ২৪ ঘণ্টা পরও জ্বলছে গ্যাসের আগুন

আপডেট: ১২:৩৯:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

ডেস্ক রিপোর্ট | সূর্যোদয় : কক্সবাজারের উখিয়ায় নলকূপ বসানোর জন্য মাটি খনন করতে গিয়ে ভূগর্ভ থেকে বের হওয়া গ্যাসে জ্বলে ওঠা আগুন ২৪ ঘণ্টা পেরিয়েও নেভেনি। ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানান, বাপেক্সের বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী- গ্যাসের চাপ বেশি থাকায় আপাতত আগুন নেভানোর চেষ্টা না করে গ্যাসের প্রবাহ শেষ হওয়া পর্যন্ত সেটি জ্বলতে দিতে হবে। এ পরিস্থিতিতে ঘটনাস্থলের অন্তত ২০০ মিটার এলাকা ঘিরে জনসাধারণের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন। কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন বলেন, আগুন নেভাতে বিভিন্ন কৌশল প্রয়োগ করা হলেও গ্যাসের চাপ বেশি থাকায় তা সম্ভব হয়নি। আমরা মঙ্গলবার সকাল থেকে চারটি ইউনিট নিয়ে কাজ করেছি। বিভিন্ন কৌশল প্রয়োগ করেও আগুন নেভাতে পারিনি। পরে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে বাপেক্সের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে প্রতিষ্ঠানটির বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থলে আসেন বলে জানান তিনি। এর আগে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উখিয়া উপজেলার ছোট ইনানী এলাকায় মোস্তফা সিকদারের বাড়ির আঙিনায় নলকূপ বসানোর জন্য মাটি খননের সময় ভূগর্ভ থেকে গ্যাস বের হতে শুরু করে। একপর্যায়ে সেই গ্যাসে আগুন ধরে যায়। এরপর থেকে আগুন জ্বলছে। বাপেক্স এর পরামর্শ হচ্ছে, আগুন এভাবে জ্বলতে দিতে হবে। গ্যাসের প্রবাহ শেষ না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। বাপেক্সের বিশেষজ্ঞদের বরাতে মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন বলেন, আগুন জ্বলতে এক সপ্তাহ থেকে ১৫ দিন পর্যন্ত লাগতে পারে। তবে আগুনের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখতে ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট সার্বক্ষণিক রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। এদিকেউখিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার বলেন, বাপেক্সের বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে গুরুত্বপূর্ণ কিছু পর্যবেক্ষণ জানিয়েছেন। তাদের পরামর্শ অনুযায়ী, প্রথমেই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাটি বিচ্ছিন্ন করে নিরাপত্তাবেষ্টনী তৈরি করা জরুরি। তিনি বলেন, আমাদের এখন প্রধান উদ্বেগ হচ্ছে, জায়গাটিকে বিচ্ছিন্ন করে অন্তত ২০০ মিটার বা তার বেশি এলাকা ঘিরে রাখা। যাতে জনসাধারণ ওই এলাকার ভেতরে প্রবেশ করতে না পারে। ইউএনও বলেন, কখন, কোন দিক দিয়ে গ্যাস বের হবে, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। গ্যাসের সঙ্গে আগুনের স্ফুলিঙ্গ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও রয়েছে। এ ছাড়া এলাকাটি পর্যটন এলাকার মধ্যে এবং আশপাশে মানুষের বসতি রয়েছে। শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিরা আগুন দেখতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হতে পারেন।