০২:১৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইনানীর রিসোর্টে নিহত ১০ জনের মধ্যে একই পরিবারের ছয়জন, তদন্তে কমিটি গঠন

  • আপডেট: ০৯:৫৩:১১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
  • 11

কক্সবাজার প্রতিনিধি | সূর্যোদয় : কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানী বিচসংলগ্ন পাটুয়ারটেক এলাকায় টুপটুপ রেস্তোরাঁ অ্যান্ড রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ১০ পর্যটক নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের ছয়জন রয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীও। শনিবার ১৭ অক্টোবর সকাল ৭টার দিকে মেরিন ড্রাইভ-সংলগ্ন পাটুয়ারটেক সমুদ্রসৈকত এলাকায় কাঠের তৈরি তিনতলা রিসোর্টটিতে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা ১০ জনের মরদেহ উদ্ধারের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। প্রথমে ছয়টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে রিসোর্টের শৌচাগার থেকে আরও চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সর্বশেষ উদ্ধার করা চারজনের মধ্যে একজন পুরুষ, দুজন নারী ও একটি শিশু রয়েছে। ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, সকাল ৭টা ২৫ মিনিটে আগুন লাগার খবর পেয়ে উখিয়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মীরা সকাল ৮টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় সকাল ১০টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানান, প্রাথমিকভাবে রিসোর্টের রান্নাঘরের চুল্লি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পরিচয় শনাক্ত হওয়া নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকার বনশ্রীর ইসরাত জাহান মালিহা (৩০), মেলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩), লায়লা জাহান নাবিলা (২৭), নাফিজ তেহামী জেরিফ (২৭), চুয়াডাঙ্গার ফারিহা কবির (৩৩) এবং পাঁচ বছর বয়সী ফায়িজান আহম্মেদ। নিহতদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চীনা ভাষা ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী নাফিজ তেহামী এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী লায়লা জাহান নাবিলাও রয়েছেন। ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী মেলিতা মেহেজাবিন আলভীও অগ্নিকাণ্ডে মারা গেছেন। পরিবারের সদস্যদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নাফিজ তেহামী, নাবিলা, মালিহা ও আলভী পরস্পরের কাজিন। ফারিহা কবির ছিলেন নাফিজের বড় বোন এবং শিশু ফায়িজান তার ভাগ্নে। তাদের পরিবারের নয়জন সদস্য বেড়াতে গিয়ে ওই রিসোর্টে উঠেছিলেন। তাদের মধ্যে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। এদিকে অগ্নিকাণ্ডে আহত ছয়জনকে উদ্ধার করে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। তাদের মধ্যে রয়েছেন মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক শিহাব উদ্দীন (৩১), তার স্ত্রী নাফিজা নেওয়াজ খান (২৯), মান্নান (৩৪), মেহেরুন্নেসা (৩০), মাসুদ (৩০) ও সামিদা (৩২)। কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা সবুক্তগীন মাহমুদ সোহেল জানান, আহতদের মধ্যে পাঁচজনের শরীরের প্রায় ৫ শতাংশ পুড়ে গেছে। তাদের হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অন্য একজন পড়ে গিয়ে আহত হয়েছিলেন। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। রিসোর্টটির ইনচার্জ মো. সুমন ইসলাম জানান, আগুন লাগার পরপরই তা নেভানোর চেষ্টা করা হয়। তবে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) ও সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হলে আগুন দ্রুত পুরো স্থাপনায় ছড়িয়ে পড়ে বলে তাদের ধারণা। স্থানীয় বাসিন্দাদের কয়েকজনের দাবি, রান্নাঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় কয়েকজন পর্যটক দরজা-জানালা ভেঙে বেরিয়ে আসেন। কেউ কেউ ভবন থেকে লাফ দিয়েও প্রাণে বাঁচার চেষ্টা করেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, অগ্নিকাণ্ডের সময় রিসোর্টটিতে প্রায় ৩০ জন অবস্থান করছিলেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন বের হতে পারলেও মোট কতজন সেখানে ছিলেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের লোকজন ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে গেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে পুলিশ, কোস্টগার্ড, বিজিবি, গোয়েন্দা পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধারকাজে সহযোগিতা করেন। স্থানীয় সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান, পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। কাঠের তৈরি তিনতলা রিসোর্টটিতে মোট নয়টি কক্ষ ছিল বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। আগুনে পুরো স্থাপনা পুড়ে গেছে। উদ্ধার অভিযান ও তদন্ত শেষে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, নিরাপত্তাব্যবস্থার ঘাটতি এবং ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত জানা যাবে। এদিকে, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় টুপটুপ রেস্তোরাঁ অ্যান্ড রিসোর্টের ম্যানেজার সুমন ইসলামকে পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। রিসোর্টের মালিক নিয়াজ মোরশেদ ও তানভীরকে ঘটনার পর থেকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানা গেছে।

সর্বাধিক পঠিত

ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের মিথ্যা অভিযোগে পিটিয়ে হত্যার আসামী আমিনীকে গ্রেপ্তার

ইনানীর রিসোর্টে নিহত ১০ জনের মধ্যে একই পরিবারের ছয়জন, তদন্তে কমিটি গঠন

আপডেট: ০৯:৫৩:১১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

কক্সবাজার প্রতিনিধি | সূর্যোদয় : কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানী বিচসংলগ্ন পাটুয়ারটেক এলাকায় টুপটুপ রেস্তোরাঁ অ্যান্ড রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ১০ পর্যটক নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের ছয়জন রয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীও। শনিবার ১৭ অক্টোবর সকাল ৭টার দিকে মেরিন ড্রাইভ-সংলগ্ন পাটুয়ারটেক সমুদ্রসৈকত এলাকায় কাঠের তৈরি তিনতলা রিসোর্টটিতে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা ১০ জনের মরদেহ উদ্ধারের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। প্রথমে ছয়টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে রিসোর্টের শৌচাগার থেকে আরও চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সর্বশেষ উদ্ধার করা চারজনের মধ্যে একজন পুরুষ, দুজন নারী ও একটি শিশু রয়েছে। ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, সকাল ৭টা ২৫ মিনিটে আগুন লাগার খবর পেয়ে উখিয়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মীরা সকাল ৮টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় সকাল ১০টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানান, প্রাথমিকভাবে রিসোর্টের রান্নাঘরের চুল্লি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পরিচয় শনাক্ত হওয়া নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকার বনশ্রীর ইসরাত জাহান মালিহা (৩০), মেলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩), লায়লা জাহান নাবিলা (২৭), নাফিজ তেহামী জেরিফ (২৭), চুয়াডাঙ্গার ফারিহা কবির (৩৩) এবং পাঁচ বছর বয়সী ফায়িজান আহম্মেদ। নিহতদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চীনা ভাষা ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী নাফিজ তেহামী এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী লায়লা জাহান নাবিলাও রয়েছেন। ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী মেলিতা মেহেজাবিন আলভীও অগ্নিকাণ্ডে মারা গেছেন। পরিবারের সদস্যদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নাফিজ তেহামী, নাবিলা, মালিহা ও আলভী পরস্পরের কাজিন। ফারিহা কবির ছিলেন নাফিজের বড় বোন এবং শিশু ফায়িজান তার ভাগ্নে। তাদের পরিবারের নয়জন সদস্য বেড়াতে গিয়ে ওই রিসোর্টে উঠেছিলেন। তাদের মধ্যে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। এদিকে অগ্নিকাণ্ডে আহত ছয়জনকে উদ্ধার করে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। তাদের মধ্যে রয়েছেন মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক শিহাব উদ্দীন (৩১), তার স্ত্রী নাফিজা নেওয়াজ খান (২৯), মান্নান (৩৪), মেহেরুন্নেসা (৩০), মাসুদ (৩০) ও সামিদা (৩২)। কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা সবুক্তগীন মাহমুদ সোহেল জানান, আহতদের মধ্যে পাঁচজনের শরীরের প্রায় ৫ শতাংশ পুড়ে গেছে। তাদের হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অন্য একজন পড়ে গিয়ে আহত হয়েছিলেন। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। রিসোর্টটির ইনচার্জ মো. সুমন ইসলাম জানান, আগুন লাগার পরপরই তা নেভানোর চেষ্টা করা হয়। তবে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) ও সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হলে আগুন দ্রুত পুরো স্থাপনায় ছড়িয়ে পড়ে বলে তাদের ধারণা। স্থানীয় বাসিন্দাদের কয়েকজনের দাবি, রান্নাঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় কয়েকজন পর্যটক দরজা-জানালা ভেঙে বেরিয়ে আসেন। কেউ কেউ ভবন থেকে লাফ দিয়েও প্রাণে বাঁচার চেষ্টা করেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, অগ্নিকাণ্ডের সময় রিসোর্টটিতে প্রায় ৩০ জন অবস্থান করছিলেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন বের হতে পারলেও মোট কতজন সেখানে ছিলেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের লোকজন ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে গেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে পুলিশ, কোস্টগার্ড, বিজিবি, গোয়েন্দা পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধারকাজে সহযোগিতা করেন। স্থানীয় সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান, পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। কাঠের তৈরি তিনতলা রিসোর্টটিতে মোট নয়টি কক্ষ ছিল বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। আগুনে পুরো স্থাপনা পুড়ে গেছে। উদ্ধার অভিযান ও তদন্ত শেষে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, নিরাপত্তাব্যবস্থার ঘাটতি এবং ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত জানা যাবে। এদিকে, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় টুপটুপ রেস্তোরাঁ অ্যান্ড রিসোর্টের ম্যানেজার সুমন ইসলামকে পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। রিসোর্টের মালিক নিয়াজ মোরশেদ ও তানভীরকে ঘটনার পর থেকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানা গেছে।