১২:২৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আজ ৭ জুন ঐতিহাসিক ছয় দফা দিবস

  • আপডেট: ১২:৪৬:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬
  • 15

সূর্যোদয় ডেস্ক : আজ ৭ জুন ঐতিহাসিক ছয় দফা দিবস। ১৯৬৬ সালের ৭ জুন বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলন স্পষ্টত নতুন পর্যায়ে উন্নীত হয়। এর মধ্য দিয়ে রচিত হয় স্বাধীনতার রূপরেখা। বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ ছয় দফা দাবির পক্ষে এই দিনে দেশব্যাপী তীব্র গণআন্দোলন সূচনা হয়েছিল। ছয় দফাভিত্তিক আন্দোলন-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলন স্বাধীনতা সংগ্রামে রূপ নেয়। পাকিস্তানিদের দুঃশাসন থেকে বাঙালির মুক্তির দিশারী হিসেবে ছয় দফা দাবি প্রণয়ন করে জনগণের সামনে বাংলার মানুষের মুক্তির সনদ হিসেবে উপস্থাপন করেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ছয় দফা আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় আসে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা, ১১ দফা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, সত্তরের নির্বাচন, একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং সর্বশেষ বিশ্ব মানচিত্রে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ। ১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি তাসখন্দ চুক্তিকে কেন্দ্র করে লাহোরে অনুষ্ঠিত সম্মেলনের সাবজেক্ট কমিটিতে ছয় দফা উত্থাপন করা হয়। এসময় শেখ মুজিবুর রহমান পরের দিন সম্মেলনের আলোচ্যসূচিতে ছয় দফাকে স্থান দিতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করেন। সেই অনুরোধ উপেক্ষা করে ছয় দফার প্রতি আয়োজক পক্ষ গুরুত্ব না দিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করে। এর প্রতিবাদে শেখ মুজিবুর রহমান ওই সম্মেলনে আর যোগ দেননি। তবে লাহোরে অবস্থানকালেই ছয় দফা উত্থাপন করেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে পশ্চিম পাকিস্তানের খবরের কাগজে শেখ মুজিবুর রহমানকে বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা আখ্যা দিয়ে সংবাদ ছাপানো হয়। পরে তিনি ঢাকায় ফিরে ১৩ মার্চ ছয় দফা এবং দলের অন্যান্য বিস্তারিত কর্মসূচি দলের কার্যনির্বাহী সংসদে পাস করিয়ে নেন। ছয় দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে শুরু হয় আন্দোলন, হরতালও ডাকা হয়। হরতাল চলাকালে নিরস্ত্র জনতার ওপর পুলিশ ও তৎকালীন ইপিআর গুলিবর্ষণ করে। এতে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে মনু মিয়া, সফিক ও শামসুল হকসহ ১১ জন শহীদ হন। ক্রমেই ছয় দফার প্রতি ব্যাপক জনসমর্থন তৈরি হয়। জনপ্রিয়তা বেড়ে যায় বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বের। সামরিক জান্তা আইয়ুব খানের নেতৃত্বাধীন স্বৈরাচারী সরকার ১৯৬৬ সালের ৮ মে শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠায়। ছয় দফা আন্দোলন ১৯৬৬ সালের ৭ জুন নতুন মাত্রা পায়। ছয় দফাভিত্তিক ১১ দফা আন্দোলনের পথপরিক্রমায় শুরু হয় ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান। সর্বোপরি ১৯৭০-এর সাধারণ নির্বাচনে বাংলার জনগণ আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীদের পক্ষে একচেটিয়া রায় দেয়। জনগণ বিজয়ী করলেও স্বৈরাচার পাকিস্তানি শাসকরা বিজয়ী দলকে সরকার গঠন করতে না দিলে বঙ্গবন্ধু জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে স্বাধীনতার পক্ষে আন্দোলন শুরু করেন। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অভ্যুদয় ঘটে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের।

সর্বাধিক পঠিত

তোফায়েল ও ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফসহ এমপি-মন্ত্রীর মৃত্যুতে সংসদে শোকপ্রস্তাব

আজ ৭ জুন ঐতিহাসিক ছয় দফা দিবস

আপডেট: ১২:৪৬:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬

সূর্যোদয় ডেস্ক : আজ ৭ জুন ঐতিহাসিক ছয় দফা দিবস। ১৯৬৬ সালের ৭ জুন বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলন স্পষ্টত নতুন পর্যায়ে উন্নীত হয়। এর মধ্য দিয়ে রচিত হয় স্বাধীনতার রূপরেখা। বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ ছয় দফা দাবির পক্ষে এই দিনে দেশব্যাপী তীব্র গণআন্দোলন সূচনা হয়েছিল। ছয় দফাভিত্তিক আন্দোলন-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলন স্বাধীনতা সংগ্রামে রূপ নেয়। পাকিস্তানিদের দুঃশাসন থেকে বাঙালির মুক্তির দিশারী হিসেবে ছয় দফা দাবি প্রণয়ন করে জনগণের সামনে বাংলার মানুষের মুক্তির সনদ হিসেবে উপস্থাপন করেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ছয় দফা আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় আসে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা, ১১ দফা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, সত্তরের নির্বাচন, একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং সর্বশেষ বিশ্ব মানচিত্রে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ। ১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি তাসখন্দ চুক্তিকে কেন্দ্র করে লাহোরে অনুষ্ঠিত সম্মেলনের সাবজেক্ট কমিটিতে ছয় দফা উত্থাপন করা হয়। এসময় শেখ মুজিবুর রহমান পরের দিন সম্মেলনের আলোচ্যসূচিতে ছয় দফাকে স্থান দিতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করেন। সেই অনুরোধ উপেক্ষা করে ছয় দফার প্রতি আয়োজক পক্ষ গুরুত্ব না দিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করে। এর প্রতিবাদে শেখ মুজিবুর রহমান ওই সম্মেলনে আর যোগ দেননি। তবে লাহোরে অবস্থানকালেই ছয় দফা উত্থাপন করেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে পশ্চিম পাকিস্তানের খবরের কাগজে শেখ মুজিবুর রহমানকে বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা আখ্যা দিয়ে সংবাদ ছাপানো হয়। পরে তিনি ঢাকায় ফিরে ১৩ মার্চ ছয় দফা এবং দলের অন্যান্য বিস্তারিত কর্মসূচি দলের কার্যনির্বাহী সংসদে পাস করিয়ে নেন। ছয় দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে শুরু হয় আন্দোলন, হরতালও ডাকা হয়। হরতাল চলাকালে নিরস্ত্র জনতার ওপর পুলিশ ও তৎকালীন ইপিআর গুলিবর্ষণ করে। এতে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে মনু মিয়া, সফিক ও শামসুল হকসহ ১১ জন শহীদ হন। ক্রমেই ছয় দফার প্রতি ব্যাপক জনসমর্থন তৈরি হয়। জনপ্রিয়তা বেড়ে যায় বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বের। সামরিক জান্তা আইয়ুব খানের নেতৃত্বাধীন স্বৈরাচারী সরকার ১৯৬৬ সালের ৮ মে শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠায়। ছয় দফা আন্দোলন ১৯৬৬ সালের ৭ জুন নতুন মাত্রা পায়। ছয় দফাভিত্তিক ১১ দফা আন্দোলনের পথপরিক্রমায় শুরু হয় ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান। সর্বোপরি ১৯৭০-এর সাধারণ নির্বাচনে বাংলার জনগণ আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীদের পক্ষে একচেটিয়া রায় দেয়। জনগণ বিজয়ী করলেও স্বৈরাচার পাকিস্তানি শাসকরা বিজয়ী দলকে সরকার গঠন করতে না দিলে বঙ্গবন্ধু জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে স্বাধীনতার পক্ষে আন্দোলন শুরু করেন। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অভ্যুদয় ঘটে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের।