০৬:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইতিহাসের শক্তিশালী ফলের আশায় জামায়াত

  • আপডেট: ০৬:১০:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • 7

মিশু দাশ : গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দেড় বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। দীর্ঘদিনের শাসক দল আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে এবারের নির্বাচনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরিণত হয়েছে একসময়ের ঘনিষ্ঠ মিত্র বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী। রাজনৈতিক ইতিহাসে একসময় বিএনপির সঙ্গে জোট করে সরকার গঠন করেছিল জামায়াতে ইসলামী। সেই সময় মন্ত্রিসভায় দলটির দুজন প্রতিনিধি ছিলেন। তবে এবারের নির্বাচনে সেই পুরোনো জোটসঙ্গীর বিপরীতে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে যাচ্ছে জামায়াত—এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। নির্বাচনী মাঠে জামায়াতে ইসলামীকে ঘিরে বাড়তি আলোচনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সাধারণ ভোটারদের একটি অংশের মধ্যে ধারণা তৈরি হয়েছে, এবারের নির্বাচনে দলটি তাদের ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী ফলাফল অর্জন করতে পারে। এর ফলে দীর্ঘ সময় ধরে ‘গোপনে থাকা’ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বাইরে এসে জামায়াত আবার প্রকাশ্যে সক্রিয় হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, গণ-অভ্যুত্থানের পর সৃষ্ট রাজনৈতিক শূন্যতা দক্ষতার সঙ্গে কাজে লাগিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির সাংগঠনিক তৎপরতা, মাঠপর্যায়ের উপস্থিতি এবং ধারাবাহিক প্রচারণা নির্বাচনী রাজনীতিতে নতুন গতি এনেছে। নির্বাচনী প্রচারণায় জামায়াতের নেতা-কর্মীদের বক্তব্য অনেক ভোটারের মধ্যেই সাড়া ফেলছে। দলটি নিজেদের উপস্থাপন করছে ইসলামি মূল্যবোধনির্ভর একটি ‘পরিচ্ছন্ন ও নৈতিক বিকল্প’ হিসেবে, যা দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক হতাশার প্রেক্ষাপটে কিছু ভোটারের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। এদিকে বিএনপিও তাদের ঐতিহ্যবাহী সমর্থনভিত্তি ধরে রাখতে জোরালো প্রচারণা চালাচ্ছে। ফলে আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে এবারের নির্বাচন কেবল ক্ষমতার প্রশ্ন নয়, বরং বিরোধী রাজনীতির নেতৃত্ব ও ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণের ক্ষেত্র হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ইতিহাসের শক্তিশালী ফলের আশায় জামায়াত

ইতিহাসের শক্তিশালী ফলের আশায় জামায়াত

আপডেট: ০৬:১০:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মিশু দাশ : গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দেড় বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। দীর্ঘদিনের শাসক দল আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে এবারের নির্বাচনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরিণত হয়েছে একসময়ের ঘনিষ্ঠ মিত্র বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী। রাজনৈতিক ইতিহাসে একসময় বিএনপির সঙ্গে জোট করে সরকার গঠন করেছিল জামায়াতে ইসলামী। সেই সময় মন্ত্রিসভায় দলটির দুজন প্রতিনিধি ছিলেন। তবে এবারের নির্বাচনে সেই পুরোনো জোটসঙ্গীর বিপরীতে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে যাচ্ছে জামায়াত—এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। নির্বাচনী মাঠে জামায়াতে ইসলামীকে ঘিরে বাড়তি আলোচনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সাধারণ ভোটারদের একটি অংশের মধ্যে ধারণা তৈরি হয়েছে, এবারের নির্বাচনে দলটি তাদের ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী ফলাফল অর্জন করতে পারে। এর ফলে দীর্ঘ সময় ধরে ‘গোপনে থাকা’ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বাইরে এসে জামায়াত আবার প্রকাশ্যে সক্রিয় হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, গণ-অভ্যুত্থানের পর সৃষ্ট রাজনৈতিক শূন্যতা দক্ষতার সঙ্গে কাজে লাগিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির সাংগঠনিক তৎপরতা, মাঠপর্যায়ের উপস্থিতি এবং ধারাবাহিক প্রচারণা নির্বাচনী রাজনীতিতে নতুন গতি এনেছে। নির্বাচনী প্রচারণায় জামায়াতের নেতা-কর্মীদের বক্তব্য অনেক ভোটারের মধ্যেই সাড়া ফেলছে। দলটি নিজেদের উপস্থাপন করছে ইসলামি মূল্যবোধনির্ভর একটি ‘পরিচ্ছন্ন ও নৈতিক বিকল্প’ হিসেবে, যা দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক হতাশার প্রেক্ষাপটে কিছু ভোটারের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। এদিকে বিএনপিও তাদের ঐতিহ্যবাহী সমর্থনভিত্তি ধরে রাখতে জোরালো প্রচারণা চালাচ্ছে। ফলে আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে এবারের নির্বাচন কেবল ক্ষমতার প্রশ্ন নয়, বরং বিরোধী রাজনীতির নেতৃত্ব ও ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণের ক্ষেত্র হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।