চট্টগ্রাম ব্যুরো : চট্টগ্রামের উত্তর ফটিকছড়ির দাঁতমারা ইউনিয়নের চিহ্নিত সন্ত্রাসী যুবদল কর্মী জিয়াউল কবির প্রকাশ ঘোষনা কবির (৩০) গ্রেপ্তার হয়েছেন। এলাকায় ‘কসাই কবির’ নামে পরিচিত এই সন্ত্রাসীকে রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় দাঁতমারা ইউনিয়নের হেঁয়াকো বাজার এলাকার বেগবাজারের একটি স-মিল থেকে গ্রেপ্তার করে ভূজপুর থানা পুলিশ। গ্রেপ্তার কবির হেয়াকোঁ সরকারপাড়া গ্রামের ফরিদ প্রকাশ কসাই ফরিদের ছেলে। স্থানীয় সূত্র জানায়, তিনি ভূজপুর থানা যুবদলের সাবেক সভাপতি নুরুল আমিনের ঘনিষ্ঠ অনুসারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কসাই কবিরের বিরুদ্ধে ভূজপুর থানায় হত্যা চেষ্টাসহ একাধিক মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং অসংখ্য সাধারণ ডায়েরি (জিডি) রয়েছে। এর মধ্যে মামলা নং ২২/২৫ ও ১২/২৬ উল্লেখযোগ্য। ভূজপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে সূর্যোদয়কে বলেন, গ্রেপ্তারকৃত কবির দাঁতমারা ইউনিয়নের চিহ্নিত সন্ত্রাসী। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা ও জিডি রয়েছে। সোমবার তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে। গত ২৪ জানুয়ারি ফটিকছড়ির হেয়াকোঁ সরকারপাড়া স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদরাসার বার্ষিক অনুষ্ঠানে দাওয়াত না দেওয়াকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ হামলার অভিযোগ রয়েছে কবিরের বিরুদ্ধে। স্থানীয় সমাজপতি তাজুলসহ অন্তত ৬ জনকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। এ ঘটনায় তাজুলের পরিবারের পক্ষ থেকে ভূজপুর থানায় মামলা (নং ১২/২৬) দায়ের করা হয়। মামলার পর থেকেই কবির ও তার সহযোগীরা তাজুলের পরিবারকে লাগাতার হুমকি দিয়ে আসছিল বলে অভিযোগ। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, রোববার সকালে কবির ও তার ভাই জসিম তাজুলের বাড়ির সামনে গিয়ে প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে কবির পালিয়ে যায়। পরে সন্ধ্যায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এদিকে কসাই কবির গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই হেয়াকোঁ এলাকায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেও স্থানীয়দের দাবি—তার কাছে থাকা অবৈধ অস্ত্র দ্রুত উদ্ধার করতে হবে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিভিন্ন সময় তাকে দেশীয় অস্ত্র হাতে বাজারে মহড়া দিতে দেখা গেছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, জুলাই অভ্যুত্থানের পর কসাই কবির আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। ভূজপুর থানা যুবদলের সাবেক সভাপতি নুরুল আমিনের শেল্টারে এলাকায় ব্যাপক চাঁদাবাজি শুরু করে সে। হেয়াকোঁ বাজারের শ্রমিক থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ, সমাজকর্মী এমনকি সাংবাদিকরাও তার নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর বিভিন্ন পণ্যবাহী গাড়ি থেকে চাঁদা আদায়, জায়গা দখল, মাদক ব্যবসাসহ নানা অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে কবির। এছাড়াও সংবাদ প্রকাশের জেরে স্থানীয় সাংবাদিক জীবন মুছাকে তুলে নেওয়ার হুমকি, ছাত্রদল কর্মী শিপন ও নাছিরকে হাত-পা কেটে পঙ্গু করে দেওয়ার হুমকির অভিযোগও রয়েছে কবিরের বিরুদ্ধে। এসব হুমকির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে থানায় একাধিক সাধারণ ডায়েরি করা হয়। তার নানামুখী অপরাধ কর্মকাণ্ডে হেয়াকোঁ বাজার ও আশপাশের এলাকার ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে জিম্মি হয়ে পড়েছিলেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। এলাকাবাসী বলছেন, কসাই কবির গ্রেপ্তার হলেও তার সহযোগী ও পৃষ্ঠপোষকদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে না পারলে অপরাধ দমন সম্ভব হবে না।
০২:৩৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:









