স্টাফ রিপোর্টার : সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে শেরপুর-৩ আসনে নির্বাচনী ইশতেহার পাঠের ঝিনাইগাতীর অনুষ্ঠানটি ঝুঁকিপূর্ন ছিল। অনুষ্ঠানে সামনের সারিতে বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে বিরোধে লাশ হলেন শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিম (৪২)। সংঘর্ষের নেপথ্যে কী তার অনুসন্ধান করতে গিয়ে বিভিন্ন তথ্য উঠে এসেছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় বর্তমানে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল বুধবার (২৮ জানুয়ারি) ঝিনাইগাতী উপজেলা মিনি স্টেডিয়ামে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সব জাতীয় নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নিয়ে নির্বাচনি ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সকাল থেকেই বিভিন্ন দলের প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা অনুষ্ঠানস্থলে জড়ো হতে থাকেন কিন্তু বিকেল ৩টার দিকে প্রার্থীরা মঞ্চে আসার পর সামনের সারিতে বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের কর্মীদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া শুরু হয়। এ সময় সভামঞ্চের সামনে থাকা কয়েকশ চেয়ার ও বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। সংঘর্ষে দুই পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হন। স্থানীয় বাসিন্দারা আহতদের উদ্ধার করে ঝিনাইগাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।বিএনপি ও জামায়াতের সংঘর্ষের সময় শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি রেজাউল করিম নিহত আহত হওয়ারর পর বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাত ৯টা ২০ মিনিটে জানাযায়, ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। জেলা জামায়াতের আমির হাফিজুর রহমান রাত ১০টার দিকে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নিহত রেজাউল করিম শ্রীবরদী উপজেলার ফতেহপুর ফাজিল মাদরাসার আরবি বিভাগের প্রভাষক ছিলেন। হামলার পর জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী নূরুজ্জামান বাদল বলেন, বিএনপি ও তাদের সমর্থকরা পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালিয়েছেন। এতে আমাদের অন্তত ১৫ জন কর্মী আহত হন। তাদের মধ্যে তিন জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি রেজাউল করিমের মৃত্যু হয়। হামলার পর বিএনপির প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল জানান, জামায়াত পরিকল্পিতভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য এই হামলা চালিয়েছে। এতে বিএনপির অনেক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। ঝিনাইগাতীর ইউএনও আশরাফুল আলম বলেন, সব প্রার্থীকে নিয়ে ইশতেহার অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু বসা নিয়ে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
০৬:১১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:









