০৩:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ফোন নিয়ে প্রবেশের ভোটকেন্দ্রে নিষেধাজ্ঞার কারণে আলোচনা-সমালোচনা

  • আপডেট: ০২:২০:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • 21

স্টাফ রিপোর্টার : আসন্ন গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে মোবাইলফোন নিয়ে প্রবেশে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নিষেধাজ্ঞার নতুন সিদ্ধান্তের কারণে ভোটারদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। কেউ বলছেন, বৃদ্ধ ও দূর থেকে আসা ভোটারদের ভোগান্তি হবে। আবার কেউ বলছেন, নির্বাচনে অনিয়ম হলে তা প্রচারে আসবে না। এ কারণে ইসিকে আবারও বিষয়টি বিবেচনার অনুরোধ করছেন অনেকেই। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে এই নির্দেশনা জারি করেছে ইসি। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা নির্দিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা ও ‘নির্বাচন সুরক্ষা ২০২৬’ অ্যাপ ব্যবহারকারী দুই জন আনসার সদস্য ছাড়া কেউ মোবাইল ফোন সঙ্গে রাখতে পারবেন না। এই সিদ্ধান্তের সমালোচকরা বলছেন, যারা গ্রাম বা দূরবর্তী এলাকা থেকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ভোট দিতে আসবেন, তাদের জন্য মোবাইল ফোন ছাড়া থাকা বড় সমস্যা তৈরি করবে। অনেক ভোটারই যাতায়াতের সময় পরিবার বা পরিবহন সংক্রান্ত যোগাযোগের জন্য ফোনের ওপর নির্ভর করেন। বিশেষ করে নারী ভোটার, বয়স্ক ব্যক্তি এবং অসুস্থদের ক্ষেত্রে ফোন ছাড়া কয়েক ঘণ্টা ভোটকেন্দ্রে অবস্থান করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তবে ইসি বলছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত। তবে ভোটারদের একটি অংশ মনে করছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের দায় ভোটারদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া ঠিক নয়। তাদের মতে, ভোটগ্রহণের স্বচ্ছতা নিশ্চিতের পাশাপাশি ভোটারদের বাস্তব সমস্যাও বিবেচনায় নেওয়া দরকার ছিল। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, কেউ ভুল করে ফোন নিয়ে এলে প্রিসাইডিং অফিসারের কাছে জমা রেখে ভোট দিতে পারবেন। কিন্তু সমালোচকদের প্রশ্ন, হাজার হাজার ভোটারের ফোন জমা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বাস্তবে কতটা সম্ভব এবং এতে আরও বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে না তো? এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি এখন এখন আলোচনার-সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। বিএনপি ও এনসিপির নেতাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে পোস্টে লিখেছেন, ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল ফোন নিয়ে না যাওয়ার কোনও লজিক নেই। এমনটা আগে কখনও দেখিনি। এটার মানে কোনও বিপদ হলেও কল করে কাউকে জানানো যাবে না। অনেকে নিরাপত্তাহীনতার জন্য মোবাইল নিতে না পারলে ভোট দিতেও যাবেন না। সিসি ক্যামেরা থাকলেও তাৎক্ষণিক কোনও কাজে দেবে না। মোবাইলের মাধ্যমে সাংবাদিকরা যেভাবে ভূমিকা রাখতে পারবে, অনিয়ম জালিয়াতির চিত্র দেখাতে পারবে তা ক্যামেরা পারবে না। কেন্দ্র দখল-ভোট চুরি ঠেকাতে ব্যক্তিগত ফোন কার্যকর হবে। সঙ্গে সঙ্গেই ভিডিও রেকর্ড হয়ে যাবে। হয়তো এসব জালিয়াতির ভিডিও কেউ করতে না পারে সে জন্য ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করেছে নির্বাচন কমিশন। এটা সুস্পষ্টভাবে ভোট চুরির সুযোগ করে দেওয়া। অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা উচিত। এদিকে চিঠিটি প্রকাশের পর থেকে গণমাধ্যমগুলোতে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। সাংবাদিকরাও মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না বলে অনেকে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, চিঠির ভাষা দেখে বুঝা যায়, সাংবাদিকরাও এর মধ্যে পড়বে। তারাও মোবাইল ফোন নিয়ে ঢুকতে পারবেন না।

সর্বাধিক পঠিত

ফোন নিয়ে প্রবেশের ভোটকেন্দ্রে নিষেধাজ্ঞার কারণে আলোচনা-সমালোচনা

আপডেট: ০২:২০:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার : আসন্ন গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে মোবাইলফোন নিয়ে প্রবেশে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নিষেধাজ্ঞার নতুন সিদ্ধান্তের কারণে ভোটারদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। কেউ বলছেন, বৃদ্ধ ও দূর থেকে আসা ভোটারদের ভোগান্তি হবে। আবার কেউ বলছেন, নির্বাচনে অনিয়ম হলে তা প্রচারে আসবে না। এ কারণে ইসিকে আবারও বিষয়টি বিবেচনার অনুরোধ করছেন অনেকেই। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে এই নির্দেশনা জারি করেছে ইসি। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা নির্দিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা ও ‘নির্বাচন সুরক্ষা ২০২৬’ অ্যাপ ব্যবহারকারী দুই জন আনসার সদস্য ছাড়া কেউ মোবাইল ফোন সঙ্গে রাখতে পারবেন না। এই সিদ্ধান্তের সমালোচকরা বলছেন, যারা গ্রাম বা দূরবর্তী এলাকা থেকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ভোট দিতে আসবেন, তাদের জন্য মোবাইল ফোন ছাড়া থাকা বড় সমস্যা তৈরি করবে। অনেক ভোটারই যাতায়াতের সময় পরিবার বা পরিবহন সংক্রান্ত যোগাযোগের জন্য ফোনের ওপর নির্ভর করেন। বিশেষ করে নারী ভোটার, বয়স্ক ব্যক্তি এবং অসুস্থদের ক্ষেত্রে ফোন ছাড়া কয়েক ঘণ্টা ভোটকেন্দ্রে অবস্থান করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তবে ইসি বলছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত। তবে ভোটারদের একটি অংশ মনে করছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের দায় ভোটারদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া ঠিক নয়। তাদের মতে, ভোটগ্রহণের স্বচ্ছতা নিশ্চিতের পাশাপাশি ভোটারদের বাস্তব সমস্যাও বিবেচনায় নেওয়া দরকার ছিল। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, কেউ ভুল করে ফোন নিয়ে এলে প্রিসাইডিং অফিসারের কাছে জমা রেখে ভোট দিতে পারবেন। কিন্তু সমালোচকদের প্রশ্ন, হাজার হাজার ভোটারের ফোন জমা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বাস্তবে কতটা সম্ভব এবং এতে আরও বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে না তো? এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি এখন এখন আলোচনার-সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। বিএনপি ও এনসিপির নেতাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে পোস্টে লিখেছেন, ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল ফোন নিয়ে না যাওয়ার কোনও লজিক নেই। এমনটা আগে কখনও দেখিনি। এটার মানে কোনও বিপদ হলেও কল করে কাউকে জানানো যাবে না। অনেকে নিরাপত্তাহীনতার জন্য মোবাইল নিতে না পারলে ভোট দিতেও যাবেন না। সিসি ক্যামেরা থাকলেও তাৎক্ষণিক কোনও কাজে দেবে না। মোবাইলের মাধ্যমে সাংবাদিকরা যেভাবে ভূমিকা রাখতে পারবে, অনিয়ম জালিয়াতির চিত্র দেখাতে পারবে তা ক্যামেরা পারবে না। কেন্দ্র দখল-ভোট চুরি ঠেকাতে ব্যক্তিগত ফোন কার্যকর হবে। সঙ্গে সঙ্গেই ভিডিও রেকর্ড হয়ে যাবে। হয়তো এসব জালিয়াতির ভিডিও কেউ করতে না পারে সে জন্য ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করেছে নির্বাচন কমিশন। এটা সুস্পষ্টভাবে ভোট চুরির সুযোগ করে দেওয়া। অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা উচিত। এদিকে চিঠিটি প্রকাশের পর থেকে গণমাধ্যমগুলোতে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। সাংবাদিকরাও মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না বলে অনেকে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, চিঠির ভাষা দেখে বুঝা যায়, সাংবাদিকরাও এর মধ্যে পড়বে। তারাও মোবাইল ফোন নিয়ে ঢুকতে পারবেন না।