০৫:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সৌদি আরবে সম্পত্তি কিনতে পারবেন বিদেশি নাগরিকরা

  • আপডেট: ০২:৩৪:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ জুলাই ২০২৫
  • 171

লিটন তালুকদার, সৌদি আরব ব্যুরো : সৌদি আরবের নতুন আইন অনুযায়ী এবার নির্দিষ্ট কিছু শহরে সম্পত্তির মালিক হতে পারবেন বিদেশি নাগরিকরা। সম্প্রতি অনুমোদিত এই আইনের ফলে রিয়াদ ও জেদ্দা শহরের নির্ধারিত এলাকায় বিদেশিরা সম্পত্তি কিনতে পারবেন। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে আইনটি। সৌদি আরব প্রথমবারের মতো বিদেশি নাগরিকদের জন্য দেশটির সম্পত্তি বাজার খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। সম্প্রতি সৌদি মন্ত্রিসভা এমন একটি নতুন সম্পত্তি আইন অনুমোদন করেছে, যার ফলে ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে বিদেশিরাও সৌদি আরবে নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে সম্পত্তির মালিক হতে পারবেন। সৌদি প্রেস এজেন্সির খবরে বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকার ও আবাসনমন্ত্রী মাজিদ বিন আবদুল্লাহ আল হুগেইল এই সিদ্ধান্তকে সৌদি আরবের রিয়েল এস্টেট খাতের সংস্কার প্রচেষ্টার স্বাভাবিক অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, এটি বিদেশি বিনিয়োগ উৎসাহিত করবে এবং দেশের সম্পত্তি খাতে নতুন গতি আনবে। নতুন আইনের অধীনে রিয়াদ ও জেদ্দার মতো বড় শহরগুলোতে বিদেশিদের সম্পত্তি কেনার অনুমতি থাকবে। তবে পবিত্র শহর মক্কা ও মদিনায় মালিকানা গ্রহণে থাকবে বিশেষ নিয়ম ও শর্ত। নতুন এ আইন ঘোষণার পর সৌদি আরবের আবাসন খাতে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বেড়েছে দেশটির রিয়েল এস্টেট কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম। এ বিষয়ে বিস্তারিত নীতিমালা ও প্রয়োগ পদ্ধতি শিগগিরই জানাবে দেশটির রিয়েল এস্টেট জেনারেল অথরিটি। সৌদি রিয়েল এস্টেট কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ করবে কোথায় বিদেশিরা সম্পত্তি কিনতে পারবেন এবং সরকারি গেজেটে আইন প্রকাশের ১৮০ দিনের মধ্যে ‘Istitlaa’ প্ল্যাটফর্মে বিস্তারিত দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে। এই আইন ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে পূর্ণরূপে কার্যকর হবে। এটি সৌদি প্রিমিয়াম রেসিডেন্স প্রোগ্রাম এবং উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদভুক্ত দেশগুলোর নাগরিকদের সম্পত্তি মালিকানা নীতির সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত সৌদি অর্থনীতিতে বহুমাত্রিক ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। সৌদি চেম্বার ফেডারেশনের ন্যাশনাল ভ্যালুয়েশন কমিটির প্রধান হামাদ আল-শুওয়াইর বলেন, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাজারে গুণগত পরিবর্তন আনবে এবং সরবরাহ ও চাহিদার ভারসাম্য নিশ্চিত করবে। রিয়েল এস্টেট বিশ্লেষকরা বলছেন, সৌদির বিশাল ভূখণ্ডের এখনও মাত্র ০.৩৬ শতাংশ উন্নয়নের আওতায় এসেছে। ফলে এই নতুন আইনের মাধ্যমে দেশের প্রাকৃতিক ও ভৌগোলিক সম্পদ ব্যবহারে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে, যা ভিশন ২০৩০-এর লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়ক হবে।

সর্বাধিক পঠিত

বুলেট ট্রেনে বেইজিং পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী

সৌদি আরবে সম্পত্তি কিনতে পারবেন বিদেশি নাগরিকরা

আপডেট: ০২:৩৪:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ জুলাই ২০২৫

লিটন তালুকদার, সৌদি আরব ব্যুরো : সৌদি আরবের নতুন আইন অনুযায়ী এবার নির্দিষ্ট কিছু শহরে সম্পত্তির মালিক হতে পারবেন বিদেশি নাগরিকরা। সম্প্রতি অনুমোদিত এই আইনের ফলে রিয়াদ ও জেদ্দা শহরের নির্ধারিত এলাকায় বিদেশিরা সম্পত্তি কিনতে পারবেন। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে আইনটি। সৌদি আরব প্রথমবারের মতো বিদেশি নাগরিকদের জন্য দেশটির সম্পত্তি বাজার খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। সম্প্রতি সৌদি মন্ত্রিসভা এমন একটি নতুন সম্পত্তি আইন অনুমোদন করেছে, যার ফলে ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে বিদেশিরাও সৌদি আরবে নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে সম্পত্তির মালিক হতে পারবেন। সৌদি প্রেস এজেন্সির খবরে বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকার ও আবাসনমন্ত্রী মাজিদ বিন আবদুল্লাহ আল হুগেইল এই সিদ্ধান্তকে সৌদি আরবের রিয়েল এস্টেট খাতের সংস্কার প্রচেষ্টার স্বাভাবিক অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, এটি বিদেশি বিনিয়োগ উৎসাহিত করবে এবং দেশের সম্পত্তি খাতে নতুন গতি আনবে। নতুন আইনের অধীনে রিয়াদ ও জেদ্দার মতো বড় শহরগুলোতে বিদেশিদের সম্পত্তি কেনার অনুমতি থাকবে। তবে পবিত্র শহর মক্কা ও মদিনায় মালিকানা গ্রহণে থাকবে বিশেষ নিয়ম ও শর্ত। নতুন এ আইন ঘোষণার পর সৌদি আরবের আবাসন খাতে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বেড়েছে দেশটির রিয়েল এস্টেট কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম। এ বিষয়ে বিস্তারিত নীতিমালা ও প্রয়োগ পদ্ধতি শিগগিরই জানাবে দেশটির রিয়েল এস্টেট জেনারেল অথরিটি। সৌদি রিয়েল এস্টেট কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ করবে কোথায় বিদেশিরা সম্পত্তি কিনতে পারবেন এবং সরকারি গেজেটে আইন প্রকাশের ১৮০ দিনের মধ্যে ‘Istitlaa’ প্ল্যাটফর্মে বিস্তারিত দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে। এই আইন ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে পূর্ণরূপে কার্যকর হবে। এটি সৌদি প্রিমিয়াম রেসিডেন্স প্রোগ্রাম এবং উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদভুক্ত দেশগুলোর নাগরিকদের সম্পত্তি মালিকানা নীতির সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত সৌদি অর্থনীতিতে বহুমাত্রিক ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। সৌদি চেম্বার ফেডারেশনের ন্যাশনাল ভ্যালুয়েশন কমিটির প্রধান হামাদ আল-শুওয়াইর বলেন, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাজারে গুণগত পরিবর্তন আনবে এবং সরবরাহ ও চাহিদার ভারসাম্য নিশ্চিত করবে। রিয়েল এস্টেট বিশ্লেষকরা বলছেন, সৌদির বিশাল ভূখণ্ডের এখনও মাত্র ০.৩৬ শতাংশ উন্নয়নের আওতায় এসেছে। ফলে এই নতুন আইনের মাধ্যমে দেশের প্রাকৃতিক ও ভৌগোলিক সম্পদ ব্যবহারে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে, যা ভিশন ২০৩০-এর লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়ক হবে।