১১:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মালয়েশিয়ার সিদ্ধান্তের কারণে শ্রমবাজার খুলতে আরও সময় লাগতে পারে

  • আপডেট: ১০:০৭:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬
  • 7

সূর্যোদয় ডেস্ক : || : ২০২৪ সালের ১ জুন থেকে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বিদেশিদের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। গতকাল ২১ জুন রবিবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়া সফরে যান। আজ ২২ জুন সোমবার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহীমের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান । মালয়েশিয়াকে দ্রুত শ্রমবাজার খুলে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। তবে দুই দেশের কূটনৈতিক পর্যায়ে কথা বলে জানাগেছে, পদ্ধতিগত কারণে এখনই কিংবা আগামী কয়েকমাসের মধ্যে শ্রমবাজার খোলার সম্ভাবনা নেই। নিয়োগ পদ্ধতি চূড়ান্ত করে সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার পর শ্রমবাজার খুলতে পারে। বাস্তবতা হচ্ছে খুব দ্রুত খুলে দেওয়ার সম্ভাবনা নেই। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হলেও মালয়েশিয়ার সিদ্ধান্তের কারণে শ্রমবাজার খুলতে আরও সময় লাগতে পারে। কী প্রক্রিয়ায় দেশটিতে নতুন করে কর্মী যাবে, সেই বিষয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেয়নি মালয়েশিয়ার সরকার। ঢাকা ও মালয়েশিয়ার কূটনৈতিক সুত্র বলছে, সে দেশে সাধারণ বিদেশি কর্মী নিয়োগ কাঠামো সক্রিয় থাকলেও বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য গণহারে প্রবেশ চ্যানেল আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় আলোচনার অপেক্ষায় স্থগিত রয়েছে। পূর্ণাঙ্গ নিয়োগ পুনরায় শুরু করতে এবং জট দূর করতে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের কর্মকর্তারা দেশটির কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন। তবে শ্রমবাজার পুনরায় চালু হওয়ার বিষয়টি ওই দেশের সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে। জানাগেছে, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার এখন সীমিত আকারে খোলা আছে। আবার অল্প কিছু সেক্টরে কোটা আবেদন দীর্ঘমেয়াদে চালু রাখা হয়েছে। সেগুলো হচ্ছে— কৃষি, বৃক্ষরোপণ, খনি এবং নির্বাচিত পরিষেবা-শিল্প উপ-খাত। মালয়েশিয়ায় বড় আকারে শ্রমিক যায় কন্সট্রাকশন ও উৎপাদন খাতে, সেটি এখন বন্ধ আছে। এদিকে গত বছরের ২১-২২ মে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার তৃতীয় জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের সভায় ১৭ হাজার ৭৭৭ জন কর্মীর মধ্যে সেদেশে যেতে না পারা মোট ৭ হাজার ৮৭৩ জন কর্মীকে পাঠানোর জন্য সরকারি সংস্থা বোয়েসেলকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। শুধুমাত্র কনস্ট্রাকশন ও ট্যুরিজম— এই দুটি খাতে কর্মী পাঠানোর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। গত বছরের ২৫ নম্ভেম্বর এই কর্মীদের মালয়েশিয়া যাওয়া শুরু হয়। এখন পর্যন্ত প্রায় ৩ হাজার যেতে পেরেছেন। বাকিদের আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত যাওয়ার সুযোগ দেবে মালয়েশিয়া সরকার। এই প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহাদী আমিন বলেছেন, আমাদের কিছু আটকে পড়া কর্মী ছিলেন, যারা বাংলাদেশ থেকে আসতে পারেননি। এই সংখ্যাটা ৮ হাজারের মতো, এর ভেতরে একটা বড় সংখ্যা বাংলাদেশ থেকে না আসতে পারলেও আজকে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী বৈঠকের পর— মালয়েশিয়া ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছে, যারা বাকি রয়েছেন ৫ হাজারের মতো কর্মী, তাদের জন্য এই ডিসেম্বর পর্যন্ত টাইম দেওয়া হচ্ছে। যেকোনও সেক্টরে এসে ওনারা কাজ করতে পারবেন। দুই দেশের কূটনৈতিক পর্যায়ে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মালয়েশিয়া নতুন একটি পদ্ধতিতে সব দেশ থেকেই কর্মী নিতে চায়। এই পদ্ধতিতে কর্মী নিতে মালয়েশিয়াকে নতুন একটি সিস্টেম দাঁড় করাতে হবে। আগের পদ্ধতিতে এফডব্লিউসিএমএস নামের প্ল্যাটফর্ম থাকলেও মালয়েশিয়া সেই মাধ্যমে এখন আর নতুন করে কর্মী নিতে চাচ্ছে না। নতুন পদ্ধতিতে কর্মী নেওয়ার প্রক্রিয়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগ করতে চাচ্ছে সে দেশের সরকার। তবে এই ব্যবস্থা এখনও চূড়ান্ত করতে পারেনি। সেজন্য মালয়েশিয়া সরকার কর্মী নেওয়ার বিষয়ে কোনও ঘোষণা দেয়নি।

সর্বাধিক পঠিত

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রেসিডেন্টের সৌজন্য সাক্ষাৎ

মালয়েশিয়ার সিদ্ধান্তের কারণে শ্রমবাজার খুলতে আরও সময় লাগতে পারে

আপডেট: ১০:০৭:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

সূর্যোদয় ডেস্ক : || : ২০২৪ সালের ১ জুন থেকে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বিদেশিদের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। গতকাল ২১ জুন রবিবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়া সফরে যান। আজ ২২ জুন সোমবার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহীমের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান । মালয়েশিয়াকে দ্রুত শ্রমবাজার খুলে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। তবে দুই দেশের কূটনৈতিক পর্যায়ে কথা বলে জানাগেছে, পদ্ধতিগত কারণে এখনই কিংবা আগামী কয়েকমাসের মধ্যে শ্রমবাজার খোলার সম্ভাবনা নেই। নিয়োগ পদ্ধতি চূড়ান্ত করে সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার পর শ্রমবাজার খুলতে পারে। বাস্তবতা হচ্ছে খুব দ্রুত খুলে দেওয়ার সম্ভাবনা নেই। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হলেও মালয়েশিয়ার সিদ্ধান্তের কারণে শ্রমবাজার খুলতে আরও সময় লাগতে পারে। কী প্রক্রিয়ায় দেশটিতে নতুন করে কর্মী যাবে, সেই বিষয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেয়নি মালয়েশিয়ার সরকার। ঢাকা ও মালয়েশিয়ার কূটনৈতিক সুত্র বলছে, সে দেশে সাধারণ বিদেশি কর্মী নিয়োগ কাঠামো সক্রিয় থাকলেও বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য গণহারে প্রবেশ চ্যানেল আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় আলোচনার অপেক্ষায় স্থগিত রয়েছে। পূর্ণাঙ্গ নিয়োগ পুনরায় শুরু করতে এবং জট দূর করতে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের কর্মকর্তারা দেশটির কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন। তবে শ্রমবাজার পুনরায় চালু হওয়ার বিষয়টি ওই দেশের সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে। জানাগেছে, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার এখন সীমিত আকারে খোলা আছে। আবার অল্প কিছু সেক্টরে কোটা আবেদন দীর্ঘমেয়াদে চালু রাখা হয়েছে। সেগুলো হচ্ছে— কৃষি, বৃক্ষরোপণ, খনি এবং নির্বাচিত পরিষেবা-শিল্প উপ-খাত। মালয়েশিয়ায় বড় আকারে শ্রমিক যায় কন্সট্রাকশন ও উৎপাদন খাতে, সেটি এখন বন্ধ আছে। এদিকে গত বছরের ২১-২২ মে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার তৃতীয় জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের সভায় ১৭ হাজার ৭৭৭ জন কর্মীর মধ্যে সেদেশে যেতে না পারা মোট ৭ হাজার ৮৭৩ জন কর্মীকে পাঠানোর জন্য সরকারি সংস্থা বোয়েসেলকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। শুধুমাত্র কনস্ট্রাকশন ও ট্যুরিজম— এই দুটি খাতে কর্মী পাঠানোর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। গত বছরের ২৫ নম্ভেম্বর এই কর্মীদের মালয়েশিয়া যাওয়া শুরু হয়। এখন পর্যন্ত প্রায় ৩ হাজার যেতে পেরেছেন। বাকিদের আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত যাওয়ার সুযোগ দেবে মালয়েশিয়া সরকার। এই প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহাদী আমিন বলেছেন, আমাদের কিছু আটকে পড়া কর্মী ছিলেন, যারা বাংলাদেশ থেকে আসতে পারেননি। এই সংখ্যাটা ৮ হাজারের মতো, এর ভেতরে একটা বড় সংখ্যা বাংলাদেশ থেকে না আসতে পারলেও আজকে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী বৈঠকের পর— মালয়েশিয়া ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছে, যারা বাকি রয়েছেন ৫ হাজারের মতো কর্মী, তাদের জন্য এই ডিসেম্বর পর্যন্ত টাইম দেওয়া হচ্ছে। যেকোনও সেক্টরে এসে ওনারা কাজ করতে পারবেন। দুই দেশের কূটনৈতিক পর্যায়ে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মালয়েশিয়া নতুন একটি পদ্ধতিতে সব দেশ থেকেই কর্মী নিতে চায়। এই পদ্ধতিতে কর্মী নিতে মালয়েশিয়াকে নতুন একটি সিস্টেম দাঁড় করাতে হবে। আগের পদ্ধতিতে এফডব্লিউসিএমএস নামের প্ল্যাটফর্ম থাকলেও মালয়েশিয়া সেই মাধ্যমে এখন আর নতুন করে কর্মী নিতে চাচ্ছে না। নতুন পদ্ধতিতে কর্মী নেওয়ার প্রক্রিয়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগ করতে চাচ্ছে সে দেশের সরকার। তবে এই ব্যবস্থা এখনও চূড়ান্ত করতে পারেনি। সেজন্য মালয়েশিয়া সরকার কর্মী নেওয়ার বিষয়ে কোনও ঘোষণা দেয়নি।