১১:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নারায়ণহাট রেঞ্জে এসিএফের সহযোগিতায় চলছে সরকারি বাগানের গাছ পাচার

  • আপডেট: ০৭:১২:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬
  • 21

চট্টগ্রাম ব্যুরো : চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার নারায়ণহাট রেঞ্জে সরকারি বাগানের মূল্যবান গাছ অবৈধভাবে কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, বন বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে একটি চোরাই কাঠ পাচার সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় সরকারি সম্পদ ও পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নারায়ণহাট রেঞ্জের দাঁতমারা, নারায়ণহাট, বালুখালি ও ধুরুং বিট এবং হাসনাবাদ রেঞ্জের তারাখোঁ ও হাসনাবাদ বিট থেকে নিয়মিত মূল্যবান গাছ কেটে পাচার করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, নারায়ণহাট রেঞ্জের এসিএফ খান মোঃ আবরারুর রহমানের সহযোগিতায় স্থানীয় একটি চক্র এসব কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। এলাকাবাসীর ভাষ্য, চোরাই কাঠ বহনকারী প্রতিটি গাড়ি থেকে নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ কিংবা বাগানের এলাকা অনুযায়ী নির্ধারিত অর্থের বিনিময়ে গাছ কাটার মৌখিক চুক্তি করা হয়। ফলে নির্বিঘ্নে সরকারি বাগান থেকে গাছ কেটে পাচার করা সম্ভব হচ্ছে বলে দাবি তাদের। স্থানীয়দের অভিযোগ, বন বিভাগের ভেতর থেকেই তথ্য ফাঁস হওয়ায় অভিযান পরিচালনার আগেই পাচারকারীরা সতর্ক হয়ে যায়। ফলে অবৈধভাবে কাঠ পরিবহন ও বিক্রি অব্যাহত থাকলেও জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। এ কারণে কেউ প্রতিবাদ করতেও সাহস পাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন অনেক বাসিন্দা। বাংলাদেশ বন আইন, ১৯২৭-এর ২৬ ধারা অনুযায়ী সংরক্ষিত বন থেকে গাছ কাটা দণ্ডনীয় অপরাধ। এ অপরাধ প্রমাণিত হলে ৬ মাস থেকে ৩ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। পরিবেশবিদদের মতে, নির্বিচারে গাছ কাটা অব্যাহত থাকলে জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে, মাটিক্ষয়ের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাবে এবং স্থানীয় কৃষি ও মানুষের জীবনযাত্রায় দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এ ঘটনায় স্থানীয় জনগণ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে অবৈধ গাছ কাটা ও কাঠ পাচার বন্ধে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, অভিযুক্ত খান মোঃ আবরারুর রহমান প্রতিবেদকের পরিচয় ফোন নাম্বার ব্লক করে দেয়ার কারণে তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

সর্বাধিক পঠিত

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রেসিডেন্টের সৌজন্য সাক্ষাৎ

নারায়ণহাট রেঞ্জে এসিএফের সহযোগিতায় চলছে সরকারি বাগানের গাছ পাচার

আপডেট: ০৭:১২:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

চট্টগ্রাম ব্যুরো : চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার নারায়ণহাট রেঞ্জে সরকারি বাগানের মূল্যবান গাছ অবৈধভাবে কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, বন বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে একটি চোরাই কাঠ পাচার সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় সরকারি সম্পদ ও পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নারায়ণহাট রেঞ্জের দাঁতমারা, নারায়ণহাট, বালুখালি ও ধুরুং বিট এবং হাসনাবাদ রেঞ্জের তারাখোঁ ও হাসনাবাদ বিট থেকে নিয়মিত মূল্যবান গাছ কেটে পাচার করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, নারায়ণহাট রেঞ্জের এসিএফ খান মোঃ আবরারুর রহমানের সহযোগিতায় স্থানীয় একটি চক্র এসব কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। এলাকাবাসীর ভাষ্য, চোরাই কাঠ বহনকারী প্রতিটি গাড়ি থেকে নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ কিংবা বাগানের এলাকা অনুযায়ী নির্ধারিত অর্থের বিনিময়ে গাছ কাটার মৌখিক চুক্তি করা হয়। ফলে নির্বিঘ্নে সরকারি বাগান থেকে গাছ কেটে পাচার করা সম্ভব হচ্ছে বলে দাবি তাদের। স্থানীয়দের অভিযোগ, বন বিভাগের ভেতর থেকেই তথ্য ফাঁস হওয়ায় অভিযান পরিচালনার আগেই পাচারকারীরা সতর্ক হয়ে যায়। ফলে অবৈধভাবে কাঠ পরিবহন ও বিক্রি অব্যাহত থাকলেও জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। এ কারণে কেউ প্রতিবাদ করতেও সাহস পাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন অনেক বাসিন্দা। বাংলাদেশ বন আইন, ১৯২৭-এর ২৬ ধারা অনুযায়ী সংরক্ষিত বন থেকে গাছ কাটা দণ্ডনীয় অপরাধ। এ অপরাধ প্রমাণিত হলে ৬ মাস থেকে ৩ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। পরিবেশবিদদের মতে, নির্বিচারে গাছ কাটা অব্যাহত থাকলে জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে, মাটিক্ষয়ের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাবে এবং স্থানীয় কৃষি ও মানুষের জীবনযাত্রায় দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এ ঘটনায় স্থানীয় জনগণ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে অবৈধ গাছ কাটা ও কাঠ পাচার বন্ধে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, অভিযুক্ত খান মোঃ আবরারুর রহমান প্রতিবেদকের পরিচয় ফোন নাম্বার ব্লক করে দেয়ার কারণে তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।