Dhaka ০১:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ জুন ২০২৪, ৯ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

আশুলিয়ায় মুক্তিপণ ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:২৬:২৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জুন ২০২৩
  • 13

মোঃ বাবুল শেখ, স্টাফ রিপোর্টার : সাভারের আশুলিয়ায় ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের এক অফিস সহায়ককে আটক করে মুক্তিপন আদায়ের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের নিকট হতে মুক্তপণ হিসেবে আদায় করা নগদ ৪০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
২২ জুন বৃহস্পতিবার সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেন আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) এমদাদুল হক।
এর আগে গত ২১ জুন বুধবার রাতে ধামরাই থানাধীন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- ধামরাইয়ের বাথুলীয়া এলাকার আব্দুল খালেকের ছেলে শাহিন (৩৮) ও খুলনা জেলার চিতলমারী থানার বাসিন্দা আতা (২৮)। তারা আশুলিয়ার বাইপাইল ও চিত্রশাইল এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতো বলে জানা যায় । এ মামলায় বিপ্লব (৩৪) ও স্বপ্না (৩২) নামের আরও দুই আসামি পলাতক রয়েছে। এ ঘটনায় এর আগে সাইদুর রহমান নামের আরও এক আসামীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

ভুক্তভোগীর নাম মশিউর রহমান (৩৭), তিনি ডিএমপির কদমতলী এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে ইসলামী ব্যাংকে অফিস সহায়ক হিসেবে চাকরি করতেন বলে জানা যায়। তিনি পটুয়াখালী জেলার মির্জাগঞ্জ থানার বাসিন্দা। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ জুন মশিউর রহমান তার ভাই আব্দুর সাকুরের সাথে দেখা করার জন্য ঢাকা থেকে জাহাঙ্গীরনগরের উদ্দেশ্যে বাস যোগে রওনা করেন। বাসের মধ্যে ঘুমিয়ে পরায় তার পক্ষে জাহাঙ্গীরনগর নামা সম্ভব হয়নি। ঘুম থেকে উঠে তিনি দেখতে পান বাসটি পলাশবাড়ী স্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে আছে। তাই তিনি তাড়াহুড়া করে বাস থেকে নেমে পড়েন। ততক্ষণে বিকাল সাড়ে ৩টা বেজে যায়। বাস থেকে নামার পর পরই সেখানে দাড়িয়ে থাকা শাহিন, আতা ও বিপ্লব ভুক্তভোগীকে ঘিরিয়া দাড়ায় এবং কথা আছে বলিয়া কৌশলে তাকে আশুলিয়ার পলাশবাড়ী এলাকার ওসমান গণির ৮ম তলা বিল্ডিংয়ের ২য় তলার পশ্চিম পাশে সাইদুর হোসেন (৩২) এর বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে মামলার অন্যান্য আসামিরা উপস্থিত ছিলেন। পরে তারা যোগসাজশে ভুক্তভোগীকে মশিউর রহমানকে মারপিট করে তার মানিব্যাগে থাকা ১২ হাজার টাকা নিয়ে নেয়। এরপরে অভিযুক্ত আসামিরা ভুক্তভোগীর নিকট আরও ১০ লক্ষ টাকা দাবি করে। টাকা না দিলে মেরে ফেলবে বলে হুমকি প্রদান করে। পরে তাদের দেওয়া একটি বিকাশ নাম্বারে ভুক্তভোগীর স্ত্রী দুইবারে ৪০ হাজার টাকা প্রেরণ করে। এছাড়াও ভুক্তভোগীর বিভিন্ন আত্মীয়-স্বজনের নিকট টাকা দাবি করলে তারা তার বিকাশ, সেলফিন ও নগদ একাউন্টে ১ লক্ষ ৩২ হাজার টাকা পাঠায়। আসামীরা সেই টাকা ও ভুক্তভোগীর বিকাশ একাউন্টে থাকা ২৫ হাজার টাকা সহ সর্বমোট ১ লক্ষ ৫৭ হাজার টাকা উত্তোলন করিয়া নেয়। এছাড়াও ভুক্তভোগীর অন্য ব্যাংক একাউন্ট থেকে পলাশবাড়ী এটিএম বুথের মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকা ও বিকাশের মাধ্যমে ৩৫ হাজার টাকা উত্তোলন করিয়া নেয়। আসামীরা ভুক্তভোগীর নিকট হইতে টাকা নেওয়ার পর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে দুই জন আসামী ভুক্তভোগীকে বাসা হইতে পলাশবাড়ী বাসষ্ট্যান্ড পর্যন্ত পৌঁছাইয়া দিয়া চলিয়া যায়। পরে এ ঘটনায় আশুলিয়া থানায় একটি অভিযোগ দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে সাইদুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে।

এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার (এসআই) এমদাদুল হক বলেন, গতকাল রাতে ঢাকার ধামরাইয়ে অভিযান চালিয়ে এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার দুই পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় তাদের নিকট হতে মুক্তপণ হিসেবে আদায় করা নগদ ৪০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামিকে আজ সকালে আদালতে পাঠানো হয়েছে। সেই সাথে এই মামলার বাকী পলাতক আসামিদেরকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

Tag :
সর্বাধিক পঠিত

আশুলিয়ায় মুক্তিপণ ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার

Update Time : ০১:২৬:২৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জুন ২০২৩

মোঃ বাবুল শেখ, স্টাফ রিপোর্টার : সাভারের আশুলিয়ায় ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের এক অফিস সহায়ককে আটক করে মুক্তিপন আদায়ের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের নিকট হতে মুক্তপণ হিসেবে আদায় করা নগদ ৪০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
২২ জুন বৃহস্পতিবার সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেন আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) এমদাদুল হক।
এর আগে গত ২১ জুন বুধবার রাতে ধামরাই থানাধীন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- ধামরাইয়ের বাথুলীয়া এলাকার আব্দুল খালেকের ছেলে শাহিন (৩৮) ও খুলনা জেলার চিতলমারী থানার বাসিন্দা আতা (২৮)। তারা আশুলিয়ার বাইপাইল ও চিত্রশাইল এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতো বলে জানা যায় । এ মামলায় বিপ্লব (৩৪) ও স্বপ্না (৩২) নামের আরও দুই আসামি পলাতক রয়েছে। এ ঘটনায় এর আগে সাইদুর রহমান নামের আরও এক আসামীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

ভুক্তভোগীর নাম মশিউর রহমান (৩৭), তিনি ডিএমপির কদমতলী এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে ইসলামী ব্যাংকে অফিস সহায়ক হিসেবে চাকরি করতেন বলে জানা যায়। তিনি পটুয়াখালী জেলার মির্জাগঞ্জ থানার বাসিন্দা। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ জুন মশিউর রহমান তার ভাই আব্দুর সাকুরের সাথে দেখা করার জন্য ঢাকা থেকে জাহাঙ্গীরনগরের উদ্দেশ্যে বাস যোগে রওনা করেন। বাসের মধ্যে ঘুমিয়ে পরায় তার পক্ষে জাহাঙ্গীরনগর নামা সম্ভব হয়নি। ঘুম থেকে উঠে তিনি দেখতে পান বাসটি পলাশবাড়ী স্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে আছে। তাই তিনি তাড়াহুড়া করে বাস থেকে নেমে পড়েন। ততক্ষণে বিকাল সাড়ে ৩টা বেজে যায়। বাস থেকে নামার পর পরই সেখানে দাড়িয়ে থাকা শাহিন, আতা ও বিপ্লব ভুক্তভোগীকে ঘিরিয়া দাড়ায় এবং কথা আছে বলিয়া কৌশলে তাকে আশুলিয়ার পলাশবাড়ী এলাকার ওসমান গণির ৮ম তলা বিল্ডিংয়ের ২য় তলার পশ্চিম পাশে সাইদুর হোসেন (৩২) এর বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে মামলার অন্যান্য আসামিরা উপস্থিত ছিলেন। পরে তারা যোগসাজশে ভুক্তভোগীকে মশিউর রহমানকে মারপিট করে তার মানিব্যাগে থাকা ১২ হাজার টাকা নিয়ে নেয়। এরপরে অভিযুক্ত আসামিরা ভুক্তভোগীর নিকট আরও ১০ লক্ষ টাকা দাবি করে। টাকা না দিলে মেরে ফেলবে বলে হুমকি প্রদান করে। পরে তাদের দেওয়া একটি বিকাশ নাম্বারে ভুক্তভোগীর স্ত্রী দুইবারে ৪০ হাজার টাকা প্রেরণ করে। এছাড়াও ভুক্তভোগীর বিভিন্ন আত্মীয়-স্বজনের নিকট টাকা দাবি করলে তারা তার বিকাশ, সেলফিন ও নগদ একাউন্টে ১ লক্ষ ৩২ হাজার টাকা পাঠায়। আসামীরা সেই টাকা ও ভুক্তভোগীর বিকাশ একাউন্টে থাকা ২৫ হাজার টাকা সহ সর্বমোট ১ লক্ষ ৫৭ হাজার টাকা উত্তোলন করিয়া নেয়। এছাড়াও ভুক্তভোগীর অন্য ব্যাংক একাউন্ট থেকে পলাশবাড়ী এটিএম বুথের মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকা ও বিকাশের মাধ্যমে ৩৫ হাজার টাকা উত্তোলন করিয়া নেয়। আসামীরা ভুক্তভোগীর নিকট হইতে টাকা নেওয়ার পর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে দুই জন আসামী ভুক্তভোগীকে বাসা হইতে পলাশবাড়ী বাসষ্ট্যান্ড পর্যন্ত পৌঁছাইয়া দিয়া চলিয়া যায়। পরে এ ঘটনায় আশুলিয়া থানায় একটি অভিযোগ দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে সাইদুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে।

এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার (এসআই) এমদাদুল হক বলেন, গতকাল রাতে ঢাকার ধামরাইয়ে অভিযান চালিয়ে এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার দুই পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় তাদের নিকট হতে মুক্তপণ হিসেবে আদায় করা নগদ ৪০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামিকে আজ সকালে আদালতে পাঠানো হয়েছে। সেই সাথে এই মামলার বাকী পলাতক আসামিদেরকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।