১২:০৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চন্দ্রগঞ্জ থানার ওসির বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও হয়রানির অভিযোগ

  • আপডেট: ০৭:৫৬:২১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জুন ২০২৩
  • 3433

আনোয়ারের রহমান বাবুল, লক্ষীপুর : লক্ষীপুর সদর উপজেলার চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তহিদুল ইসলামের অনিয়ম, দুর্নীতি ও হয়রানির প্রতিবাদে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল ৭ জুন বুধবার দুপুরে চন্দ্রগঞ্জ বাজারে একটি ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এসময় চন্দ্রগঞ্জ থানার ওসি মো. তৌহিদুল ইসলাম ও ওসি তদন্ত মফিজুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশ এসে বাধা দেয়। এসময় পুলিশ আবদুর রহমান আরজু নামে এক ভুক্তভোগীকে সাংবাদিকদের সামনে থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালায়। তবে সাংবাদিকদের প্রতিবাদের মুখে পুলিশ চলে যেতে বাধ্য হয়। ভুক্তভোগী আবদুর রহমান আরজু ও চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল আমিন অভিযোগ করেন বলেন, চন্দ্রগঞ্জ থানার ওসি হিসেবে মো. তৌহিদুল ইসলাম যোগ দেওয়ার পর থেকেই টাকার বিনিময়ে মিথ্যা মামলা নথিভুক্তসহ নানাভাবে নিরীহ জনগণকে হয়রানি করে আসছেন। বুধবার দুপুরে চন্দ্রগঞ্জ পশ্চিম বাজারে ভুক্তভোগী চন্দ্রগঞ্জ থানার রামকৃষ্ণপুর গ্রামের আবদুর রহমান আরজু ওসির প্রত্যাহারের দাবিতে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন।
এ সংবাদ সম্মেলন চলাকালে অভিযুক্ত ওসি মো. তৌহিদুল ইসলাম, ওসি তদন্ত মো. মফিজুর রহমান, থানার এস আই বিকাশ চন্দ্র ভৌমিকসহ একদল পুলিশ সংবাদ সম্মেলনে এসে অভিযোগকারী আব্দুর রহমান আরজুকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা চালায়। এ সময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত চন্দ্রগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান মো. নুরুল আমিনের সঙ্গেও পুলিশ খারাপ আচরণ করে। সাংবাদিকদের প্রতিবাদের মুখে পুলিশ পরে ঘটনাস্থল থেকে সরে যেতে বাধ্য হয়। এসময় সাংবাদিকরা ওসি মো. তৌহিদুল ইসলামের কাছে জানতে চায়, একজন মামলার আসামি দেশের বাইরে থেকে কি ভাবে দেশে মারামারির মামলার আসামি হন। দুজন প্রবাসে থেকে কি করে মারামারির মামলার স্বাক্ষী হন। ওসি এসব প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে নিরব থাকেন। এক পর্যায়ে ওসি বলেন, এসব বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে। তিনি সংবাদ সম্মেলনে বাধা দিতে আসেননি। বিষয়টি জানতে এসেছেন।
জানা যায়, বেগমগঞ্জ উপজেলার আমানতপুর গ্রামের দেলোয়ার হোসেন নাদিম ও চন্দ্রগঞ্জ থানার রামকৃষ্ণপুর গ্রামের আব্দুর রহমান আরজু চন্দ্রগঞ্জ বাজারের একটি ফ্ল্যাটের ক্রয়সূত্রে মালিক। এই ফ্ল্যাট নিয়ে দুজনের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিলে গত ২৮ মে দেলোয়ার হোসেন নাদিম বাদী হয়ে চন্দ্রগঞ্জ থানার ওসিকে হাত করে প্রতিপক্ষ আবদুর রহমান আরজুর বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা রুজু করেন। মামলা দায়েরের পরপরই পুলিশ আবদুর রহমান আরজুকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠায়। এক সপ্তাহ হাজতবাস করার পর আদালতের মাধ্যমে আরজু জামিনে বের হয়ে আসেন। একই ভাবে ওসি টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন ব্যক্তিকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করার অভিযোগ রয়েছে। শুধু আবদুর রহমান আরজুই নয়, এভাবে এই থানায় সেবা নিতে আসা বেশিরভাগ মানুষ ওসির নানা হয়রানীর শিকার হতে হয় বলে অভিযোগ করেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল আমিনসহ অনেকেই।

সর্বাধিক পঠিত

পুশইনের চেষ্টা কবলে ৯ জন ১৩ ঘণ্টা শূন্যরেখায় নেই খাবার কিংবা পানি

চন্দ্রগঞ্জ থানার ওসির বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও হয়রানির অভিযোগ

আপডেট: ০৭:৫৬:২১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জুন ২০২৩

আনোয়ারের রহমান বাবুল, লক্ষীপুর : লক্ষীপুর সদর উপজেলার চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তহিদুল ইসলামের অনিয়ম, দুর্নীতি ও হয়রানির প্রতিবাদে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল ৭ জুন বুধবার দুপুরে চন্দ্রগঞ্জ বাজারে একটি ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এসময় চন্দ্রগঞ্জ থানার ওসি মো. তৌহিদুল ইসলাম ও ওসি তদন্ত মফিজুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশ এসে বাধা দেয়। এসময় পুলিশ আবদুর রহমান আরজু নামে এক ভুক্তভোগীকে সাংবাদিকদের সামনে থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালায়। তবে সাংবাদিকদের প্রতিবাদের মুখে পুলিশ চলে যেতে বাধ্য হয়। ভুক্তভোগী আবদুর রহমান আরজু ও চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল আমিন অভিযোগ করেন বলেন, চন্দ্রগঞ্জ থানার ওসি হিসেবে মো. তৌহিদুল ইসলাম যোগ দেওয়ার পর থেকেই টাকার বিনিময়ে মিথ্যা মামলা নথিভুক্তসহ নানাভাবে নিরীহ জনগণকে হয়রানি করে আসছেন। বুধবার দুপুরে চন্দ্রগঞ্জ পশ্চিম বাজারে ভুক্তভোগী চন্দ্রগঞ্জ থানার রামকৃষ্ণপুর গ্রামের আবদুর রহমান আরজু ওসির প্রত্যাহারের দাবিতে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন।
এ সংবাদ সম্মেলন চলাকালে অভিযুক্ত ওসি মো. তৌহিদুল ইসলাম, ওসি তদন্ত মো. মফিজুর রহমান, থানার এস আই বিকাশ চন্দ্র ভৌমিকসহ একদল পুলিশ সংবাদ সম্মেলনে এসে অভিযোগকারী আব্দুর রহমান আরজুকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা চালায়। এ সময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত চন্দ্রগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান মো. নুরুল আমিনের সঙ্গেও পুলিশ খারাপ আচরণ করে। সাংবাদিকদের প্রতিবাদের মুখে পুলিশ পরে ঘটনাস্থল থেকে সরে যেতে বাধ্য হয়। এসময় সাংবাদিকরা ওসি মো. তৌহিদুল ইসলামের কাছে জানতে চায়, একজন মামলার আসামি দেশের বাইরে থেকে কি ভাবে দেশে মারামারির মামলার আসামি হন। দুজন প্রবাসে থেকে কি করে মারামারির মামলার স্বাক্ষী হন। ওসি এসব প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে নিরব থাকেন। এক পর্যায়ে ওসি বলেন, এসব বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে। তিনি সংবাদ সম্মেলনে বাধা দিতে আসেননি। বিষয়টি জানতে এসেছেন।
জানা যায়, বেগমগঞ্জ উপজেলার আমানতপুর গ্রামের দেলোয়ার হোসেন নাদিম ও চন্দ্রগঞ্জ থানার রামকৃষ্ণপুর গ্রামের আব্দুর রহমান আরজু চন্দ্রগঞ্জ বাজারের একটি ফ্ল্যাটের ক্রয়সূত্রে মালিক। এই ফ্ল্যাট নিয়ে দুজনের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিলে গত ২৮ মে দেলোয়ার হোসেন নাদিম বাদী হয়ে চন্দ্রগঞ্জ থানার ওসিকে হাত করে প্রতিপক্ষ আবদুর রহমান আরজুর বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা রুজু করেন। মামলা দায়েরের পরপরই পুলিশ আবদুর রহমান আরজুকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠায়। এক সপ্তাহ হাজতবাস করার পর আদালতের মাধ্যমে আরজু জামিনে বের হয়ে আসেন। একই ভাবে ওসি টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন ব্যক্তিকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করার অভিযোগ রয়েছে। শুধু আবদুর রহমান আরজুই নয়, এভাবে এই থানায় সেবা নিতে আসা বেশিরভাগ মানুষ ওসির নানা হয়রানীর শিকার হতে হয় বলে অভিযোগ করেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল আমিনসহ অনেকেই।