তপন তালুকদার: ঢাকার দোহার এলাকায় একই পরিবারের পাঁচজনকে বাড়িতে তালাবদ্ধ করে পুড়িয়ে হত্যা চেষ্টার ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারী ও তার সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-১০)। গতকাল ১৮ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার ঢাকার আশুলিয়া ও দোহার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তাররা হলেন- রুবেল (২১) ও তার সহযোগী রানা মাহমুদ (২৪)। র্যাব-১০ এর উপ-পরিচালক আমিনুল ইসলাম জানান, গত ১৬ জানুয়ারি রাতে ঢাকার দোহার থানাধীন ধীৎপুর এলাকায় বসবাসকারী জুলহাস উদ্দিন শেখ (৪৮), তার স্ত্রী ফাহিমা আক্তার (৩৫), মেয়ে জান্নাত (১২), ছেলে জুনায়েদ (৯) ও ভাতিজি তাবাসসুমকে (৯) অজ্ঞাত ব্যক্তিরা ঘরে পেট্রোল ঢেলে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। এরপর দরজা খুলতে না পেরে চিৎকারের এক পর্যায়ে জুলহাস উদ্দিনের ছোট ভাই মুক্তার হোসেনসহ অন্যরা বাথরুমের দেয়াল ভেঙে জুলহাস উদ্দিনসহ তাদের পরিবারের সবাইকে উদ্ধার করেন। এ সময় জুলহাস উদ্দিন ও তার স্ত্রী ফাহিমা আক্তারের মুখমÐল, হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থান আগুনে ঝলসে যায়।
আগুনের ধোয়ার কারণে জুলহাস উদ্দিনের মেয়ে, ছেলে ও ভাতিজির শ্বাস-প্রশ্বাস জনিত সমস্যা দেখা দেয় এবং তাদের ঘরে থাকা ফ্রিজ, টিভিসহ আনুমানিক ৩ লাখ টাকার আসবাবপত্র পুড়ে যায়। এ ঘটনায় করা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে মূল পরিকল্পনাকারী মো. রুবেল ও তার প্রধান সহযোগী রানা মাহমুদকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। গ্রেপ্তারদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তার রুবেল পেশায় একজন টিনের মিস্ত্রি। তিনি ভিকটিম জুলহাসকে দুঃসম্পর্কের মামা বানান এবং সেই সুবাদে দীর্ঘদিন ধরে তার বাসায় বসবাস করে আসছিলেন। কিন্তু তার কথাবার্তা ও চালচলন জুলহাস উদ্দিনের অপছন্দ হওয়ায় তিনি ১৩-১৪ দিন আগে রুবেলকে তাদের বাসা থেকে চলে যেতে বলেন। পরবর্তীতে রুবেল বাসা ছেড়ে দেওয়ার বিষয়কে কেন্দ্র করে জুলহাসের সঙ্গে বাকবিতÐায় জড়ান। একপর্যায় রুবেল জুলহাসকে পরবর্তীতে দেখে নেবেন বলে বিভিন্ন হুমকি দিয়ে তার বাসা থেকে চলে যান। এরপর ১৬ জানুয়ারি মাঝরাতে জুলহাস ও তার পরিবারের সবাই ঘুমিয়ে পড়ে। এর মধ্যে রুবেল তার সহযোগী রানাসহ অন্যান্যদের নিয়ে জুলহাসসহ তার পরিবারের সবাইকে বাড়ির বাইরে তালাবদ্ধ করে পেট্রোল ঢেলে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যা চেষ্টা করেন।
তপন তালুকদার 



















