০৯:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কিশোরগঞ্জের যৌন রোগ ডাক্তারের বিরুদ্ধে রোগীর স্বজনকে মারধরের অভিযোগ

  • আপডেট: ০৫:৪৭:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
  • 15

সূর্যোদয় ডেস্ক : || : কিশোরগঞ্জের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. ইসরাত জাহান মৌ এর বিরুদ্ধে রোগীর স্বজনকে হাসপাতালের রুমে আটকে রেখে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে । গতকাল ১৩ জুন শনিবার সকাল থেকে লাঞ্ছিত ওই স্বজনের কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পরলে জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। জানা যায়, হাসপাতালের বহির্বিভাগের ১৩৭ নম্বর কক্ষে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী মো. উবায়দুল্লাহ কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার পাটুয়াভাঙ্গা ইউনিয়নের শিমুলিয়া গ্রামের আব্দুস বাছেদের ছেলে। অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. ইসরাত জাহান মৌ হাসপাতালের চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে কর্মরত। এছাড়াও তিনি শহরে ডা.ইসরাত জাহান মৌ স্কিন অ্যান্ড লেজার কেয়ার সেন্টার’ নামে একটি ব্যক্তিগত চেম্বার পরিচালনা করেন। এ ঘটনার পর ভুক্তভোগী জেলা সিভিল সার্জন বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে জানা যায়, শনিবার সকাল ৯টার দিকে উবায়দুল্লাহ তার অসুস্থ স্ত্রী ও আট মাস বয়সী সন্তানকে নিয়ে হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসেন। চিকিৎসক সময়মতো উপস্থিত না হওয়ায় দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করে তিনি মোবাইল ফোনে একটি ভিডিও ধারণ করেন এবং অন্য রোগীদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন। চিকিৎসকের সহকারী বিষয়টি ডা. মৌকে জানালে প্রায় দুই ঘণ্টা পর বেলা ১১টার দিকে তিনি কক্ষে আসেন। তিনি কক্ষে প্রবেশ করার পরপরই দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়। সেখানে আগে থেকেই কয়েকজন ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। চিকিৎসক তার পরিচয় জানতে চান এবং ভিডিও ধারণের কারণ জিজ্ঞেস করে সেটি মুছে ফেলতে চাপ দেন। একপর্যায়ে চিকিৎসকের নির্দেশে হাসপাতালের কয়েকজন স্টাফ তাকে ঘিরে ধরে মারধর শুরু করেন। এমনকি চিকিৎসক নিজেও তার জামার কলার ধরে টানাহেঁচড়া করেন ও গলা চেপে ধরেন। এসময় তার অসুস্থ স্ত্রী ও কোলে থাকা আট মাসের শিশুসন্তান ভয়ে চিৎকার করতে থাকেন। পরে বাইরে থাকা অন্য রোগীরা এগিয়ে এসে দরজা খোলার চেষ্টা করলে উবায়দুল্লাহ সেখান থেকে বের হতে সক্ষম হন। ঘটনার পরপরই তিনি কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় আসেন অভিযোগ নিয়ে। পরে থানার ওসির পরামর্শে তিনি জেলা সিভিল সার্জন বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ঘটনার সময় উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হঠাৎ করেই ১৩৭ নম্বর কক্ষের ভেতর থেকে উচ্চশব্দ ও মারধরের আওয়াজ শোনা যায়। দরজা বন্ধ থাকায় বাইরে থাকা সাধারণ রোগীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কিছুক্ষণ পর দরজা খোলা হলে একজন ব্যক্তিকে খুব বিপর্যস্ত ও উত্তেজিত অবস্থায় বের হতে দেখা যায়। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. ইসরাত জাহান মৌ মারধরের বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, অভিযোগকারী উবায়দুল্লাহ হাসপাতালের বিভিন্ন কক্ষে নিয়মবহির্ভূতভাবে ভিডিও ধারণ করছিলেন এবং সিরিয়াল অমান্য করে জোরপূর্বক আমার কক্ষে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এসময় কক্ষে থাকা অন্য রোগীদের সঙ্গেই তার বাগবিতণ্ডা হয়। এ ব্যাপারে কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম ভূঁইয়া জানান, ভুক্তভোগী উবায়দুল্লাহ থানায় এসেছিলেন। তাকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগদেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে অভিযুক্ত চিকিৎসকও থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এ ঘটনার কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জন (দায়িত্বপ্রাপ্ত) ডা. মো. নাজমুল করিম জানান, উবায়দুল্লাহ নামের একজন একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। সেটি আমি হাতে পেয়েছি। দ্রুতই একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে এবং তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সর্বাধিক পঠিত

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় নিজ বাড়িতে খুন হলেন মা-মেয়ে

কিশোরগঞ্জের যৌন রোগ ডাক্তারের বিরুদ্ধে রোগীর স্বজনকে মারধরের অভিযোগ

আপডেট: ০৫:৪৭:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

সূর্যোদয় ডেস্ক : || : কিশোরগঞ্জের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. ইসরাত জাহান মৌ এর বিরুদ্ধে রোগীর স্বজনকে হাসপাতালের রুমে আটকে রেখে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে । গতকাল ১৩ জুন শনিবার সকাল থেকে লাঞ্ছিত ওই স্বজনের কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পরলে জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। জানা যায়, হাসপাতালের বহির্বিভাগের ১৩৭ নম্বর কক্ষে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী মো. উবায়দুল্লাহ কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার পাটুয়াভাঙ্গা ইউনিয়নের শিমুলিয়া গ্রামের আব্দুস বাছেদের ছেলে। অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. ইসরাত জাহান মৌ হাসপাতালের চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে কর্মরত। এছাড়াও তিনি শহরে ডা.ইসরাত জাহান মৌ স্কিন অ্যান্ড লেজার কেয়ার সেন্টার’ নামে একটি ব্যক্তিগত চেম্বার পরিচালনা করেন। এ ঘটনার পর ভুক্তভোগী জেলা সিভিল সার্জন বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে জানা যায়, শনিবার সকাল ৯টার দিকে উবায়দুল্লাহ তার অসুস্থ স্ত্রী ও আট মাস বয়সী সন্তানকে নিয়ে হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসেন। চিকিৎসক সময়মতো উপস্থিত না হওয়ায় দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করে তিনি মোবাইল ফোনে একটি ভিডিও ধারণ করেন এবং অন্য রোগীদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন। চিকিৎসকের সহকারী বিষয়টি ডা. মৌকে জানালে প্রায় দুই ঘণ্টা পর বেলা ১১টার দিকে তিনি কক্ষে আসেন। তিনি কক্ষে প্রবেশ করার পরপরই দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়। সেখানে আগে থেকেই কয়েকজন ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। চিকিৎসক তার পরিচয় জানতে চান এবং ভিডিও ধারণের কারণ জিজ্ঞেস করে সেটি মুছে ফেলতে চাপ দেন। একপর্যায়ে চিকিৎসকের নির্দেশে হাসপাতালের কয়েকজন স্টাফ তাকে ঘিরে ধরে মারধর শুরু করেন। এমনকি চিকিৎসক নিজেও তার জামার কলার ধরে টানাহেঁচড়া করেন ও গলা চেপে ধরেন। এসময় তার অসুস্থ স্ত্রী ও কোলে থাকা আট মাসের শিশুসন্তান ভয়ে চিৎকার করতে থাকেন। পরে বাইরে থাকা অন্য রোগীরা এগিয়ে এসে দরজা খোলার চেষ্টা করলে উবায়দুল্লাহ সেখান থেকে বের হতে সক্ষম হন। ঘটনার পরপরই তিনি কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় আসেন অভিযোগ নিয়ে। পরে থানার ওসির পরামর্শে তিনি জেলা সিভিল সার্জন বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ঘটনার সময় উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হঠাৎ করেই ১৩৭ নম্বর কক্ষের ভেতর থেকে উচ্চশব্দ ও মারধরের আওয়াজ শোনা যায়। দরজা বন্ধ থাকায় বাইরে থাকা সাধারণ রোগীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কিছুক্ষণ পর দরজা খোলা হলে একজন ব্যক্তিকে খুব বিপর্যস্ত ও উত্তেজিত অবস্থায় বের হতে দেখা যায়। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. ইসরাত জাহান মৌ মারধরের বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, অভিযোগকারী উবায়দুল্লাহ হাসপাতালের বিভিন্ন কক্ষে নিয়মবহির্ভূতভাবে ভিডিও ধারণ করছিলেন এবং সিরিয়াল অমান্য করে জোরপূর্বক আমার কক্ষে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এসময় কক্ষে থাকা অন্য রোগীদের সঙ্গেই তার বাগবিতণ্ডা হয়। এ ব্যাপারে কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম ভূঁইয়া জানান, ভুক্তভোগী উবায়দুল্লাহ থানায় এসেছিলেন। তাকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগদেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে অভিযুক্ত চিকিৎসকও থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এ ঘটনার কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জন (দায়িত্বপ্রাপ্ত) ডা. মো. নাজমুল করিম জানান, উবায়দুল্লাহ নামের একজন একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। সেটি আমি হাতে পেয়েছি। দ্রুতই একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে এবং তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।