০১:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নগর ভবন বন্ধ করে দাবি আদায়ে বিএনপি জোরপূর্বক আন্দোলন করছে: আসিফ মাহমুদ

  • আপডেট: ০৯:৩০:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ মে ২০২৫
  • 69

প্রধান প্রতিবেদক, আকাশ দেব নাথ : স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সাজিব ভূঁইয়া অভিযোগ করেছেন, বিএনপি দাবি আদায়ের উদ্দেশ্যে জোরপূর্বক ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) নগর ভবন বন্ধ করে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে।

আজ রবিবার এক ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, নগর ভবনের সামনে চলমান অবস্থান কর্মসূচি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং এটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে পাশ কাটিয়ে জোরপূর্বক দাবি আদায়ের অপচেষ্টা। এই কর্মসূচিতে বিএনপির নেতা ইশরাক হোসেনকে ডিএসসিসির মেয়রের দায়িত্ব দেওয়ার দাবিতে টানা ছয়দিন ধরে “ঢাকাবাসী” ব্যানারে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। আন্দোলনকারীরা নগর ভবনের মূল ফটক তালাবদ্ধ করে রেখেছেন।

আসিফ মাহমুদ বলেন, “আদালতের রায় ও নির্বাচন কমিশনের গেজেট প্রকাশের পরও ইশরাক হোসেনকে শপথ নিতে না দেওয়ার জন্য আমাকে দায়ী করা হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এখানে স্পষ্ট আইনগত জটিলতা রয়েছে। যেমন, হাইকোর্টের রায় লঙ্ঘন করে নির্বাচন ট্রাইব্যুনাল একটি বিতর্কিত রায় দিয়েছে, যার বিরুদ্ধে এখনও মামলা বিচারাধীন।”

তিনি আরও বলেন, “এই জটিলতা নিরসনের আগে শপথ গ্রহণের সুযোগ নেই। কিন্তু বিএনপির শহর শাখা আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে জোরপূর্বক নগর ভবন তালাবদ্ধ করে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। এতে ডিএসসিসির দৈনন্দিন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং জনদুর্ভোগ বাড়ছে।”

আসিফ মাহমুদ দাবি করেন, এই আন্দোলন সাধারণ জনগণের নয়, বরং বিএনপি ও তাদের অঙ্গসংগঠনের নির্দেশে চলছে। গোয়েন্দা রিপোর্টেও তা উঠে এসেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে, ইশরাক হোসেন তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক স্ট্যাটাসে বলেন, “মেয়র পদ আমাদের মূল ইস্যু নয়। মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে—অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কিছু ব্যক্তির ক্ষমতার লালসা ও চিরস্থায়ী আধিপত্য কায়েমের মুখোশ উন্মোচন করা।”

তিনি লেখেন, “আমি অনেক সমালোচনা সহ্য করেছি, এমনকি আমার মা-বাবাকে নিয়েও কুৎসা করা হয়েছে, কিন্তু আমি চুপ থেকেছি—শুধু গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার রক্ষার স্বার্থে। আজ স্পষ্ট হয়ে গেছে, ঢাকায় বিএনপির মেয়র প্রার্থীকে ঠেকাতে সরকার পুরো শক্তি নিয়ে মাঠে নেমেছে। এটি প্রমাণ করে তারা জাতীয় নির্বাচনে কী ভূমিকা রাখতে চায়।”

ইশরাক আরও বলেন, “যারা নিরপেক্ষতা বিসর্জন দিয়ে একটি নির্দিষ্ট দলের প্রতিনিধির মতো আচরণ করেছেন, তাদের আর আলোচনায় জায়গা নেই। তাদের পদত্যাগ করতে হবে। তারা বিচারকদের হুমকি দিয়েছে, নির্বাচন কমিশনকে চ্যালেঞ্জ করেছে, উচ্চ আদালতে হস্তক্ষেপ করেছে এবং আমলাদের সহায়তায় দীর্ঘ মেয়াদী চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছে। একদিন এসব ষড়যন্ত্রকারীদের নাম ও পরিচয় প্রকাশ হবে।”

তিনি শেষ করেন এই বলে, “আমি শেখ হাসিনাকেও বলেছি—কবর প্রস্তুত, আল্লাহ চাইলে সেখানেই শেষ হবে। এই সংগ্রাম শেষ নয়—আমরা হয় আমাদের দাবি আদায় করব, নয়তো আল্লাহ যেভাবে নির্ধারণ করেছেন, সেভাবে শাহাদাত বরণ করব। গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার নিয়ে আপস নয়।”

আকাশ অন্ধকার হয়ে শুরু হয় বজ্রবৃষ্টি

নগর ভবন বন্ধ করে দাবি আদায়ে বিএনপি জোরপূর্বক আন্দোলন করছে: আসিফ মাহমুদ

আপডেট: ০৯:৩০:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ মে ২০২৫

প্রধান প্রতিবেদক, আকাশ দেব নাথ : স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সাজিব ভূঁইয়া অভিযোগ করেছেন, বিএনপি দাবি আদায়ের উদ্দেশ্যে জোরপূর্বক ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) নগর ভবন বন্ধ করে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে।

আজ রবিবার এক ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, নগর ভবনের সামনে চলমান অবস্থান কর্মসূচি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং এটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে পাশ কাটিয়ে জোরপূর্বক দাবি আদায়ের অপচেষ্টা। এই কর্মসূচিতে বিএনপির নেতা ইশরাক হোসেনকে ডিএসসিসির মেয়রের দায়িত্ব দেওয়ার দাবিতে টানা ছয়দিন ধরে “ঢাকাবাসী” ব্যানারে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। আন্দোলনকারীরা নগর ভবনের মূল ফটক তালাবদ্ধ করে রেখেছেন।

আসিফ মাহমুদ বলেন, “আদালতের রায় ও নির্বাচন কমিশনের গেজেট প্রকাশের পরও ইশরাক হোসেনকে শপথ নিতে না দেওয়ার জন্য আমাকে দায়ী করা হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এখানে স্পষ্ট আইনগত জটিলতা রয়েছে। যেমন, হাইকোর্টের রায় লঙ্ঘন করে নির্বাচন ট্রাইব্যুনাল একটি বিতর্কিত রায় দিয়েছে, যার বিরুদ্ধে এখনও মামলা বিচারাধীন।”

তিনি আরও বলেন, “এই জটিলতা নিরসনের আগে শপথ গ্রহণের সুযোগ নেই। কিন্তু বিএনপির শহর শাখা আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে জোরপূর্বক নগর ভবন তালাবদ্ধ করে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। এতে ডিএসসিসির দৈনন্দিন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং জনদুর্ভোগ বাড়ছে।”

আসিফ মাহমুদ দাবি করেন, এই আন্দোলন সাধারণ জনগণের নয়, বরং বিএনপি ও তাদের অঙ্গসংগঠনের নির্দেশে চলছে। গোয়েন্দা রিপোর্টেও তা উঠে এসেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে, ইশরাক হোসেন তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক স্ট্যাটাসে বলেন, “মেয়র পদ আমাদের মূল ইস্যু নয়। মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে—অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কিছু ব্যক্তির ক্ষমতার লালসা ও চিরস্থায়ী আধিপত্য কায়েমের মুখোশ উন্মোচন করা।”

তিনি লেখেন, “আমি অনেক সমালোচনা সহ্য করেছি, এমনকি আমার মা-বাবাকে নিয়েও কুৎসা করা হয়েছে, কিন্তু আমি চুপ থেকেছি—শুধু গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার রক্ষার স্বার্থে। আজ স্পষ্ট হয়ে গেছে, ঢাকায় বিএনপির মেয়র প্রার্থীকে ঠেকাতে সরকার পুরো শক্তি নিয়ে মাঠে নেমেছে। এটি প্রমাণ করে তারা জাতীয় নির্বাচনে কী ভূমিকা রাখতে চায়।”

ইশরাক আরও বলেন, “যারা নিরপেক্ষতা বিসর্জন দিয়ে একটি নির্দিষ্ট দলের প্রতিনিধির মতো আচরণ করেছেন, তাদের আর আলোচনায় জায়গা নেই। তাদের পদত্যাগ করতে হবে। তারা বিচারকদের হুমকি দিয়েছে, নির্বাচন কমিশনকে চ্যালেঞ্জ করেছে, উচ্চ আদালতে হস্তক্ষেপ করেছে এবং আমলাদের সহায়তায় দীর্ঘ মেয়াদী চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছে। একদিন এসব ষড়যন্ত্রকারীদের নাম ও পরিচয় প্রকাশ হবে।”

তিনি শেষ করেন এই বলে, “আমি শেখ হাসিনাকেও বলেছি—কবর প্রস্তুত, আল্লাহ চাইলে সেখানেই শেষ হবে। এই সংগ্রাম শেষ নয়—আমরা হয় আমাদের দাবি আদায় করব, নয়তো আল্লাহ যেভাবে নির্ধারণ করেছেন, সেভাবে শাহাদাত বরণ করব। গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার নিয়ে আপস নয়।”