০১:২৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লক্ষ্মীপুরে খালে বাঁধ দেয়ায় ব্যাহত হচ্ছে ফসল উৎপাদন

  • আপডেট: ০৫:০৭:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৪
  • 168

কামাল উদ্দিন, লক্ষ্মীপুর থেকে: লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার ভাদুর ইউনিয়নে ইটভাটায় মাটি আনা নেওয়ার জন্য সরকারী সুধারাম খালের এক কিলোমিটার অংশে তিনটি বাঁধ নির্মান করেছে স্থানীয় মাটি ব্যবসায়ীরা। বাঁধের কারনে শুকনো মৌসুমে পানি প্রবাহ বন্ধ থাকায় বোরো চাষ ও বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতায় আমন চাষ ব্যাহত হচ্ছে। এতে মধ্যভাদুর,উত্তর গ্রাম, পশ্চিম ভাদুর ও কেথুড়ী কৃষি মাঠের তিন শত একর ফসলি জমিতে চাষাবাদে আগ্রহ হারাচ্ছেন স্থানীয় কৃষকরা। ফলে দিন দিন অনাবাদি জমির পরিমান বাড়ছে।

দ্রুত বাঁধ তিনটি অপসারণ করে খালটি উন্মুক্ত করার জন্য ভূক্তোভোগী কৃষকরা গত বছর ২১ ডিসেম্বর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করলেও এখন পর্যন্ত তিনটি বাঁধ অপসারণ কোন ব্যাবস্থা নেয়নি সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ। ২১ জানুয়ারি রবিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভূমি মন্ত্রনালয়ের আওতাধিন খালটির সুধারাম ব্রীজের পাশে ইটভাটার সামনে, ভাদুর উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশে ও পশ্চিম ভাদুর মোল্লা বাড়ির পাশে মাটি ও ইটভাটার সুরকি দিয়ে ৩টি বাঁধ দেওয়া আছে। খালটিতে পানি প্রবাহ নেই। স্থানীয় পশ্চিম ভাদুর গ্রামের বিল্লাল, সেলিম, মফিজ মিয়া, মোতালেব হোসেন, মধ্য ভাদুর গ্রামের আনোয়ার হোসেন, আলম, টেলু মিয়া, কেথুড়ী গ্রামের গোলাম রসুল, জাহাঙ্গীর, আনোয়ারসহ অনেক কৃষক জানান, প্রবাহমান এ খালটিতে সব সময় পানি থাকতো, চাষাবাদ করতে তাদের কোন সমস্যা হতো না।

মাটি ব্যবসায়ী মোঃ সোহেল ২০২০ সাল থেকে পেশী শক্তির প্রভাব খাটিয়ে খালে বাঁধ দিয়ে, রাস্তা নির্মান করে, ফসলি জমিতে পুকুর খনন ও টপসয়েল কেটে ট্রলি দিয়ে ইটভাটায় মাটি আনা নেওয়ার করে আসছে। কেউ এ ব্যাপারে কথা বললে তাঁকে হুমকি -ধমকীসহ নানাভাবে হয়রানি করা হয়। বাঁধের কারনে পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। চাষাবাদকৃত ফসল শুকনো মৌসুমে পানির অভাবে এবং বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তাই তারা দ্রুত বাঁধ তিনটি অপসারণ করে খালটি উন্মুক্ত করার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেছেন। সরকারি খালে বাঁধ দিয়ে পানি প্রবাহে বাধাদানকারী অভিযুক্ত মোঃ সোহেল জানান, ৪ বছর আগে কৃষকদের উপকারের জন্য বাঁধ গুলো দিয়েছি। আমি এখন আর মাটির ব্যবসা করি না। বাঁধ গুলো কেটে দিলে সমস্যা নাই। ৩নং ভাদুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাবেদ হোসেন জানান, বাঁধ গুলো অনেক আগে দেওয়া হয়েছে। তার সময়কালে তিনি কাউকে সরকারি খালে বাঁধ দিতে দেন নাই। এ বাঁধ গুলো অপসারন করা খুবই জরুরি। তিনি উপজেলা প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করে বাঁধ অপসারন করার উদ্যোগ নিবেন।

রামগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সৈয়দ রায়হানুল হায়দার জানান, সরকারি খালে বাঁধ দিয়ে পানি প্রবাহ বন্ধ করা যাবে না। এতে চাষাবাদে ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়। আমরা উপকারভোগী ও কৃষকদের সাথে কথা বলে বাঁধ গুলো কেটে খালটি উম্মুক্ত করার ব্যবস্থা করবো। রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা: শারমিন ইসলাম জানান, সরকারি খালে বাঁধ দেওয়ার কোন নিয়ম নাই। এটি একটি অপরাধ। খালে বাঁধ দিয়ে পানি প্রবাহ বন্ধ রাখার বিষয়ে স্থানীয় এলাকাবাসী ও কৃষকরা আবেদন করেছে। এ বিষয় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সর্বাধিক পঠিত

পুশইনের চেষ্টা কবলে ৯ জন ১৩ ঘণ্টা শূন্যরেখায় নেই খাবার কিংবা পানি

লক্ষ্মীপুরে খালে বাঁধ দেয়ায় ব্যাহত হচ্ছে ফসল উৎপাদন

আপডেট: ০৫:০৭:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৪

কামাল উদ্দিন, লক্ষ্মীপুর থেকে: লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার ভাদুর ইউনিয়নে ইটভাটায় মাটি আনা নেওয়ার জন্য সরকারী সুধারাম খালের এক কিলোমিটার অংশে তিনটি বাঁধ নির্মান করেছে স্থানীয় মাটি ব্যবসায়ীরা। বাঁধের কারনে শুকনো মৌসুমে পানি প্রবাহ বন্ধ থাকায় বোরো চাষ ও বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতায় আমন চাষ ব্যাহত হচ্ছে। এতে মধ্যভাদুর,উত্তর গ্রাম, পশ্চিম ভাদুর ও কেথুড়ী কৃষি মাঠের তিন শত একর ফসলি জমিতে চাষাবাদে আগ্রহ হারাচ্ছেন স্থানীয় কৃষকরা। ফলে দিন দিন অনাবাদি জমির পরিমান বাড়ছে।

দ্রুত বাঁধ তিনটি অপসারণ করে খালটি উন্মুক্ত করার জন্য ভূক্তোভোগী কৃষকরা গত বছর ২১ ডিসেম্বর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করলেও এখন পর্যন্ত তিনটি বাঁধ অপসারণ কোন ব্যাবস্থা নেয়নি সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ। ২১ জানুয়ারি রবিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভূমি মন্ত্রনালয়ের আওতাধিন খালটির সুধারাম ব্রীজের পাশে ইটভাটার সামনে, ভাদুর উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশে ও পশ্চিম ভাদুর মোল্লা বাড়ির পাশে মাটি ও ইটভাটার সুরকি দিয়ে ৩টি বাঁধ দেওয়া আছে। খালটিতে পানি প্রবাহ নেই। স্থানীয় পশ্চিম ভাদুর গ্রামের বিল্লাল, সেলিম, মফিজ মিয়া, মোতালেব হোসেন, মধ্য ভাদুর গ্রামের আনোয়ার হোসেন, আলম, টেলু মিয়া, কেথুড়ী গ্রামের গোলাম রসুল, জাহাঙ্গীর, আনোয়ারসহ অনেক কৃষক জানান, প্রবাহমান এ খালটিতে সব সময় পানি থাকতো, চাষাবাদ করতে তাদের কোন সমস্যা হতো না।

মাটি ব্যবসায়ী মোঃ সোহেল ২০২০ সাল থেকে পেশী শক্তির প্রভাব খাটিয়ে খালে বাঁধ দিয়ে, রাস্তা নির্মান করে, ফসলি জমিতে পুকুর খনন ও টপসয়েল কেটে ট্রলি দিয়ে ইটভাটায় মাটি আনা নেওয়ার করে আসছে। কেউ এ ব্যাপারে কথা বললে তাঁকে হুমকি -ধমকীসহ নানাভাবে হয়রানি করা হয়। বাঁধের কারনে পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। চাষাবাদকৃত ফসল শুকনো মৌসুমে পানির অভাবে এবং বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তাই তারা দ্রুত বাঁধ তিনটি অপসারণ করে খালটি উন্মুক্ত করার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেছেন। সরকারি খালে বাঁধ দিয়ে পানি প্রবাহে বাধাদানকারী অভিযুক্ত মোঃ সোহেল জানান, ৪ বছর আগে কৃষকদের উপকারের জন্য বাঁধ গুলো দিয়েছি। আমি এখন আর মাটির ব্যবসা করি না। বাঁধ গুলো কেটে দিলে সমস্যা নাই। ৩নং ভাদুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাবেদ হোসেন জানান, বাঁধ গুলো অনেক আগে দেওয়া হয়েছে। তার সময়কালে তিনি কাউকে সরকারি খালে বাঁধ দিতে দেন নাই। এ বাঁধ গুলো অপসারন করা খুবই জরুরি। তিনি উপজেলা প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করে বাঁধ অপসারন করার উদ্যোগ নিবেন।

রামগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সৈয়দ রায়হানুল হায়দার জানান, সরকারি খালে বাঁধ দিয়ে পানি প্রবাহ বন্ধ করা যাবে না। এতে চাষাবাদে ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়। আমরা উপকারভোগী ও কৃষকদের সাথে কথা বলে বাঁধ গুলো কেটে খালটি উম্মুক্ত করার ব্যবস্থা করবো। রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা: শারমিন ইসলাম জানান, সরকারি খালে বাঁধ দেওয়ার কোন নিয়ম নাই। এটি একটি অপরাধ। খালে বাঁধ দিয়ে পানি প্রবাহ বন্ধ রাখার বিষয়ে স্থানীয় এলাকাবাসী ও কৃষকরা আবেদন করেছে। এ বিষয় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।