Dhaka ০৩:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ জুন ২০২৪, ৯ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

চট্রগ্রামের রহমানিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিকক্ষ দুর্নীতির হিসাব দীর্ঘ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৭:০০:১৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জুন ২০২৩
  • 14

চট্রগ্রাম ব্যুরো : চট্রগ্রামের হামজারবাগের রহমানিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের বহিস্কৃত প্রধান শিক্ষক আবু তৈয়বের দুর্নীতির খতিয়ান লম্বা হচ্ছে। ক্রমান্বয়ে বেরিয়ে আসছে বিদালয়ের বিভিন্ন তহবিল থেকে তার অর্থ আর্তস্বাতের কাহিনী। তার এসব কর্মকান্ড নিয়ে মামলা চলমান এবং আরো মামলা প্রক্রিয়াধীন আছে বলে জানা যায়।
কয়েকজন মহিলা অভিভাবক জানায় সুন্দরী কোন মহিলা তার কাছে কোন অভিযোগ নিয়ে তাকে রুমে বসিয়ে রাখত এবং সুযোগ বুঝে অনৈতিক প্রস্তাব দিত।

অনুসন্ধানে জানা যায় রহমানিয়া স্কুলে যোগদান করার বেশ কবছর পর প্রায় দেড় কোটি টাকা খরচ করে বোয়ালখালীতে আধুনিক বাড়ী নির্মান করেছে অথচ শিক্ষকতা ছাড়া তার আর কোন কর্ম নাই।
প্রসঙ্গত বিষয় সহ ৩ লাখ টাকার ঘুষে খণ্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগসহ নানা অভিযোগে এক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম মো. আবু তৈয়ব। তিনি নগরের হামজারবাগ এলাকার রহমানিয়া উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।
গত ৩০ মে তাঁকে সাময়িক বরখাস্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি মো. তালেব আলী।

গত ৩০ মে ওই শিক্ষককে পাঠানো সভাপতি স্বাক্ষরিত সাময়িক বরখাস্ত আদেশে বলা হয়, গত ৮ মে চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে বিদ্যালয়ের একজন অভিভাবক প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, আর্থিক অনিয়ম, বিধিবহির্ভূতভাবে মোটা অঙ্কের ঘুষ গ্রহণ করে খণ্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগ এবং আরও নানা অভিযোগ আনেন।
ওই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। গতকাল সোমবার ওই কমিটি তদন্ত করতে গেলে প্রধান শিক্ষক কমিটির সভাপতির সামনে তদন্ত কমিটির সঙ্গে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন এবং তদন্তকাজে বাধা দেন। ২৩ মে সভাপতির পাঠানো নোটিশ গ্রহণ করেননি প্রধান শিক্ষক।
আদেশে আরও বলা হয়, চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড আপিল অ্যান্ড আরবিট্রেশন কমিটির

২০০৫ সালের ৭ মের সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত হন ওই প্রধান শিক্ষক। ওই বরখাস্ত আদেশ এখনো বলবৎ আছে। তাই প্রধান শিক্ষকের চাকরির বৈধতা নেই। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিদ্যালয়ের ইতিহাস বিকৃতি ও গুরুত্বপূর্ণ নথি নষ্ট করার অভিযোগেরও সত্যতা পাওয়া যায় বলে আদেশে বলা হয়। বরখাস্তের আদেশ ৩০ মে থেকে কার্যকর করা হয়েছে।
এদিকে গত ২৮ ও ২৯ মে বিদ্যালয়ের খণ্ডকালীন দুই শিক্ষক নিয়োগের সময় তাঁদের কাছ থেকে প্রধান শিক্ষক ঘুষ হিসেবে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করেছেন বলে লিখিত অভিযোগ করা হয়। লিখিত অভিযোগে নিয়োগের সময় ওই দুই শিক্ষকের কাছ থেকে ৩ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার কথা উল্লেখ আছে। তা ছাড়া ২৬ মে দুজনকেই আরও ৫০ হাজার টাকা করে ঘুষ দিতে চাপ দেন ওই প্রধান শিক্ষক। টাকা না দিলে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়ারও হুমকি দেন।

প্রধান শিক্ষককে বরখাস্তের বিষয়ে রহমানিয়া উচ্চবিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি মো. তালেব আলী বলেন, আর্থিক অনিয়ম, দুর্নীতি, মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে শিক্ষক নিয়োগ এবং বঙ্গবন্ধুর নামে বিদ্যালয়ে সংরক্ষিত প্রয়োজনীয় নথিপত্র নষ্ট করাসহ জাতির জনকের সংরক্ষিত ইতিহাস বিকৃতভাবে উপস্থাপন করায় প্রধান শিক্ষক আবু তৈয়বকে সাময়িকভাবে বহিষ্কৃত করা হয়। এ ছাড়া তিনি চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আপিল ও আরবিট্রেশন বোর্ডের চূড়ান্তভাবে বহিষ্কৃত ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন অবৈধভাবে বিদ্যালয়ে চাকরি করছিলেন।

তবে আর্থিক অনিয়ম ও খণ্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগে ঘুষ গ্রহণের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক মো. আবু তৈয়ব কে মুটোফোনে জানতে চাইলে তিনি ফোন কেটে দেন।

Tag :
সর্বাধিক পঠিত

চট্রগ্রামের রহমানিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিকক্ষ দুর্নীতির হিসাব দীর্ঘ

Update Time : ০৭:০০:১৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জুন ২০২৩

চট্রগ্রাম ব্যুরো : চট্রগ্রামের হামজারবাগের রহমানিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের বহিস্কৃত প্রধান শিক্ষক আবু তৈয়বের দুর্নীতির খতিয়ান লম্বা হচ্ছে। ক্রমান্বয়ে বেরিয়ে আসছে বিদালয়ের বিভিন্ন তহবিল থেকে তার অর্থ আর্তস্বাতের কাহিনী। তার এসব কর্মকান্ড নিয়ে মামলা চলমান এবং আরো মামলা প্রক্রিয়াধীন আছে বলে জানা যায়।
কয়েকজন মহিলা অভিভাবক জানায় সুন্দরী কোন মহিলা তার কাছে কোন অভিযোগ নিয়ে তাকে রুমে বসিয়ে রাখত এবং সুযোগ বুঝে অনৈতিক প্রস্তাব দিত।

অনুসন্ধানে জানা যায় রহমানিয়া স্কুলে যোগদান করার বেশ কবছর পর প্রায় দেড় কোটি টাকা খরচ করে বোয়ালখালীতে আধুনিক বাড়ী নির্মান করেছে অথচ শিক্ষকতা ছাড়া তার আর কোন কর্ম নাই।
প্রসঙ্গত বিষয় সহ ৩ লাখ টাকার ঘুষে খণ্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগসহ নানা অভিযোগে এক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম মো. আবু তৈয়ব। তিনি নগরের হামজারবাগ এলাকার রহমানিয়া উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।
গত ৩০ মে তাঁকে সাময়িক বরখাস্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি মো. তালেব আলী।

গত ৩০ মে ওই শিক্ষককে পাঠানো সভাপতি স্বাক্ষরিত সাময়িক বরখাস্ত আদেশে বলা হয়, গত ৮ মে চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে বিদ্যালয়ের একজন অভিভাবক প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, আর্থিক অনিয়ম, বিধিবহির্ভূতভাবে মোটা অঙ্কের ঘুষ গ্রহণ করে খণ্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগ এবং আরও নানা অভিযোগ আনেন।
ওই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। গতকাল সোমবার ওই কমিটি তদন্ত করতে গেলে প্রধান শিক্ষক কমিটির সভাপতির সামনে তদন্ত কমিটির সঙ্গে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন এবং তদন্তকাজে বাধা দেন। ২৩ মে সভাপতির পাঠানো নোটিশ গ্রহণ করেননি প্রধান শিক্ষক।
আদেশে আরও বলা হয়, চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড আপিল অ্যান্ড আরবিট্রেশন কমিটির

২০০৫ সালের ৭ মের সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত হন ওই প্রধান শিক্ষক। ওই বরখাস্ত আদেশ এখনো বলবৎ আছে। তাই প্রধান শিক্ষকের চাকরির বৈধতা নেই। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিদ্যালয়ের ইতিহাস বিকৃতি ও গুরুত্বপূর্ণ নথি নষ্ট করার অভিযোগেরও সত্যতা পাওয়া যায় বলে আদেশে বলা হয়। বরখাস্তের আদেশ ৩০ মে থেকে কার্যকর করা হয়েছে।
এদিকে গত ২৮ ও ২৯ মে বিদ্যালয়ের খণ্ডকালীন দুই শিক্ষক নিয়োগের সময় তাঁদের কাছ থেকে প্রধান শিক্ষক ঘুষ হিসেবে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করেছেন বলে লিখিত অভিযোগ করা হয়। লিখিত অভিযোগে নিয়োগের সময় ওই দুই শিক্ষকের কাছ থেকে ৩ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার কথা উল্লেখ আছে। তা ছাড়া ২৬ মে দুজনকেই আরও ৫০ হাজার টাকা করে ঘুষ দিতে চাপ দেন ওই প্রধান শিক্ষক। টাকা না দিলে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়ারও হুমকি দেন।

প্রধান শিক্ষককে বরখাস্তের বিষয়ে রহমানিয়া উচ্চবিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি মো. তালেব আলী বলেন, আর্থিক অনিয়ম, দুর্নীতি, মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে শিক্ষক নিয়োগ এবং বঙ্গবন্ধুর নামে বিদ্যালয়ে সংরক্ষিত প্রয়োজনীয় নথিপত্র নষ্ট করাসহ জাতির জনকের সংরক্ষিত ইতিহাস বিকৃতভাবে উপস্থাপন করায় প্রধান শিক্ষক আবু তৈয়বকে সাময়িকভাবে বহিষ্কৃত করা হয়। এ ছাড়া তিনি চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আপিল ও আরবিট্রেশন বোর্ডের চূড়ান্তভাবে বহিষ্কৃত ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন অবৈধভাবে বিদ্যালয়ে চাকরি করছিলেন।

তবে আর্থিক অনিয়ম ও খণ্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগে ঘুষ গ্রহণের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক মো. আবু তৈয়ব কে মুটোফোনে জানতে চাইলে তিনি ফোন কেটে দেন।