সূর্যোদয় ডেস্ক : আর্থিক অনিয়ম, বিজ্ঞাপনের বিল আত্মসাৎ এবং অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ‘দৈনিক সূর্যোদয়’ পত্রিকার সৌদি আরবের রিয়াদ প্রতিনিধি অজয় মল্লিককে তার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি সৌদি আরব ব্যুরো অফিস থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০২৬ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি অজয় মল্লিককে ‘দৈনিক সূর্যোদয়’-এর সৌদি আরব ব্যুরোর বিশেষ সংবাদদাতা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। নিয়োগ পাওয়ার পর থেকেই তিনি রিয়াদের বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও প্রবাসী উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে পত্রিকার বিজ্ঞাপন সংগ্রহ করতে শুরু করেন। অভিযোগ রয়েছে, কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রায় ২ লক্ষাধিক টাকার বিজ্ঞাপনের বিল গ্রহণ করলেও সেই
অর্থ পত্রিকার হিসাব বিভাগ কিংবা নির্ধারিত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা দেননি। বরং পুরো অর্থ ব্যক্তিগতভাবে আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এদিকে আর্থিক অনিয়মের পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে আরও গুরুতর অভিযোগ উঠে এসেছে। সৌদি আরবে নারী গৃহকর্মী নিয়োগের আড়ালে অসামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ তদন্তে উঠে আসার পর বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে কর্তৃপক্ষ। পত্রিকা কর্তৃপক্ষ জানায়, এসব কর্মকাণ্ড সাংবাদিকতার নীতি-নৈতিকতা, পেশাগত শৃঙ্খলা এবং প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। একই সঙ্গে জানানো হয়, এখন থেকে অজয় মল্লিকের সঙ্গে ‘দৈনিক সূর্যোদয়’-এর কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ক নেই। তার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ঠ থানায় সাধারণ ডায়েরী (জিডি) লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। দৈনিক সূর্যোদয়’-এর এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তার সঙ্গে ভবিষ্যতে কোনো ব্যক্তিগত, আর্থিক কিংবা ব্যবসায়িক লেনদেন করলে তার দায়ভার পত্রিকা কর্তৃপক্ষ বহন করবে না। বিজ্ঞাপন, সংবাদ কিংবা অফিসিয়াল যেকোনো প্রয়োজনে সরাসরি প্রধান কার্যালয় অথবা অনুমোদিত সৌদি আরব ব্যুরো প্রধান লিটন কান্তি তালুকদার, মোবাইল : ০০৯৬৬৫০৩৯৭০৬৫৯ নম্বরে যোগাযোগ করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। ঘটনাটি প্রবাসী সাংবাদিক মহলে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে দৈনিক সূর্যোদয়’-এর পরিচয় ব্যবহার করে ব্যক্তিগত সুবিধা আদায় ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে অনেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টদের মধ্যে পেশাগত জবাবদিহিতা ও নৈতিকতার বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে।



















