Dhaka ০৫:০১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ জুন ২০২৪, ৬ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

লক্ষীপুরে ছাত্রলীগ নেতা মিরাজ হত্যা মামলার সব আসামি খালাস

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৪:১৯:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ মে ২০২৩
  • 2331

লক্ষীপুর প্রতিনিধি : লক্ষীপুর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মিরাজুল ইসলাম মিরাজ (২৬) হত্যা মামলার ১২ আসামিকে খালাস দিয়েছেন আদালত।২২ মে সোমবার দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. রহিবুল ইসলাম এ রায় দেন।

খালাসপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- তানজিল হায়দার রিয়াজ, জাহাঙ্গীর, নুরে হেলাল মামুন, রিয়াজ, মোস্তফা কামাল, হারুন প্রকাশ ওরফে ডাল হারুন, জহির সর্দার, রফিক উল্যাহ সোহাগ, রাকিব হোসেন প্রকাশ ওরফে ইয়াবা রাজু, মুসলিম, মাসুদ ও সোহেল। রায়ের সময় খালাসপ্রাপ্ত ১১ আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এরমধ্যে তানজিল শুরু থেকেই পলাতক রয়েছেন।

লক্ষীপুর জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) জসীম উদ্দিন রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, হত্যার ঘটনায় সাক্ষীরা আসামিদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করেনি। কোনো আসামি ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিও দেননি। এছাড়া আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত আসামিদের মামলা থেকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন। তবে বাদীর আইনজীবী মিজানুর রহমান মুন্সি বলেন, আমরা এ রায়ে সন্তুষ্ট নয়। আমরা উচ্চ আদালতে আপিল করবো।

আদালত ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মিরাজ হত্যা মামলায় একাধিকবার তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিবর্তন হয়েছে। সবশেষ ২০১৬ সালের ৫ মে তদন্তকারী কর্মকর্তা ও লক্ষীপুর পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) উপ-পরিদর্শক মোজাম্মেল হোসেন আদালতে ১২ আসামির বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন।

চার্জশিট সূত্রে জানা যায়, আসামিদের সঙ্গে মিরাজের ব্যাবসায়িক সম্পর্ক ছিল। মিরাজের কাছে তাদের (আসামিদের) ব্যবসার ৩ লাখ টাকা ছিল। ওই টাকা বণ্টন নিয়ে তার সঙ্গে মনোমালিন্য হয়। পরে হত্যার ঘটনার ২-৩ দিন আগে আসামিরা মিরাজের খোঁজে মামলার বাদী ও মিরাজের বাবা আবুল কালামের মাছের দোকানে গিয়ে হামলা করে এবং কালামকে স্থানীয় একটি খাবার হোটেলে নিয়ে ভয়ভীতি দেখায়।
এর তিন দিন পর ২০১৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর জহিরের বাড়িতে মিরাজকে ডেকে নিয়ে ব্যাবসায়িক কথাবার্তা বলে তারা। কৌশলে আসামি মাসুদ ও সোহেল মিরাজকে মোটর সাইকেলযোগে ভূঁইয়ার হাটের দিকে নিয়ে যায়। পরে মিরাজের অবস্থান নিশ্চিতের জন্য মাসুদ ও সোহেলের সঙ্গে যোগাযোগ করে অন্য আসামিরা। ভূঁইয়ার হাট থেকে ফেরার পথে বিকেলে কেরোয়া ইউনিয়নের ভাঁটের মসজিদের অদূরে নির্জন এলাকায় পৌঁছালে আসামিরা মিরাজকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করে। ঘটনাস্থলে প্রচুর রক্তক্ষরণে মিরাজ মারা যান। তার মাথা, কপাল, বুক ও পাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে কোপানোর চিহ্ন ছিল। মিরাজের সঙ্গে থাকা মাসুদ ও সোহেলকেও আঘাত করা হয়। পরে ডাক্তারি প্রতিবেদনে বলা হয়, মাসুদ ও সোহলের আঘাত সামান্য ছিল। দীর্ঘ শুনানি ও ১৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত মামলার রায় প্রদান করেন।

Tag :
সর্বাধিক পঠিত

https://dainiksurjodoy.com/wp-content/uploads/2023/12/Green-White-Modern-Pastel-Travel-Agency-Discount-Video5-2.gif

দাঁতমারা সেলফি রোড়ে গাছের সঙ্গে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় নিহত ১

লক্ষীপুরে ছাত্রলীগ নেতা মিরাজ হত্যা মামলার সব আসামি খালাস

Update Time : ০৪:১৯:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ মে ২০২৩

লক্ষীপুর প্রতিনিধি : লক্ষীপুর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মিরাজুল ইসলাম মিরাজ (২৬) হত্যা মামলার ১২ আসামিকে খালাস দিয়েছেন আদালত।২২ মে সোমবার দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. রহিবুল ইসলাম এ রায় দেন।

খালাসপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- তানজিল হায়দার রিয়াজ, জাহাঙ্গীর, নুরে হেলাল মামুন, রিয়াজ, মোস্তফা কামাল, হারুন প্রকাশ ওরফে ডাল হারুন, জহির সর্দার, রফিক উল্যাহ সোহাগ, রাকিব হোসেন প্রকাশ ওরফে ইয়াবা রাজু, মুসলিম, মাসুদ ও সোহেল। রায়ের সময় খালাসপ্রাপ্ত ১১ আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এরমধ্যে তানজিল শুরু থেকেই পলাতক রয়েছেন।

লক্ষীপুর জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) জসীম উদ্দিন রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, হত্যার ঘটনায় সাক্ষীরা আসামিদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করেনি। কোনো আসামি ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিও দেননি। এছাড়া আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত আসামিদের মামলা থেকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন। তবে বাদীর আইনজীবী মিজানুর রহমান মুন্সি বলেন, আমরা এ রায়ে সন্তুষ্ট নয়। আমরা উচ্চ আদালতে আপিল করবো।

আদালত ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মিরাজ হত্যা মামলায় একাধিকবার তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিবর্তন হয়েছে। সবশেষ ২০১৬ সালের ৫ মে তদন্তকারী কর্মকর্তা ও লক্ষীপুর পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) উপ-পরিদর্শক মোজাম্মেল হোসেন আদালতে ১২ আসামির বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন।

চার্জশিট সূত্রে জানা যায়, আসামিদের সঙ্গে মিরাজের ব্যাবসায়িক সম্পর্ক ছিল। মিরাজের কাছে তাদের (আসামিদের) ব্যবসার ৩ লাখ টাকা ছিল। ওই টাকা বণ্টন নিয়ে তার সঙ্গে মনোমালিন্য হয়। পরে হত্যার ঘটনার ২-৩ দিন আগে আসামিরা মিরাজের খোঁজে মামলার বাদী ও মিরাজের বাবা আবুল কালামের মাছের দোকানে গিয়ে হামলা করে এবং কালামকে স্থানীয় একটি খাবার হোটেলে নিয়ে ভয়ভীতি দেখায়।
এর তিন দিন পর ২০১৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর জহিরের বাড়িতে মিরাজকে ডেকে নিয়ে ব্যাবসায়িক কথাবার্তা বলে তারা। কৌশলে আসামি মাসুদ ও সোহেল মিরাজকে মোটর সাইকেলযোগে ভূঁইয়ার হাটের দিকে নিয়ে যায়। পরে মিরাজের অবস্থান নিশ্চিতের জন্য মাসুদ ও সোহেলের সঙ্গে যোগাযোগ করে অন্য আসামিরা। ভূঁইয়ার হাট থেকে ফেরার পথে বিকেলে কেরোয়া ইউনিয়নের ভাঁটের মসজিদের অদূরে নির্জন এলাকায় পৌঁছালে আসামিরা মিরাজকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করে। ঘটনাস্থলে প্রচুর রক্তক্ষরণে মিরাজ মারা যান। তার মাথা, কপাল, বুক ও পাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে কোপানোর চিহ্ন ছিল। মিরাজের সঙ্গে থাকা মাসুদ ও সোহেলকেও আঘাত করা হয়। পরে ডাক্তারি প্রতিবেদনে বলা হয়, মাসুদ ও সোহলের আঘাত সামান্য ছিল। দীর্ঘ শুনানি ও ১৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত মামলার রায় প্রদান করেন।