Dhaka ০৪:৪১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ জুন ২০২৪, ৬ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম ১৫ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৪:৫৩:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ মে ২০২৩
  • 32139

সূর্যোদয় প্রতিবেদক: রাজধানীর ঢাকায় খুচরা ও পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের দাম আরও বেড়েছে। সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম খুচরা ও পাইকারিতে ১৫ থেকে ২০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।

দাম বেড়ে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ মানভেদে ৭৫ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি করছেন খুচরা বিক্রেতারা। এক সপ্তাহ আগেও এই দাম ছিল ৬০ থেকে ৬৫ টাকা।

পাইকারিতে এক পাল্লা (পাঁচ কেজি) পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৩০০ থেকে ৩২৫ টাকায়। যা গত সপ্তাহে ছিল ২২৫ থেকে ২৫০ টাকা। সে হিসেবে প্রতি কেজি ৪৫ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হওয়া পেঁয়াজ ৬০ থেকে ৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে এবং এতে বিপদে পড়েছে সাধারণ মানুষ।

এই ঊর্ধ্বমুখী দাম নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে তা আসছে কুরবানির ঈদে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এমন হুটহাট করে দাম বাড়ার পেছনে যে কারণগুলো দেখছেন তারা – পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ, উৎপাদন কম হওয়া, শিলা বৃষ্টিতে নষ্ট, অতি মুনাফার লোভে ব্যবসায়ীরা মজুদ করে বাজারে সংকট তৈরির চেষ্টা, সারের দাম বৃদ্ধি, পরিবহন ব্যয় ও চাঁদাবাজি।

ব্যবসায়ীরা জানান, মার্চ থেকে ভারত ও মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ আছে, ফলে দাম বেড়েছে। উৎপাদন মৌসুমে কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর গত মাস পর্যন্ত দাম নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এ মাসে লাফিয়ে বেড়েছে পেঁয়াজের দাম। শিগগিরই পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি না দিলে দাম আরও বাড়বে। আর এর প্রভাব পড়বে কুরবানির ঈদে।

প্রসঙ্গত, কৃষকদের স্বার্থের কথা বিবেচনা করে সরকার গত ১৫ মার্চ ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতিপত্র বন্ধ করে দেয়। ফলে এখন চাহিদার পুরোটা মেটানো হচ্ছে দেশি পেঁয়াজে।

১৯ মে শুক্রবার সরেজমিন রাজধানীর বিভিন্ন পাইকারি ও খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মানভেদে পাইকারিতে এক কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৬৫ টাকা। অথচ এক সপ্তাহ আগে বিক্রি হয়েছিলো ৪৫ থেকে ৫০ টাকা। আর গত ঈদের আগে এ পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছিলো ২২ থেকে ৩০ টাকা কেজি দরে। এছাড়া শ্যামবাজারের কোনো আড়তে নেই আমদানি করা পেঁয়াজ। দেশি পেঁয়াজের সরবরাহ মোটামুটি স্বাভাবিক থাকলেও দাম বাড়ছে প্রতিনিয়ত।

এদিকে পাইকারি বাজারগুলোতে দেশি পেঁয়াজের দাম বাড়তে থাকায় এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে অন্তত ৭৫ থেকে ৮০ টাকায়। যা গত সপ্তাহে ছিলো ৬০ থেকে ৬৫ টাকা অথচ ঈদের আগে খুচরায় প্রতি কেজি পেঁয়াজ কেনা যেত ৪০ থেকে ৪৫ টাকায়।

এদিকে দাম না কমলে দু-একদিনের মধ্যে পেঁয়াজ আমদানি করা হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

তিনি বলেছেন, পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। আমরা লক্ষ্য রাখছি। আপাতত ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রয়েছে। যদি দু-একদিনের মধ্যে দাম না কমে তাহলে পেঁয়াজ আমদানি করা হবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, কাঁচাবাজারের সবকিছু আমরা নিয়ন্ত্রণ করি না। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় রয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি খুব যে খারাপ তা কিন্তু নয়। ডলারের দাম বাড়ায় আমদানি করা পণ্যের দাম কিছুটা বেড়েছে। তবে বৈশ্বিক বিবেচনায় আমরা ভালো আছি। কাঁচাবাজারের দাম কখনো বাড়ে আবার কখনো কমে। পরিস্থিতি বিবেচনায় আমাদের সহ্য করতে হবে।

Tag :
সর্বাধিক পঠিত

https://dainiksurjodoy.com/wp-content/uploads/2023/12/Green-White-Modern-Pastel-Travel-Agency-Discount-Video5-2.gif

দাঁতমারা সেলফি রোড়ে গাছের সঙ্গে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় নিহত ১

সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম ১৫ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে

Update Time : ০৪:৫৩:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ মে ২০২৩

সূর্যোদয় প্রতিবেদক: রাজধানীর ঢাকায় খুচরা ও পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের দাম আরও বেড়েছে। সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম খুচরা ও পাইকারিতে ১৫ থেকে ২০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।

দাম বেড়ে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ মানভেদে ৭৫ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি করছেন খুচরা বিক্রেতারা। এক সপ্তাহ আগেও এই দাম ছিল ৬০ থেকে ৬৫ টাকা।

পাইকারিতে এক পাল্লা (পাঁচ কেজি) পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৩০০ থেকে ৩২৫ টাকায়। যা গত সপ্তাহে ছিল ২২৫ থেকে ২৫০ টাকা। সে হিসেবে প্রতি কেজি ৪৫ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হওয়া পেঁয়াজ ৬০ থেকে ৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে এবং এতে বিপদে পড়েছে সাধারণ মানুষ।

এই ঊর্ধ্বমুখী দাম নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে তা আসছে কুরবানির ঈদে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এমন হুটহাট করে দাম বাড়ার পেছনে যে কারণগুলো দেখছেন তারা – পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ, উৎপাদন কম হওয়া, শিলা বৃষ্টিতে নষ্ট, অতি মুনাফার লোভে ব্যবসায়ীরা মজুদ করে বাজারে সংকট তৈরির চেষ্টা, সারের দাম বৃদ্ধি, পরিবহন ব্যয় ও চাঁদাবাজি।

ব্যবসায়ীরা জানান, মার্চ থেকে ভারত ও মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ আছে, ফলে দাম বেড়েছে। উৎপাদন মৌসুমে কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর গত মাস পর্যন্ত দাম নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এ মাসে লাফিয়ে বেড়েছে পেঁয়াজের দাম। শিগগিরই পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি না দিলে দাম আরও বাড়বে। আর এর প্রভাব পড়বে কুরবানির ঈদে।

প্রসঙ্গত, কৃষকদের স্বার্থের কথা বিবেচনা করে সরকার গত ১৫ মার্চ ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতিপত্র বন্ধ করে দেয়। ফলে এখন চাহিদার পুরোটা মেটানো হচ্ছে দেশি পেঁয়াজে।

১৯ মে শুক্রবার সরেজমিন রাজধানীর বিভিন্ন পাইকারি ও খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মানভেদে পাইকারিতে এক কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৬৫ টাকা। অথচ এক সপ্তাহ আগে বিক্রি হয়েছিলো ৪৫ থেকে ৫০ টাকা। আর গত ঈদের আগে এ পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছিলো ২২ থেকে ৩০ টাকা কেজি দরে। এছাড়া শ্যামবাজারের কোনো আড়তে নেই আমদানি করা পেঁয়াজ। দেশি পেঁয়াজের সরবরাহ মোটামুটি স্বাভাবিক থাকলেও দাম বাড়ছে প্রতিনিয়ত।

এদিকে পাইকারি বাজারগুলোতে দেশি পেঁয়াজের দাম বাড়তে থাকায় এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে অন্তত ৭৫ থেকে ৮০ টাকায়। যা গত সপ্তাহে ছিলো ৬০ থেকে ৬৫ টাকা অথচ ঈদের আগে খুচরায় প্রতি কেজি পেঁয়াজ কেনা যেত ৪০ থেকে ৪৫ টাকায়।

এদিকে দাম না কমলে দু-একদিনের মধ্যে পেঁয়াজ আমদানি করা হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

তিনি বলেছেন, পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। আমরা লক্ষ্য রাখছি। আপাতত ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রয়েছে। যদি দু-একদিনের মধ্যে দাম না কমে তাহলে পেঁয়াজ আমদানি করা হবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, কাঁচাবাজারের সবকিছু আমরা নিয়ন্ত্রণ করি না। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় রয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি খুব যে খারাপ তা কিন্তু নয়। ডলারের দাম বাড়ায় আমদানি করা পণ্যের দাম কিছুটা বেড়েছে। তবে বৈশ্বিক বিবেচনায় আমরা ভালো আছি। কাঁচাবাজারের দাম কখনো বাড়ে আবার কখনো কমে। পরিস্থিতি বিবেচনায় আমাদের সহ্য করতে হবে।