Dhaka ০১:২৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

দাঁতমারায় লাইভে এসে জামাল দিলেন আওয়ামী লীগনেতাকে প্রাণে মারার হুমকি

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৫:০৮:৫৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ এপ্রিল ২০২৩
  • 1549

চট্টগ্রাম ব্যুরো : চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার ২ নং দাঁতমারা ইউনিয়নের যুবলীগনেতা জামাল উদ্দিন নিজেকে যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক দাবী করে ফেসবুক লাইভে এসে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগনেতা আব্দুর শুক্কুরকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছেন। গতকাল ২০ এপ্রিল বৃহস্পতিবার ফেসবুকের ভিডিও লাইভে এসে তিনি গত ১৫ এপ্রিল শনিবার আওয়ামীলীগনেতা মাসুদ হত্যার প্রতিবাদ সমাবেশে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগনেতা আব্দুর শুক্কুর অংশ নেয়ায় তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে এলাকার যেখানেই পাবেন সেখানেই প্রাণে মারার হুমকি দেন। এসময় ২ নং দাঁতমারা ইউনিয়নের যুবলীগনেতা জামাল উদ্দিন ফটিকছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব নাজিম উদ্দিন মুহুরীকেও অকথ্যভাষায় গালাগালি করতে দেখা গেছে। ১০ মিনিট ৪ সেকেন্ডের ভিডিও লাইভে তিনি আওয়ামীলীগের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেন। তিনি নিজেকে ফটিকছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান আবু তৈয়ব গ্রæপের নেতা দাবী করেছেন। বর্তমানে হুমকিদাতা জামাল উদ্দিনের ফেসবুক লাইভটি ভাইরাল হয়েছে। ফেসবুক লাইভে এসে হুমকির ঘটনায় আওয়ামী নেতাদের মাঝে ক্ষোভ সৃষ্ঠি হয়েছে। অনেকে জামাল উদ্দিককে গ্রেফতারের দাবী জানিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছেন বিষয়টি তারা খতিয়ে দেখছেন। উল্লেখ্য যে, গত ২০২২ সালের ২৫ জানুয়ারী ২ নং দাঁতমারা ইউনিয়নের বিভিন্ন সংবাদ পরিবেশনের সময় স্থানীয় চেয়ারম্যান জানে আলম জামাল উদ্দিন এলাকার সন্ত্রাসী ও বন বিভাগের সরকারী জমি দখল করে অন্যের নিকট বিক্রি করছে বলে মোবাইল ফোনে অভিযোগ করেন এই প্রতিবেদকের নিকট। ফোন রেকর্ডটি এখনো সুরক্ষিত রয়েছে দৈনিক সূর্যোদয় কতৃপক্ষের নিকট। জানা গেছে, জামাল উদ্দিন ২ নং দাঁতমারা ইউনিয়নের যুবলীগের যে কমিটি সাধারণ সম্পাদক দাবী করেছেন সেই কমিটির সভাপতি আক্তার হোসেনের নেতৃত্বে চলতি রমজানের ২য় দিনে গত ২৫ মার্চ নৃশংসভাবে খুন হয়েছেন চট্টগ্রাম ফটিকছড়ির দাঁতমারার বালুটিলা এলাকার ২ সন্তানের জনক মাসুদ। গত ১৪ এপ্রিল (শনিবার) দুপুরে উপজেলার দাঁতমারা ইউপির বালুটিলা এলাকার নিহত মাসুদের বসতবাড়িতে আসামীদের গ্রেফতারের দাবী জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। লিখিত বক্তব্যে মাসুদের ভাই মাহফুজুর রহমান বলেন, ২ নং দাঁতমারা ইউনিয়নের যুবলীগের সভাপতি আকতার হোসেন, তার ভাই মো.শামীম, দেলোয়ার হোসেন, জাহাঙ্গীর হোসেন, আনোয়ার হোসেন ও মোহাম্মদ রফিক আমার ভাইকে পূর্বপরিকল্পিত ভাবে হত্যা করেছে। মাসুদ ভাই তারাবির নামাজ পড়ে মোটরসাইকেল নিয়ে বাড়ির দিকে আসছিল, এমন সময় রাস্তায় তার মোটরসাইকেল গতিরোধ করে উপর্যপুরি কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে ঘাতকরা। আমি এবং আমার পরিবার আওয়ামী রাজনীতির সাথে জড়িত। আমি নিজেই যুবলীগের দায়িত্ব পালন করছি যদি শত্রুতা থাকে তাহলে আমার সাথে থাকতে পারে। কিন্তু আমার ভাই কেন তাদের হাতে বলি হল? আমার ভাই মাসুদ ছোট খাটো ব্যবসা বাণিজ্য করে পরিবার চালাতো। তার সাথে কারো শত্রুতা ছিলোনা। ইয়াবাসহ বিভিন্ন খারাপ কাজের জড়িত এ সিন্ডিকেটটি এত বড় ঘটনা ঘটানোর পরও ২জন ছাড়া বাকি সব আসামি পলাতক। প্রশাসন কেন বাকি আসামিদের গ্রেপ্তার করছে না এ বিষয়ে প্রশ্ন তুললে তিনি বলেন, পুলিশকে বললে তারা সব করে ফেলবে বলে পরে তারা কিছুই করেনা! প্রশাসনকে বিনয়ের সাথে অনুরোধ করছি খুনিদের গ্রেপ্তার করে কঠিন শাস্তি দেয়া হোক।

Tag :

দাঁতমারায় লাইভে এসে জামাল দিলেন আওয়ামী লীগনেতাকে প্রাণে মারার হুমকি

Update Time : ০৫:০৮:৫৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ এপ্রিল ২০২৩

চট্টগ্রাম ব্যুরো : চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার ২ নং দাঁতমারা ইউনিয়নের যুবলীগনেতা জামাল উদ্দিন নিজেকে যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক দাবী করে ফেসবুক লাইভে এসে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগনেতা আব্দুর শুক্কুরকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছেন। গতকাল ২০ এপ্রিল বৃহস্পতিবার ফেসবুকের ভিডিও লাইভে এসে তিনি গত ১৫ এপ্রিল শনিবার আওয়ামীলীগনেতা মাসুদ হত্যার প্রতিবাদ সমাবেশে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগনেতা আব্দুর শুক্কুর অংশ নেয়ায় তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে এলাকার যেখানেই পাবেন সেখানেই প্রাণে মারার হুমকি দেন। এসময় ২ নং দাঁতমারা ইউনিয়নের যুবলীগনেতা জামাল উদ্দিন ফটিকছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব নাজিম উদ্দিন মুহুরীকেও অকথ্যভাষায় গালাগালি করতে দেখা গেছে। ১০ মিনিট ৪ সেকেন্ডের ভিডিও লাইভে তিনি আওয়ামীলীগের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেন। তিনি নিজেকে ফটিকছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান আবু তৈয়ব গ্রæপের নেতা দাবী করেছেন। বর্তমানে হুমকিদাতা জামাল উদ্দিনের ফেসবুক লাইভটি ভাইরাল হয়েছে। ফেসবুক লাইভে এসে হুমকির ঘটনায় আওয়ামী নেতাদের মাঝে ক্ষোভ সৃষ্ঠি হয়েছে। অনেকে জামাল উদ্দিককে গ্রেফতারের দাবী জানিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছেন বিষয়টি তারা খতিয়ে দেখছেন। উল্লেখ্য যে, গত ২০২২ সালের ২৫ জানুয়ারী ২ নং দাঁতমারা ইউনিয়নের বিভিন্ন সংবাদ পরিবেশনের সময় স্থানীয় চেয়ারম্যান জানে আলম জামাল উদ্দিন এলাকার সন্ত্রাসী ও বন বিভাগের সরকারী জমি দখল করে অন্যের নিকট বিক্রি করছে বলে মোবাইল ফোনে অভিযোগ করেন এই প্রতিবেদকের নিকট। ফোন রেকর্ডটি এখনো সুরক্ষিত রয়েছে দৈনিক সূর্যোদয় কতৃপক্ষের নিকট। জানা গেছে, জামাল উদ্দিন ২ নং দাঁতমারা ইউনিয়নের যুবলীগের যে কমিটি সাধারণ সম্পাদক দাবী করেছেন সেই কমিটির সভাপতি আক্তার হোসেনের নেতৃত্বে চলতি রমজানের ২য় দিনে গত ২৫ মার্চ নৃশংসভাবে খুন হয়েছেন চট্টগ্রাম ফটিকছড়ির দাঁতমারার বালুটিলা এলাকার ২ সন্তানের জনক মাসুদ। গত ১৪ এপ্রিল (শনিবার) দুপুরে উপজেলার দাঁতমারা ইউপির বালুটিলা এলাকার নিহত মাসুদের বসতবাড়িতে আসামীদের গ্রেফতারের দাবী জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। লিখিত বক্তব্যে মাসুদের ভাই মাহফুজুর রহমান বলেন, ২ নং দাঁতমারা ইউনিয়নের যুবলীগের সভাপতি আকতার হোসেন, তার ভাই মো.শামীম, দেলোয়ার হোসেন, জাহাঙ্গীর হোসেন, আনোয়ার হোসেন ও মোহাম্মদ রফিক আমার ভাইকে পূর্বপরিকল্পিত ভাবে হত্যা করেছে। মাসুদ ভাই তারাবির নামাজ পড়ে মোটরসাইকেল নিয়ে বাড়ির দিকে আসছিল, এমন সময় রাস্তায় তার মোটরসাইকেল গতিরোধ করে উপর্যপুরি কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে ঘাতকরা। আমি এবং আমার পরিবার আওয়ামী রাজনীতির সাথে জড়িত। আমি নিজেই যুবলীগের দায়িত্ব পালন করছি যদি শত্রুতা থাকে তাহলে আমার সাথে থাকতে পারে। কিন্তু আমার ভাই কেন তাদের হাতে বলি হল? আমার ভাই মাসুদ ছোট খাটো ব্যবসা বাণিজ্য করে পরিবার চালাতো। তার সাথে কারো শত্রুতা ছিলোনা। ইয়াবাসহ বিভিন্ন খারাপ কাজের জড়িত এ সিন্ডিকেটটি এত বড় ঘটনা ঘটানোর পরও ২জন ছাড়া বাকি সব আসামি পলাতক। প্রশাসন কেন বাকি আসামিদের গ্রেপ্তার করছে না এ বিষয়ে প্রশ্ন তুললে তিনি বলেন, পুলিশকে বললে তারা সব করে ফেলবে বলে পরে তারা কিছুই করেনা! প্রশাসনকে বিনয়ের সাথে অনুরোধ করছি খুনিদের গ্রেপ্তার করে কঠিন শাস্তি দেয়া হোক।