Dhaka ১১:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ জুন ২০২৪, ৮ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

দাঁতমারায় মাসুদের খুনিদের বাঁচাতে তৎপর একটি গ্রুপ

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:১২:৫৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ মার্চ ২০২৩
  • 9201

সজীব চৌধুরী, চট্টগ্রাম : ২৫ মার্চ শনিবার রাতে তারাবির নামাজের পর ফটিকছড়ির দাঁতমারা ইউনিয়নের বালুটিলা এলাকায় মোহাম্মদ মাসুদ মির্জা (৩৫) নামে এক প্রবাসী খুন হয়েছেন। পুলিশ জানায়, শনিবার রাতে বালুটিলা মসজিদ থেকে তারাবির নামাজ শেষে মোটরসাইকেলযোগে বাড়ি ফিরছিলেন স্থানীয় আওয়ামী লীগনেতা মাসুদ মির্জা। বিগত ইউপি নির্বাচনে পক্ষ না নেয়ায় বালুটিলা বাজারে তার গাড়ি গতিরোধ করে দাঁতমারা ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আখতার হোসেন ও তার ভাই শামীম ও দেলোয়ার তাকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে পার্শ্ববর্তী একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ভূজপুর থানা পুলিশের ওসি হেলাল উদ্দিন ফারুকী বলেন, বালুটিলা এলাকায় মাসুদ নামে একজন খুন হয়েছে। আমরা লাশ উদ্ধার করেছি। সুত্র জানায়, আওয়ামী লীগনেতা মোহাম্মদ মাসুদ মির্জার খুনিদের বাঁচাতে বিভিন্নভাবে তৎপরতা চলছে। বিভিন্ন দিক থেকে হত্যা মামলার আসামি ও তাদের দোসরদের পক্ষে একটি গ্রুপ মাঠে নেমেছে। স্থানীয়রা জানান দাঁতমারা ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আখতার হোসেনকে খুনের দায় থেকে বাঁচাতে প্রশাসনকে ম্যানেজের চেষ্ঠা করে যাচ্ছেন ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক জামাল উদ্দিন। কারণ মাসুদ মির্জার খুনি শামীম ও দেলোয়ার দাঁতমারা ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক জামাল উদ্দিনের দেহরক্ষীর দায়িত্ব পালন করতেন। মাসুদ মির্জার পরিবারের বরাত দিয়ে একটি সুত্র এমন অভিযোগ করেছে। দাঁতমারা ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আখতার হোসেন ও তার ভাই শামীম ও দেলোয়ারের পক্ষে সাফাই গাইতে শুরু করেছে ওই গ্রæপটি। খুনীদের রক্ষায় দাঁতমারা ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক জামাল উদ্দিন ফটিকছড়ি উপজেলার রাজনৈতিক গডফাদারের সাথে যোগাযোগ করে পুলিশের উপর চাপ সৃষ্ঠির চেষ্ঠা করে যাচ্ছেন। এছাড়া নেতাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ধরনাও দিচ্ছে। জানা গেছে, মাসুদ মির্জার খুনের ঘটনায় জড়িত সবাই ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মী। তাছাড়া দেশের মানুষ সবাই জানে চট্টগ্রামের উত্তর ফটিকছড়ির ভুজপুর থানার বিভিন্ন এলাকা ও ইউনিয়ন এখন ক্ষমতাসীন দলের সন্ত্রাসীদের নিরাপদ জনপদ। এখানে ফটিকছড়ি উপজেলার এক গডফাদারদের ছত্রছায়ায় বিভিন্ন সন্ত্রাসী কার্যক্রম চলে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। তারা এখন নিজেরা নিজেদের দলের নেতাকেই খুন করতে তোয়াক্কা করছে না। সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য হিসেবে একসময় সারাদেশে আলোচিত হওয়া ফটিকছড়িতে রাজনৈতিক হত্যা, গুম, অপহরণ, দিনে-দুপুরে অস্ত্র উঁচিয়ে ছিনতাই, টেন্ডারবাজি, বালু লুট, বাসস্ট্যান্ডে চাঁদাবাজি, আধিপত্য বিস্তারে অস্ত্রের প্রকাশ্য মহড়া, সোনার দোকানে ডাকাতি, ব্যাংকের টাকা ছিনতাই ছিল এখানকার নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা।

Tag :
সর্বাধিক পঠিত

দাঁতমারায় মাসুদের খুনিদের বাঁচাতে তৎপর একটি গ্রুপ

Update Time : ১০:১২:৫৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ মার্চ ২০২৩

সজীব চৌধুরী, চট্টগ্রাম : ২৫ মার্চ শনিবার রাতে তারাবির নামাজের পর ফটিকছড়ির দাঁতমারা ইউনিয়নের বালুটিলা এলাকায় মোহাম্মদ মাসুদ মির্জা (৩৫) নামে এক প্রবাসী খুন হয়েছেন। পুলিশ জানায়, শনিবার রাতে বালুটিলা মসজিদ থেকে তারাবির নামাজ শেষে মোটরসাইকেলযোগে বাড়ি ফিরছিলেন স্থানীয় আওয়ামী লীগনেতা মাসুদ মির্জা। বিগত ইউপি নির্বাচনে পক্ষ না নেয়ায় বালুটিলা বাজারে তার গাড়ি গতিরোধ করে দাঁতমারা ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আখতার হোসেন ও তার ভাই শামীম ও দেলোয়ার তাকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে পার্শ্ববর্তী একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ভূজপুর থানা পুলিশের ওসি হেলাল উদ্দিন ফারুকী বলেন, বালুটিলা এলাকায় মাসুদ নামে একজন খুন হয়েছে। আমরা লাশ উদ্ধার করেছি। সুত্র জানায়, আওয়ামী লীগনেতা মোহাম্মদ মাসুদ মির্জার খুনিদের বাঁচাতে বিভিন্নভাবে তৎপরতা চলছে। বিভিন্ন দিক থেকে হত্যা মামলার আসামি ও তাদের দোসরদের পক্ষে একটি গ্রুপ মাঠে নেমেছে। স্থানীয়রা জানান দাঁতমারা ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আখতার হোসেনকে খুনের দায় থেকে বাঁচাতে প্রশাসনকে ম্যানেজের চেষ্ঠা করে যাচ্ছেন ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক জামাল উদ্দিন। কারণ মাসুদ মির্জার খুনি শামীম ও দেলোয়ার দাঁতমারা ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক জামাল উদ্দিনের দেহরক্ষীর দায়িত্ব পালন করতেন। মাসুদ মির্জার পরিবারের বরাত দিয়ে একটি সুত্র এমন অভিযোগ করেছে। দাঁতমারা ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আখতার হোসেন ও তার ভাই শামীম ও দেলোয়ারের পক্ষে সাফাই গাইতে শুরু করেছে ওই গ্রæপটি। খুনীদের রক্ষায় দাঁতমারা ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক জামাল উদ্দিন ফটিকছড়ি উপজেলার রাজনৈতিক গডফাদারের সাথে যোগাযোগ করে পুলিশের উপর চাপ সৃষ্ঠির চেষ্ঠা করে যাচ্ছেন। এছাড়া নেতাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ধরনাও দিচ্ছে। জানা গেছে, মাসুদ মির্জার খুনের ঘটনায় জড়িত সবাই ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মী। তাছাড়া দেশের মানুষ সবাই জানে চট্টগ্রামের উত্তর ফটিকছড়ির ভুজপুর থানার বিভিন্ন এলাকা ও ইউনিয়ন এখন ক্ষমতাসীন দলের সন্ত্রাসীদের নিরাপদ জনপদ। এখানে ফটিকছড়ি উপজেলার এক গডফাদারদের ছত্রছায়ায় বিভিন্ন সন্ত্রাসী কার্যক্রম চলে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। তারা এখন নিজেরা নিজেদের দলের নেতাকেই খুন করতে তোয়াক্কা করছে না। সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য হিসেবে একসময় সারাদেশে আলোচিত হওয়া ফটিকছড়িতে রাজনৈতিক হত্যা, গুম, অপহরণ, দিনে-দুপুরে অস্ত্র উঁচিয়ে ছিনতাই, টেন্ডারবাজি, বালু লুট, বাসস্ট্যান্ডে চাঁদাবাজি, আধিপত্য বিস্তারে অস্ত্রের প্রকাশ্য মহড়া, সোনার দোকানে ডাকাতি, ব্যাংকের টাকা ছিনতাই ছিল এখানকার নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা।