সূর্যোদয় ডেস্ক : সাতকানিয়ায় ডলু নদীর বালু মহাল-৪ আবার ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। এ ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান বলেন, কোনো মহাল থেকে যদি বালু উত্তোলনের সুযোগ থাকে তখন সেটি ইজারা দেওয়া হয়। আর যদি কোনো মহালে জনগণের অভিযোগ থাকে সেটি আমরা বন্ধ রাখি। ডলু বালু মহালে যদি অভিযোগ থাকে সেটি আমরা দেখবো। স্থানীয়দের অভিযোগ, ডলু নদীর ৩ ও ৪ নম্বর বালু মহাল ইজারার কারণে নদীর দুই তীরে ব্যাপক ভাঙনের সৃষ্টি হয়। এতে অনেকে বসতভিটা ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। অসংখ্য পরিবার একমাত্র সহায় সম্বল হারিয়ে পথে বসেছে। তাই স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসন গত বছর ডলু নদীর ৩ ও ৪ নম্বর মহালের ইজারা বাতিল করে। ওই সময় ইজারা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর স্থানীয় সংসদ সদস্য ড. প্রফেসর আবু রেজা মুহাম্মদ নিজামউদ্দীন নদভীর প্রচেষ্টায় জেলা প্রশাসন বালু মহাল দুটির ইজারা স্থাগিত করে। কিন্তু হঠাৎ জেলা প্রশাসন ডলু নদীর বালু মহাল-৪ এর ইজারা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে অন্যান্য বালু মহালের সঙ্গে। তবে ৩ নম্বর বালু মহালের ইজারা বিজ্ঞপ্তি এবার প্রকাশ করা হয়নি। তাদের অভিযোগ, ৪ নম্বর বালু মহাল ইজারা নেওয়ার জন্য স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র তৎপর। তারা দীর্ঘদিন থেকে অবৈধ ড্রেজার মেশিনের সাহায্যে বালু উত্তোলন করে কোটি কোটি টাকার বালু বিক্রি করেছে। ভয়ে তাদের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস পায় না কেউ। তাদের বিরুদ্ধাচারণ করলেই বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়। এর ফলে নদীর দুপাড়ে ব্যাপক ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকের বাড়িঘর বিলীন হয়েছে। অথচ এলাকাবাসীর বাড়ি ঘর রক্ষায় শিল্পগ্রুপ কেএসআরএমের কর্ণধার মোহাম্মদ শাহজাহান পূর্ব গাটিয়াডেঙ্গা এলাকায় নিজস্ব অর্থায়নে কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করেছেন। বর্তমানে এটিও ঝুঁকির মুখে। এবার ডলু মহাল-৪ ইজারা দেওয়া হলে ভাঙনে এটিও বিলীন হতে পারে এমন আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
০৮:৪৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:













