Dhaka ১১:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ জুন ২০২৪, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

সরকারের ব্যর্থতার কারণে বিস্ফোরণের নগরীতে পরিণত হয়েছে রাজধানী: ফখরুল

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৮:৫৪:৩৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ মার্চ ২০২৩
  • 17955

নিজস্ব প্রতিবেদক : কয়েকটি বিস্ফোরণের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আজকে দুর্ভাগ্য আমাদের। এই সরকারের ব্যর্থতার কারণে ঢাকা মহানগরী একটি বিস্ফোরণের নগরীতে পরিণত হয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে শুধু বিস্ফোরণ হচ্ছে। বুধবার (৮ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের শোভাযাত্রায় ফখরুল বলেন, যে ভবনে বিস্ফোরণ হচ্ছে সেই ভবনে নির্মাণ কাজ, রক্ষণাবেক্ষণ দেখাশোনা হয় না। গ্যাস জমে সাইন্সল্যাবে বিস্ফোরণে তিনজন লোক মারা গেলেন। গতকাল (মঙ্গলবার) ভয়াবহ বিস্ফোরণ (গুলিস্তানের সিদ্দিকবাজারে) হয়েছে। একটি বাণিজ্যিক ভবনে বিস্ফোরণের ফলে ১৭ জন মানুষ মারা গিয়েছেন। যাদের মধ্যে দুজন মহিলা রয়েছেন। এর আগে চট্টগ্রামে বিস্ফোরণ হলো সেখানে সাতজন লোক মারা গেলেন। কেন হচ্ছে এসব? তিনি অভিযোগ করেন, ‘সরকারের যে ডিপার্টমেন্টগুলো রয়েছে যাদের এগুলো দেখার কথা, নজরদারিতে রাখার কথা, তারা কোনো কাজ করে না। সব দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত। যার কারণে ভবনগুলোতে কোনো নিরাপত্তা নেই। বিস্ফোরণ-আগুন প্রতিরোধ করার কোনো ব্যবস্থা না থাকার কারণে আজকে এভাবে মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে। ঢাকা মহানগর সবচাইতে বিপজ্জনক একটি নগরে পরিণত হয়েছে। রাজধানীর বায়ুদূষণের বিষয়টি উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘শুধু তাই নয়, ঢাকা মহানগরের যে বাতাস সেটাকে বলা হচ্ছে পৃথিবীর সবচাইতে দূষিত বাতাস। মজার ব্যাপার হচ্ছে, ইংল্যান্ডে প্রকাশিত ইকোনোমিক্স পত্রিকা; তারা বলছে দূষিত মহানগরকে ছাড়িয়ে এখন দুর্নীতির যে বাতাস এটা এখন বাংলাদেশকে পুরোপুরি গ্রাস করে ফেলছে। ফখরুল বলেন, ‘আজকে আওয়ামী লীগের আমলে নারীরা যেভাবে নির্যাতিত হচ্ছেন অতীতে কখনো এরকম নির্যাতন হচ্ছে বলে আমার জানা নেই।’ মহিলা দলের নেতাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘বোনেরা আপনাদেরকে আরও বেশি করে সোচ্চার হতে হবে। আরো বেশি করে সংগঠিত হতে হবে। দেশের মানুষ, বিশেষ করে মহিলাদেরকে সংগঠিত করতে হবে। মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী হচ্ছে বেগম খালেদা জিয়া। আর সম্ভবত নারীদের মধ্যেও তিনি সবচেয়ে জনপ্রিয়। আমি যেখানে যাচ্ছি বয়স্ক মহিলারা জিজ্ঞেস করেন বেগম জিয়া কেমন আছেন। তিনি তাদের বুকের মধ্যেই রয়েছেন। আজকে তারা বেগম জিয়ার মুক্তির জন্য বড় আন্দোলন গড়ে তুলবেন। চলমান আন্দোলনের তারা আরো বেশি করে শরিক হবেন। বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘বোনেরা আপনারা যারা নেতৃত্ব দিচ্ছেন আপনাদেরকে আরও বেশি সংগঠক হতে হবে। আন্দোলনের মাধ্যমে এই জগদ্দল পাথরকে সরিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে, এটাই হচ্ছে আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ। তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে এবং মহিলাদের অত্যাচার না করা হয়। কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে ছাত্রী নির্যাতনের ঘটনায় সরকারি দল জড়িত অভিযোগ করে তিনি বলনে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মেয়েদের উপর অত্যাচার করা হচ্ছে। এগুলো কারা করছে, সরকারি দলের লোকেরাই করছে। ‘ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন শিক্ষার্থীর উপর নির্যাতন করা হয়, তখন নারীদের একটি সংগঠনও প্রতিবাদের জন্য এগিয়ে আসেনি, দুঃখ হয়। আপনাদের বেরিয়ে আসতে হবে, প্রতিবাদ করতে হবে। প্রতিবাদ না করে কীভাবে আমরা আমাদের অধিকার আদায় করব? কীভাবে আমাদের ন্যায্য দাবি আদায় করব? আপনারা নিজেদের অধিকারের জন্য রাস্তায় নামেন এবং আপনারা সফল হন, এই প্রত্যাশা করছি। মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাসের সভাপতিত্বে এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান, মহিলা দেেলর সাধারণ সম্পাদক সুলতান আহমেদ, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক হেলেন জেরিন খান, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক নায়েবা ইউসুফ, দক্ষিণের আহ্বায়ক রুমা আক্তার প্রমুখ।

Tag :

সরকারের ব্যর্থতার কারণে বিস্ফোরণের নগরীতে পরিণত হয়েছে রাজধানী: ফখরুল

Update Time : ০৮:৫৪:৩৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ মার্চ ২০২৩

নিজস্ব প্রতিবেদক : কয়েকটি বিস্ফোরণের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আজকে দুর্ভাগ্য আমাদের। এই সরকারের ব্যর্থতার কারণে ঢাকা মহানগরী একটি বিস্ফোরণের নগরীতে পরিণত হয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে শুধু বিস্ফোরণ হচ্ছে। বুধবার (৮ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের শোভাযাত্রায় ফখরুল বলেন, যে ভবনে বিস্ফোরণ হচ্ছে সেই ভবনে নির্মাণ কাজ, রক্ষণাবেক্ষণ দেখাশোনা হয় না। গ্যাস জমে সাইন্সল্যাবে বিস্ফোরণে তিনজন লোক মারা গেলেন। গতকাল (মঙ্গলবার) ভয়াবহ বিস্ফোরণ (গুলিস্তানের সিদ্দিকবাজারে) হয়েছে। একটি বাণিজ্যিক ভবনে বিস্ফোরণের ফলে ১৭ জন মানুষ মারা গিয়েছেন। যাদের মধ্যে দুজন মহিলা রয়েছেন। এর আগে চট্টগ্রামে বিস্ফোরণ হলো সেখানে সাতজন লোক মারা গেলেন। কেন হচ্ছে এসব? তিনি অভিযোগ করেন, ‘সরকারের যে ডিপার্টমেন্টগুলো রয়েছে যাদের এগুলো দেখার কথা, নজরদারিতে রাখার কথা, তারা কোনো কাজ করে না। সব দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত। যার কারণে ভবনগুলোতে কোনো নিরাপত্তা নেই। বিস্ফোরণ-আগুন প্রতিরোধ করার কোনো ব্যবস্থা না থাকার কারণে আজকে এভাবে মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে। ঢাকা মহানগর সবচাইতে বিপজ্জনক একটি নগরে পরিণত হয়েছে। রাজধানীর বায়ুদূষণের বিষয়টি উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘শুধু তাই নয়, ঢাকা মহানগরের যে বাতাস সেটাকে বলা হচ্ছে পৃথিবীর সবচাইতে দূষিত বাতাস। মজার ব্যাপার হচ্ছে, ইংল্যান্ডে প্রকাশিত ইকোনোমিক্স পত্রিকা; তারা বলছে দূষিত মহানগরকে ছাড়িয়ে এখন দুর্নীতির যে বাতাস এটা এখন বাংলাদেশকে পুরোপুরি গ্রাস করে ফেলছে। ফখরুল বলেন, ‘আজকে আওয়ামী লীগের আমলে নারীরা যেভাবে নির্যাতিত হচ্ছেন অতীতে কখনো এরকম নির্যাতন হচ্ছে বলে আমার জানা নেই।’ মহিলা দলের নেতাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘বোনেরা আপনাদেরকে আরও বেশি করে সোচ্চার হতে হবে। আরো বেশি করে সংগঠিত হতে হবে। দেশের মানুষ, বিশেষ করে মহিলাদেরকে সংগঠিত করতে হবে। মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী হচ্ছে বেগম খালেদা জিয়া। আর সম্ভবত নারীদের মধ্যেও তিনি সবচেয়ে জনপ্রিয়। আমি যেখানে যাচ্ছি বয়স্ক মহিলারা জিজ্ঞেস করেন বেগম জিয়া কেমন আছেন। তিনি তাদের বুকের মধ্যেই রয়েছেন। আজকে তারা বেগম জিয়ার মুক্তির জন্য বড় আন্দোলন গড়ে তুলবেন। চলমান আন্দোলনের তারা আরো বেশি করে শরিক হবেন। বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘বোনেরা আপনারা যারা নেতৃত্ব দিচ্ছেন আপনাদেরকে আরও বেশি সংগঠক হতে হবে। আন্দোলনের মাধ্যমে এই জগদ্দল পাথরকে সরিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে, এটাই হচ্ছে আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ। তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে এবং মহিলাদের অত্যাচার না করা হয়। কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে ছাত্রী নির্যাতনের ঘটনায় সরকারি দল জড়িত অভিযোগ করে তিনি বলনে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মেয়েদের উপর অত্যাচার করা হচ্ছে। এগুলো কারা করছে, সরকারি দলের লোকেরাই করছে। ‘ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন শিক্ষার্থীর উপর নির্যাতন করা হয়, তখন নারীদের একটি সংগঠনও প্রতিবাদের জন্য এগিয়ে আসেনি, দুঃখ হয়। আপনাদের বেরিয়ে আসতে হবে, প্রতিবাদ করতে হবে। প্রতিবাদ না করে কীভাবে আমরা আমাদের অধিকার আদায় করব? কীভাবে আমাদের ন্যায্য দাবি আদায় করব? আপনারা নিজেদের অধিকারের জন্য রাস্তায় নামেন এবং আপনারা সফল হন, এই প্রত্যাশা করছি। মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাসের সভাপতিত্বে এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান, মহিলা দেেলর সাধারণ সম্পাদক সুলতান আহমেদ, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক হেলেন জেরিন খান, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক নায়েবা ইউসুফ, দক্ষিণের আহ্বায়ক রুমা আক্তার প্রমুখ।