০৮:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

করেরহাটের স্টেশন কর্মকর্তা আলালের সহযোগিতায় প্রতিদিন অর্ধকোটি টাকার কাঠ পাচার

  • আপডেট: ০৫:১১:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • 18

বিশেষ প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম উত্তর বনবিভাগের করেরহাটের স্টেশন কর্মকর্তা মোঃ আলাল উদ্দিনকে টাকা দিয়ে ম্যানেজ করে উত্তর ফটিকছড়ির সংরক্ষিত বনাঞ্চলের নানা প্রজাতির গাছ দিনভর কেটে রাতভর সড়ক পথে পাচারের মহোৎসব চলে প্রতিদিন। ফটিকছড়ির ৫টি রেঞ্জ অফিসের আওতায় ১৫টি বনবিট থেকেই একযোগেই এই কাঠ পাচারের মহোৎসব চলে। পাচার হওয়া কাঠের নেই কোন কাগজপত্র। একরেরহাটের স্টেশন কর্মকর্তা মোঃ আলাল উদ্দিন ও তার সিন্ডিকেটকে প্রতি গাড়ীতে ৫০ হাজার টাকা প্রদান করলেই অবৈধ কাঠবাহী ট্রাক বিনা বাধায় নির্দিষ্ঠ স্থানে পৌঁছে যায়। সরেজমিন তদন্ত প্রতিবেদনটি তৈরী করতে গিয়ে জানাগেছে, নারায়নহাট রেঞ্জের নারায়ণহাট বনবিট, দাঁতমারা বনবিট, বালু খালী বনবিট, ধুরুং বনবিট, হাজারীখীল রেঞ্জের বারমাসিয়া বনবিট, ফটিকছড়ি বনবিট, হাসনাবাদ রেঞ্জের হাসনাবাদ বনবিট, তারাখোঁ বনবিট, করেরহাট রেঞ্জের হেয়াকো বনবিট ও আঁধার মানিক বনবিট এর আওতাধীন বনাঞ্চল করেরহাটের স্টেশন কর্মকর্তা আলালের কারণে প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে। করেরহাটের স্টেশন কর্মকর্তা মোঃ আলাল উদ্দিন যোগদানের পর থেকেই অসহনীয় দুর্নীতির মাধ্যমে বিরান ভূমিতে পরিণত করেছে সংরক্ষিত এই বনাঞ্চল। বৈধ কাঠের গাড়ী আড়ালে অবৈধ কাঠের গাড়ী নির্দিষ্ঠ স্থানে পৌছে দিতে তিনি একটি নিজস্ব সিন্ডিকেট তৈরি করেন। অনুসন্ধানে জানা গেছে, চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের করেরহাট বনাঞ্চলগুলোতে দুর্নীতি ও অনিয়মের অন্যতম প্রধান ধরন হচ্ছে সংরক্ষিত বনাঞ্চল হতে অবৈধভাবে কাঠ সংগ্রহ ও পাচার। এর ফলে একদিকে যেমন বন উজাড় হচ্ছে, তেমনি সরকার রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এদিকে, দাঁতমারা-হেঁয়াকো-রামগড়-সোনাইপুল সড়ক, দাঁতমারা-নারায়ণহাট-কাজিরহাট সড়ক, নারায়ণহাট-শ্বেতছড়া-
মীরশ্বরাই সড়ক, গাড়িটানা-সাপমারা-কাজিরহাট সড়ক, কাজীরহাট-ফটিকছড়ি সড়ক, কাঞ্চনপুর-ফটিকছড়ি-লেলাং সড়ক, কাজিরহাট-নাজিরহাট-হাটহাজারী সড়কের উপর দিয়ে এসব কাঠ পাচার হচ্ছে করেরহাট চেকপোস্টে পেরিয়ে। প্রতিদিন অবাধে পাচার হচ্ছে বনের গাছ, ফার্নিচার ও চিরাই কাঠ। এ নিয়ে কোন ভূমিকা নেই চট্টগ্রাম উত্তর বনবিভাগের করেরহাট করেরহাটের স্টেশন কর্মকর্তা মোঃ আলাল উদ্দিন আলালের। এই বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য করেরহাটের স্টেশন কর্মকর্তা মোঃ আলাল উদ্দিন আলালের মোবাইল ফোন নাম্বারে যোগাযোগ করা হলে তিনি এই কাঠ পাচারের বিষয়টি স্বীকার করে অর্থ প্রদানের জন্য এই প্রতিবেদকের বিকাশ নাম্বার দিতে বলেন। এবং এই বিষয়ে তিনি পত্রিকায় কিছু না লেখার জন্য অনুরোধ করেন।