সূর্যোদয় ডেস্ক : || : চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে নারীদের সৌদি আরবে নিয়ে যায় মুন্সিগঞ্জের জসিম নামের এক এক প্রতারক। সৌদিতে গৃহকর্মী বা ভালো বেতনের চাকরি পাইয়ে দেয়ার কথা বলে প্রতারণার জাল পাতে জসিম ও তার চক্র। আর এভাবেই মিথ্যা কথার প্রতিশ্রুতিতে সৌদি আরবে নিয়ে গিয়ে করানো হয় অনৈতিক কাজ। সম্প্রতি সৌদি আরবে অবস্থানরত দালাল জসিমের জিম্মিদশা থেকে কুলসুম (৩৫) (ছদ্মনাম) নামে এক নারী পালিয়ে আসলে বের হয়ে আসে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য। কুলসুমের বাড়ি হালুয়াঘাট উপজেলার দক্ষিণ মনিকুড়া গ্রামে। শুধু কুলসুম নয়, তার মতো আরো অনেক নারী সৌদিতে জসিমের ফাঁদে পড়ে দিনের পর দিন সম্ভ্রম হারাচ্ছে। কোনো উপায়ান্তর না পেয়ে বাধ্য হয়েই মেনে নিতে হচ্ছে সকল অপকর্ম। কুলসুম জানান, এভাবেই প্রতারণা করে যাচ্ছে জসিম। দিনের পর দিন এইসব অপকর্ম করে হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। জসিম প্রকৃত ঠিকানা প্রকাশ করে না কখনো। কখনো বলে কুমিল্লার মুরাদনগর, আবার কখনো বলে চাঁদপুরের মতলব উপজেলায়। তবে সৌদি আরবে অবস্থানরত জসিমের পরিচিত শাহিনুর (৩৫) নামে একজন মুঠোফোনে বলেন, জসিমের বাড়ি ঢাকার মুন্সিগঞ্জে। শাহিনুর বলেন, সোহেল চৌধুরী সৌদি আরবের রিয়াদে ভাড়া বাসা নিয়ে অবস্থান করে। সেখানে ঐ প্রতারকের আরো ৪টি বাসা ভাড়া নেয়া আছে। এসব বাসায় নারীদেরকে রেখে অপকর্ম করায় সোহেল। তবে কুলসুম বাংলাদেশে পালিয়ে আসার পর সোহেল চৌধুরী বাসা ছেড়ে পালিয়েছে- এমনটা জানান সৌদিতে অবস্থানকৃত শাহিনুর। প্রতারণার শিকার কুলসুম জানান, গত ১৭ই ফেব্রুয়ারি মতিঝিল ফকিরাপুলের ্মএক দালালের মাধ্যমে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। কিন্তু স্বপ্ন যে দুঃস্বপ্নে পরিণত হবে জানা ছিল না তার। সৌদি আরবে পাড়ি দেয়া মাত্রই লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় ভাগ্য পরিবর্তনের কাজে যাওয়া কুলসুমের। তাকে বাধ্য করানো হতো নানা অপকর্মে। কুলসুমের অভিযোগ, এ চক্রের সঙ্গে জড়িত মুন্সিগঞ্জে জসিমসহ একটি সিন্ডিকেট চক্র। জসিমের হাতে সৌদি আরবে ইতিমধ্যে জিম্মি রয়েছে আরো ১০ জন নারী। তাদেরকে দিয়েও করানো হয় বিভিন্ন অসামাজিক কাজ। প্রতি রাতেই করতে হয় খদ্দেরদের মন জয়ের চেষ্টা। কুলসুমকে কীভাবে বিদেশ যাওয়ার স্বপ্ন দেখলো- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, নারায়নগঞ্জের ফতুল্লায় একটি বাসায় স্বামী-সন্তান নিয়ে ভাড়া থাকতেন। সেখানে একটি প্রাইভেট স্কুলে নিজ সন্তানকে পৌঁছে দিতে প্রতিদিন যেতে হতো। এরই মাঝে পিছু নেয় এক জসিমের স্ত্রী। আস্তে আস্তে জসিমের স্ত্রীর সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে কুলসুমের। এক পর্যায়ে বিদেশ নেয়ার লোভ দেখায়। নিজের স্বামী সৌদিতে থাকে এমন প্রস্তাব দিলে নিজের কষ্ট লাঘবের কথা চিন্তা করে রাজি হয়ে যায় কুলসুম। প্রতারক জসিমকে নিজের স্বামী পরিচয় দিয়ে ফোনে কথা বলায় কুলসুমকে। পরে কুলসুমের সঙ্গে বেশ কিছুদিন কথা বলে ফকিরাপুলের একটি এজেন্সির ঠিকানা দেয়। ঠিকানা মতো গিয়ে পাসপোর্ট জমা দিতে বললে এজেন্সির লোকমানের নিকট পাসপোর্ট জমা দেন কুলসুম। কোনো টাকা ছাড়াই সকল কাগজপত্র ও ফ্লাইট প্রস্তুত করে দেন মুজিবর। আর ১৭ই ফেব্রুয়ারি বিমানযোগে সৌদিতে পৌঁছামাত্রই শুরু হয় তার ভাগ্য বিড়ম্বনা। কুলসুমের ভগ্নিপতি সাইফুল (৫৫) বলেন, সৌদিতে কুলসুম গিয়েছে তা কুলসুমের পরিবারের কেউ জানতো না। সৌদিতে পৌঁছার পর কুলসুম ফোন দিয়ে নির্যাতনের কথা জানিয়ে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানান তার দুলাভাইয়ের কাছে। প্রতারক জসিমের বাড়ী আধারা ইউনিয়নের কালিরচর গ্রাম।
১২:২৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:




















