মুহাম্মদ এরশাদুল হক : বাঁশখালী শেখেরখীল ইউনিয়নের মুহাম্মদ ইদ্রিস (১২)নামে এক ইস্কুল পড়ুয়া ছাত্রের জিবন কাহিনি,এই ছাত্র দৈনিক সূর্যোদয় পত্রিকাকে বলেন,আমি ধার করা একটি মোবাইল ফোন নিয়ে, শখের বশে ২০১৯ সালে শুরু করেছিলাম সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে কন্টেন্ট তৈয়রির কাজ, তিনি এই ছোট্ট বয়সে এতো বেশি মানুষের ভালোবাসা অর্জন করেছেন বর্তমানে তার ফেসবুক পেজে ১ লাখ ৩৬ হাজারের অধিক ফলোয়ার,টিকটকে ৮৬ হাজারের অধিক ফলোয়ার,ইউটিউবে ৫৩০০ এর কাছাকাছি সাবক্রাইব নিয়ে কোটি কোটি মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে নিজেকে বড্ড আনন্দিত মনে করেছেন। তিনি আরো বলেন,এই টিমের নাম রেখেছিলাম,কিরন শিল্পীগোষ্টী। এতে গান কবিতা,কৌতুক, নাটিকা, স্টেজ প্রোগ্রামের মাধ্যমে সবার মন জয় করেছে টিমটি। বাঁশখালী শেখেরখীল ইউনিয়নের মুহাম্মদ ইদ্রিস এবং চার বন্ধু মিলে প্রতিনিয়ত তারা ব্যস্ত থাকেন বিভিন্ন সামাজিক কন্টেন্ট আর ইসলামীক গান নিয়ে। এই টিমের সদস্যরা হলেন(১)মোহাম্মদ ইদ্রিস পিতা: আনোয়ার হোসেন মধ্যেম শেখেরখীল মৌলাভীঘোনা ৫নং ওয়ার্ড,শেখেরখীল,বাঁশখালী(২)মুহাম্মদ আজিজুল হক পিতা:ছাবের আহমেদ (মিয়া) আকবর আলী মহুরী পাড়া,শেখেরখীল ৭নং ওয়ার্ড,বাঁশখালী (৩)মুহাম্মদ মনির উদ্দিন পিতা: নেজাম উদ্দিন,আকবর আলী মহুরী পাড়া,শেখেরখীল ৭নং ,বাঁশখালী (৪)মুহাম্মদ রমিজ উদ্দিন রিজবু, পিতা:আফাজ উদ্দিন সামসিকদার পাড়া,শেখেরখীল ১নং ওয়ার্ড,,বাঁশখালী (৫)মুহাম্মদ মোজাহিদুল ইসলাম,পিতা : নুরুল ইসলাম সিকদার পাড়া শেখেরখীল ৪নং ওয়ার্ড,,বাঁশখালী,তারা স্কুল জীবনের গণ্ডি পার করার পাশাপাশি,পেয়েছেন তুমুল জনপ্রিয়তা ও কোটি কোটি মানুষের অফুরন্ত ভালোবাসা। ইদ্রীস আরো বলেন শুরুটা এত সহজ ছিল না।শুরুতে কাজ করা অনেক কষ্টের ছিল! ২০১৯ সালের শেষে দিকে চাচা রহমত আলী,বড় ভাই সোহানের হাত ধরে কাজ করা শুরু করি। একসময় তারা নিজের কাজে ব্যাস্ত থাকার কারণে ভিডিও করা ছেড়ে দেন। তারপর আমি থেমে থাকিনি৷ নিজের মোবাইল ছিল না তাই আমার ফুফির মোবাইল দিয়ে কাজ করতে থাকি। ২০২১ সালে আমার নিজের আয়ের টাকা দিয়ে মোবাইল কিনি। প্রতিবেশী আত্মীয় স্বজনরা অনেকে অনেক কথা বলত। হাসাহাসি করত। তাদের কথায় কান না দিয়ে নিজের মতো করে কাজ করে এতটুকু আসা। তাদের করা আঞ্চলিক হাওলাগীতি টিকটক ফেসবুক , ইউটিউব মিলে ৩০ মিলিয়ন বার দেখা হয়েছে এর মধ্যে। টিকটক প্লাটফর্মে ৭০ হাজারের বেশি ভিডিও রিমেক হয়েছে। তাছাড়া মায়ের একধার দুধের দাম- ২.৮ মিলিয়ন, আজ কেন পৃথিবীটা লাগে এত সুন্দর – ১.৯ মিলিয়ন,তোরে বড় বিশ্বাস গরি বানাইলাম মেম্বার -১.৮ মিলিয়ন,হৃদয়ে ফিলিস্তিন – ১.৬মিলিয়ন বার দেখা হয়েছে। এছাড়াও মৌলিক গানের মধ্যে গান”বাবা হারানোর শোকে, প্রবাসী ভাইদের কষ্ট নিয়ে গাওয়া সংগীতটি খুবই সাড়া ফেলেছে নেট দুনিয়ায়।বাঁশখালী উপজেলা নিয়ে মৌলিক গানটি ও বেশ সাড়া পাই,তাদের গাওয়া গানগুলো মধ্যে বর্তমানে ৪৫টি কন্টেন্ট মিলিয়ন ভিউ অতিক্রম করেছে মিলিয়ন ছাড়া ও ১৬০টি কনটেন্ট লাখ লাখ ভিউ অর্জন করে। এটি বড় অর্জন বলে দেখছেন নেটিজেনরা। ইদানীং ভালো রেভিনিউ আসছে এসব কন্টেন্ট থেকে৷ সেখান থেকে তৈরি হয়েছে স্টুডিও। নানা প্রয়োজনীয় ইকুপমেন্ট কেনা হয়েছে রেভিনিউর টাকায়। স্বপ্নের কথা জানাচ্ছিলেন এই তরুণ। আমাদের লক্ষ্য শুধু বিনোদন নয়—আমরা সংগীত ও চলচ্চিত্রের মাধ্যমে সমাজে আলো জ্বালাতে চাই। যৌতুক, জুয়া, মাদকসহ যেসব বিষাক্ত সামাজিক সমস্যা আছে, আমরা তা নিয়ে সচেতনতামূলক কনটেন্ট তৈরি করি। আমাদের বিশ্বাস, একটা ভালো গান বা একটা শক্তিশালী ফিল্ম মানুষের চিন্তা বদলে দিতে পারে’ইদ্রিসের ফেসবুক পেজে এখন ১ লাখ ৩৬ হাজারেরও বেশি,টিকটকে ৮৬ হাজারের বেশি ফলোয়ার,ইউটিউবে ৫৩০০ এর কাছাকাছি সাবক্রাইব মানুষ যুক্ত আছে যারা প্রতিনিয়ত ভালোবাসা আর সমর্থন আমাদের এগিয়ে যেতে সাহস দিচ্ছে।ইদ্রিস জানান আমরা শুধু কনটেন্ট নির্মাণ করি না, আমরা পরিবর্তনের গল্প তৈরি করি। আমি ধন্যবাদ জানাই আমার সকল শুভাকাঙ্ক্ষী,আমার বন্ধুবান্ধব,আত্মীয় স্বজন,আমার ফ্যামিলি আর আমাদের টিমের বড় ভাই জালাল উদ্দিন যিনি আমাদের পরামর্শ দেন, আরো ধন্যবাদ জানাই কিরণ শিল্পীর প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক গিয়াস উদ্দিন আর রহমত স্যার সহ পুরো কিরণ পরিবারকে যেখান থেকে আমি শিখে কোটি মানুষের ভালোবাসা পেলাম।সর্বশেষ আমি ধন্যবাদ জানাই আমাদের প্রাণ প্রিয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নাপোড়া স্কুলের সকল শিক্ষকদের প্রতি,আমি সহ আমরা আমাদের জীবনের সকল শিক্ষককে শ্রদ্ধা করি। পরিশেষ মুহাম্মদ ইদ্রিস তার মায়ের জন্য সমগ্র ভালোবাসার মাষের দু-আ ছেয়েছেন, তার মা প্রায় ৩ বসর ধরে অসুস্থ অবস্থায় রয়েছেন।
০৬:১২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:










