১০:০৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শত অভিযোগে বহালতবিয়তে নারায়নহাট রেঞ্জ কর্মকর্তা আনিসুর রহমান

মোরশেদুল আলম, চট্টগ্রাম ব্যুরো : চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের আওতাধীন নারায়নহাট রেঞ্জ কর্মকর্তা আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে বালি উত্তোলন, পাহাড় কাটা, বনের জায়গায় অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ, গাছ কাটা ও সুফল প্রকল্পের টাকা লুটপাটসহ নানান অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে স্থানীয় বেশকিছু পত্রিকায় বিভিন্ন শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনসহ এ রেঞ্জ কর্মকর্তার নানান অনিয়ম- দুনীতি উল্লেখ করে সরকারি বিভিন্ন দপ্তর ও খোদ বিভাগীয় বন কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন স্থানীয় একাধিক লোকজন। কিন্তু কোন অদৃশ্য শক্তির ইশারায় এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে উদাসীন এটা নিয়ে উদ্ধিগ্ন সচেতন মহল। একটি সূত্র বলছে,বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর বিভিন্ন মাধ্যমে নিজের অপকর্ম ঠেকাতে চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তাকে সুপারিশ করেন। একপর্যায়ে তিনি নিশ্চিত হন তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। বিভিন্ন দপ্তরে দায়ের করা লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, টাকা পেলেই নারায়নহাট রেঞ্জ আওতাধীন সব অপরাধের বৈধতা দিতে বিন্দুমাত্রও চিন্তা করেন না।এতে উজাড় হচ্ছে বন ভূমি ও বন্যপ্রানী আবাসস্থল। সূত্রে প্রকাশ, নারায়নহাট রেঞ্জের বালুখালি বিট, দাঁতমারা বিট, মাইজকান্দি, যোগারখীল, নারায়ন হাট ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের ধামারখীল বাজারে রেঞ্জের প্রশাসনিক এলাকায় এহেন কোন অপকর্ম নাই যা উক্ত বন কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট নাই। তার অপকর্ম যাতে কেউ প্রতিবাদ করতে না পারে সেই ব্যবস্থাও করে রাখেন তিনি। বন রক্ষার নামে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে দাঁতমারা দাউদের টিলা ও নারায়ন হাট ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের ধামারখীল বাজারে প্লট বানিয়ে বনভৃমি জবর-দখল সিন্ডিকেটের মাধ্যমে, পাকা দালান নির্মাণ করে মার্কেট করার সুযোগ করে দেন। এ কাজে চতুর এই কর্মকর্তা একজন সহকারী বন সংরক্ষক কেও প্রয়োজনে ব্যবহার করেন বলেও জানা যায়। পাহাড় কেটে মাটি, বালি, স্থাপনা নির্মান ও গাছ পাচার বানিজ্যের মাধ্যমে অর্থ কামাতে সময় পার করেন এই রেঞ্জ কর্মকর্তা। অভিযোগ আছে এলাকার একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের সাথে চুক্তি করে দাঁতমারা বিটের বিভিন্ন এলাকার বালি উত্তোলন করে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে লাখ টাকা কন্ট্রাক্ট করে, রাতের আঁধারে মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করে দিনে ডাম্পার গাড়ি দিয়ে পাচার করে আসছেন এই বন কর্মকর্তা। এসব করে অল্প সময়ের মধ্যে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন বলে জানা যায়। বিষয়টি নিয়ে বন ও পরিবেশ নিয়ে কাজ করা পরিবেশ আন্দোলন বাপা”র সাধারণ সম্পাদক কলিম উল্লাহ বলেন,পরিবেশ প্রতিবেশ ধ্বংস করতে যদি খোদ পরিবেশ রক্ষাকারীরা ধ্বংস করে এতে বলার কিছু কি থাকে? রক্ষক যখন ভক্ষক হয় সেখানে তো ধ্বংস অনিবার্য। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বলবো অপরাধীকে তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত আইনের আওতায় এনে আগামী প্রজন্মের জন্য সুন্দর পরিবেশ তৈরি হউক। অভিযুক্ত এ বন কর্মকর্তার অভিযোগের বিষয়ে জানতে তার মোবাইল ফোনে কল দেয়া হলে তিনি রিসিভ করেননি এবং ক্ষুদে বার্তা পাঠালে তার জবাব দেননি। অপরদিকে এসব বিষয় জানতে চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এস এম কায়চার এর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি মুঠোফোনের কল রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব তারেক রেজাকে গ্রেফতার

শত অভিযোগে বহালতবিয়তে নারায়নহাট রেঞ্জ কর্মকর্তা আনিসুর রহমান

আপডেট: ১২:৫৮:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ নভেম্বর ২০২৪

মোরশেদুল আলম, চট্টগ্রাম ব্যুরো : চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের আওতাধীন নারায়নহাট রেঞ্জ কর্মকর্তা আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে বালি উত্তোলন, পাহাড় কাটা, বনের জায়গায় অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ, গাছ কাটা ও সুফল প্রকল্পের টাকা লুটপাটসহ নানান অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে স্থানীয় বেশকিছু পত্রিকায় বিভিন্ন শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনসহ এ রেঞ্জ কর্মকর্তার নানান অনিয়ম- দুনীতি উল্লেখ করে সরকারি বিভিন্ন দপ্তর ও খোদ বিভাগীয় বন কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন স্থানীয় একাধিক লোকজন। কিন্তু কোন অদৃশ্য শক্তির ইশারায় এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে উদাসীন এটা নিয়ে উদ্ধিগ্ন সচেতন মহল। একটি সূত্র বলছে,বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর বিভিন্ন মাধ্যমে নিজের অপকর্ম ঠেকাতে চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তাকে সুপারিশ করেন। একপর্যায়ে তিনি নিশ্চিত হন তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। বিভিন্ন দপ্তরে দায়ের করা লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, টাকা পেলেই নারায়নহাট রেঞ্জ আওতাধীন সব অপরাধের বৈধতা দিতে বিন্দুমাত্রও চিন্তা করেন না।এতে উজাড় হচ্ছে বন ভূমি ও বন্যপ্রানী আবাসস্থল। সূত্রে প্রকাশ, নারায়নহাট রেঞ্জের বালুখালি বিট, দাঁতমারা বিট, মাইজকান্দি, যোগারখীল, নারায়ন হাট ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের ধামারখীল বাজারে রেঞ্জের প্রশাসনিক এলাকায় এহেন কোন অপকর্ম নাই যা উক্ত বন কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট নাই। তার অপকর্ম যাতে কেউ প্রতিবাদ করতে না পারে সেই ব্যবস্থাও করে রাখেন তিনি। বন রক্ষার নামে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে দাঁতমারা দাউদের টিলা ও নারায়ন হাট ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের ধামারখীল বাজারে প্লট বানিয়ে বনভৃমি জবর-দখল সিন্ডিকেটের মাধ্যমে, পাকা দালান নির্মাণ করে মার্কেট করার সুযোগ করে দেন। এ কাজে চতুর এই কর্মকর্তা একজন সহকারী বন সংরক্ষক কেও প্রয়োজনে ব্যবহার করেন বলেও জানা যায়। পাহাড় কেটে মাটি, বালি, স্থাপনা নির্মান ও গাছ পাচার বানিজ্যের মাধ্যমে অর্থ কামাতে সময় পার করেন এই রেঞ্জ কর্মকর্তা। অভিযোগ আছে এলাকার একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের সাথে চুক্তি করে দাঁতমারা বিটের বিভিন্ন এলাকার বালি উত্তোলন করে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে লাখ টাকা কন্ট্রাক্ট করে, রাতের আঁধারে মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করে দিনে ডাম্পার গাড়ি দিয়ে পাচার করে আসছেন এই বন কর্মকর্তা। এসব করে অল্প সময়ের মধ্যে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন বলে জানা যায়। বিষয়টি নিয়ে বন ও পরিবেশ নিয়ে কাজ করা পরিবেশ আন্দোলন বাপা”র সাধারণ সম্পাদক কলিম উল্লাহ বলেন,পরিবেশ প্রতিবেশ ধ্বংস করতে যদি খোদ পরিবেশ রক্ষাকারীরা ধ্বংস করে এতে বলার কিছু কি থাকে? রক্ষক যখন ভক্ষক হয় সেখানে তো ধ্বংস অনিবার্য। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বলবো অপরাধীকে তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত আইনের আওতায় এনে আগামী প্রজন্মের জন্য সুন্দর পরিবেশ তৈরি হউক। অভিযুক্ত এ বন কর্মকর্তার অভিযোগের বিষয়ে জানতে তার মোবাইল ফোনে কল দেয়া হলে তিনি রিসিভ করেননি এবং ক্ষুদে বার্তা পাঠালে তার জবাব দেননি। অপরদিকে এসব বিষয় জানতে চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এস এম কায়চার এর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি মুঠোফোনের কল রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।