০৪:২৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এক ডজন মামলার আসামী মানিকারচর ইউপি চেয়ারম্যানের দাপটে মানুষ অতিষ্ঠ

  • আপডেট: ০৩:৫৭:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৪
  • 239

সূর্যোদয় প্রতিবেদক : কুমিল্লার মেঘনা উপজেলায় মানিকারচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রতারক মো. জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। তার অনিয়ম নিয়ে কেউ মুখ খুললে তাকে মারধর করে নিজের ক্ষমতার জানান দেন তিনি। এছাড়া ওই ওয়ার্ডের বিভিন্ন মানুষজনকে সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নাম করে হাতিয়ে নিচ্ছেন মোটা অংকের টাকা। মানিকারচর ইউনিয়নটি চেয়ারম্যান জাকির হোসেনের স্বঘোষিত সাম্রাজ্যতে পরিণত হয়েছে। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক ইউনিয়নের ৩ টি ওয়ার্ডের কয়েকজন ভুক্তভোগী জানান, আমরা জানি সরকার বিনামূল্যে অসহায়দের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে। তবে মানিকারচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাকির হোসেনের কাছে এসব সুযোগ-সুবিধা চাইতে গেলে তিনি প্রথমেই টাকার কথা বলেন। যার নায়ক কুমিল্লার মানিকারচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাকির হোসেন ৩৪ বছর বয়সে মাত্র ৬ বছরের ব্যবধানে প্রাইভেটকারের চালক থেকে হয়েছেন হাজার কোটি টাকার মালিক। এই সম্পদ গড়তে একের পর এক বোকা বানিয়েছেন পুলিশসহ সরকারি শত শত কর্মকর্তাকে। তার বিরুদ্ধে হত্যা চেষ্ঠাসহ ১৫ টি প্রতারণার মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। জাকির হোসেন চেয়ারম্যানের প্রতারণার শিকার ভুক্তভোগীরা জানান, তারা জাকির চেয়ারম্যানের কাছ থেকে গাড়ি কিনতেন। ২৩ লাখ টাকার গাড়ি ১৭ লাখ টাকায় বিক্রি করে চেয়ারম্যান নিজেই আবার সে গাড়ি ৭০ হাজার টাকা মাস চুক্তিতে ভাড়া করতেন। গাড়ি কিনলেও কেউ মালিকানার কাগজ পেতেন না। এমনকি গাড়ি চোখেও দেখেননি অনেকে। এভাবে শত শত মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন জাকির, যারা প্রতিদিনই ভিড় জমান তার ইউনিয়ন পরিষদের অফিসে। নিজেকে পরিচয় দেন সফল ব্যবসায়ী ও তরুণ উদ্যোক্তা হিসেবে। জাকির চেয়ারম্যানের এই অভিনব প্রতারণার তালিকায় সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও রয়েছেন। এসব ঘটনায় মামলা যেমন হয়েছে, অভিযোগের পাহাড় জমেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছেও। এত অভিযোগ থাকার পরও জাকির চেয়ারম্যান কিভাবে বহাল-তবিয়তে রয়েছেন, তা এক রহস্যই বটে! অভিযোগ উঠেছে, প্রতারণার টাকায় জাকির তার নিজ জমির ওপর আলিশান বাড়ি নির্মাণ করেছেন। ওই বাড়ি নির্মাণকাজে আট কোটি টাকা খরচ করেছেন। এ ছাড়াও নির্বাচনে প্রতীক বাগিয়ে নিতে আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী এক নেতাকে দিতে হয়েছে প্রাডো গাড়ি। নির্বাচনে ব্যয় করেছেন আট কোটি টাকা। এলাকাবাসী জানিয়েছেন জাকিরের প্রতারণার ভয়ঙ্কর তথ্য। জানাগেছে, প্রতারণার টাকায় জাকির চেয়ারম্যান তার গ্রামে আলিশান বাড়ি বানিয়েছেন। নির্বাচনে বিপুল টাকা খরচ করে চেয়ারম্যান হয়েছেন। ঢাকাতে তিনি ফ্ল্যাট-প্লট ও গাড়ি কিনেছেন। এ ছাড়া প্রতারণার টাকায় তিনি ছেলেকে আমেরিকায় পাঠিয়েছেন। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জানান, মানিকারচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাকির হোসেনের বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে বলে আমি জানি তবে মামলাগুলোতে তিনি জামিনে রয়েছেন। এছাড়া সরকারি কোনো সুযোগ-সুবিধার বিনিময়ে ইউপি সদস্য অর্থ আদায় করলে অভিযোগের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সর্বাধিক পঠিত

ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ১৬৪

এক ডজন মামলার আসামী মানিকারচর ইউপি চেয়ারম্যানের দাপটে মানুষ অতিষ্ঠ

আপডেট: ০৩:৫৭:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৪

সূর্যোদয় প্রতিবেদক : কুমিল্লার মেঘনা উপজেলায় মানিকারচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রতারক মো. জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। তার অনিয়ম নিয়ে কেউ মুখ খুললে তাকে মারধর করে নিজের ক্ষমতার জানান দেন তিনি। এছাড়া ওই ওয়ার্ডের বিভিন্ন মানুষজনকে সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নাম করে হাতিয়ে নিচ্ছেন মোটা অংকের টাকা। মানিকারচর ইউনিয়নটি চেয়ারম্যান জাকির হোসেনের স্বঘোষিত সাম্রাজ্যতে পরিণত হয়েছে। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক ইউনিয়নের ৩ টি ওয়ার্ডের কয়েকজন ভুক্তভোগী জানান, আমরা জানি সরকার বিনামূল্যে অসহায়দের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে। তবে মানিকারচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাকির হোসেনের কাছে এসব সুযোগ-সুবিধা চাইতে গেলে তিনি প্রথমেই টাকার কথা বলেন। যার নায়ক কুমিল্লার মানিকারচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাকির হোসেন ৩৪ বছর বয়সে মাত্র ৬ বছরের ব্যবধানে প্রাইভেটকারের চালক থেকে হয়েছেন হাজার কোটি টাকার মালিক। এই সম্পদ গড়তে একের পর এক বোকা বানিয়েছেন পুলিশসহ সরকারি শত শত কর্মকর্তাকে। তার বিরুদ্ধে হত্যা চেষ্ঠাসহ ১৫ টি প্রতারণার মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। জাকির হোসেন চেয়ারম্যানের প্রতারণার শিকার ভুক্তভোগীরা জানান, তারা জাকির চেয়ারম্যানের কাছ থেকে গাড়ি কিনতেন। ২৩ লাখ টাকার গাড়ি ১৭ লাখ টাকায় বিক্রি করে চেয়ারম্যান নিজেই আবার সে গাড়ি ৭০ হাজার টাকা মাস চুক্তিতে ভাড়া করতেন। গাড়ি কিনলেও কেউ মালিকানার কাগজ পেতেন না। এমনকি গাড়ি চোখেও দেখেননি অনেকে। এভাবে শত শত মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন জাকির, যারা প্রতিদিনই ভিড় জমান তার ইউনিয়ন পরিষদের অফিসে। নিজেকে পরিচয় দেন সফল ব্যবসায়ী ও তরুণ উদ্যোক্তা হিসেবে। জাকির চেয়ারম্যানের এই অভিনব প্রতারণার তালিকায় সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও রয়েছেন। এসব ঘটনায় মামলা যেমন হয়েছে, অভিযোগের পাহাড় জমেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছেও। এত অভিযোগ থাকার পরও জাকির চেয়ারম্যান কিভাবে বহাল-তবিয়তে রয়েছেন, তা এক রহস্যই বটে! অভিযোগ উঠেছে, প্রতারণার টাকায় জাকির তার নিজ জমির ওপর আলিশান বাড়ি নির্মাণ করেছেন। ওই বাড়ি নির্মাণকাজে আট কোটি টাকা খরচ করেছেন। এ ছাড়াও নির্বাচনে প্রতীক বাগিয়ে নিতে আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী এক নেতাকে দিতে হয়েছে প্রাডো গাড়ি। নির্বাচনে ব্যয় করেছেন আট কোটি টাকা। এলাকাবাসী জানিয়েছেন জাকিরের প্রতারণার ভয়ঙ্কর তথ্য। জানাগেছে, প্রতারণার টাকায় জাকির চেয়ারম্যান তার গ্রামে আলিশান বাড়ি বানিয়েছেন। নির্বাচনে বিপুল টাকা খরচ করে চেয়ারম্যান হয়েছেন। ঢাকাতে তিনি ফ্ল্যাট-প্লট ও গাড়ি কিনেছেন। এ ছাড়া প্রতারণার টাকায় তিনি ছেলেকে আমেরিকায় পাঠিয়েছেন। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জানান, মানিকারচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাকির হোসেনের বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে বলে আমি জানি তবে মামলাগুলোতে তিনি জামিনে রয়েছেন। এছাড়া সরকারি কোনো সুযোগ-সুবিধার বিনিময়ে ইউপি সদস্য অর্থ আদায় করলে অভিযোগের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।