Dhaka ০২:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ জুন ২০২৪, ৯ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

র‌্যাব-৭ চট্টগ্রামের তত্ত্বাবধানে ৫০ জলদস্যু আত্মসমর্পণ করলেন

তপন তালুকদার: র‌্যাব-৭, চট্টগ্রামের তত্ত্বাবধানে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার উপকূলীয় অঞ্চলের ৫০ জন জলদস্যু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। ৩০ মে বৃহস্পতিবার র‌্যাব-৭ পতেঙ্গা কার্যালয়ের এলিট হলে শর্তহীনভাবে জলদস্যুরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। এদের মধ্যে ৪৯ জন পুরুষ এবং ১ জন নারী। তবে ৫০ জন জলদস্যুর মধ্যে ৩ জন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত জলদস্যু। এর আগে আত্মসমর্পণকারী জলদস্যুরা তাদের অস্ত্র, গুলি ও অন্যান্য সরঞ্জাম জমা দিয়েছেন। সূত্র জানায়, আত্মসমর্পণকারী জলদস্যুরা চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার জেলার বাঁশখালী, চকরিয়া, পেকুয়া, মহেশখালী ও কুতুবদিয়া অঞ্চলের সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম সুসংগঠিত, ভয়ংকর ও সক্রিয় জলদস্যু বাহিনীর নেতা ও সদস্য। র‌্যাব জানায়, র‌্যাব-৭, চট্টগ্রামের তত্ত্বাবধানে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার উপকূলীয় অঞ্চলের এসব জলদস্যু আইনি প্রক্রিয়া শেষে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগ পাবেন। র‌্যাব আরও জানায়, চট্টগ্রাম জেলার বাঁশখালী এবং কক্সবাজার জেলার চকরিয়া, পেকুয়া, মহেশখালী ও কুতুবদিয়ার হাজার হাজার উপকূলবর্তী মানুষ দীর্ঘদিন ধরে কতিপয় চিহ্নিত জলদস্যু ও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী গ্রুপের কাছে জিম্মি হয়ে রয়েছে। এসব মানুষের মধ্যে অনেকে জলদস্যুদের দ্বারা অত্যাচারিত হয়ে দুঃসহ জীবনযাপন করছেন। আর এসব এলাকার স্থানীয় অস্ত্র কারিগররা প্রতিনিয়ত এই জলদস্যু ও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের দেশীয় অবৈধ অস্ত্রের বড় একটি অংশ সরবরাহ করে যাচ্ছে।চট্টগ্রাম-কক্সবাজারের বিস্তীর্ণ উপকূলীয় এলাকায় জলদস্যুদের দমন, দেশীয় অস্ত্র তৈরির কারিগর ও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে র‌্যাব প্রতিনিয়ত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। র‌্যাব-৭, চট্টগ্রাম প্রতিষ্ঠালগ্ন হতে অদ্যবধি বাঁশখালী, চকরিয়া, পেকুয়া, মহেশখালী ও কুতুবদিয়া অঞ্চলসহ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলের ৩৪২ জন কুখ্যাত জলদস্যু এবং অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীকে আটক করে এবং দেশি-বিদেশি মিলিয়ে ২ হাজার ৬০৩টি বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র উদ্ধার করে। এছাড়া ২০১৮ এবং ২০২০ সালে ৭৭ জন জলদস্যু র‌্যাবের কাছে আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসে সরকারি ও বেসরকারি প্রণোদনায় পুনর্বাসিত হয়। যার ফলে বাঁশখালী, চকরিয়া, পেকুয়া, মহেশখালী, কুতুবদিয়া অঞ্চলে বিভিন্ন জলদস্যু বাহিনীর অপতৎপরতা বহুলাংশে হ্রাস পেয়েছে। আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বন্দর পতেঙ্গা আসনের সংসদ সদস্য এম এ লতিফ, পুলিশের আইজি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন, র‌্যাবের মহাপরিচালক এম খুরশীদ হোসেন, চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার এম তোফায়েল ইসলাম, র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) মাহবুব আলম, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি নুরে আলম মিনা। স্বাগত বক্তব্যে জলদস্যু আত্মসমর্পণের বিস্তারিত তুলে ধরেন র‌্যাব-৭ চট্টগ্রামের অধিনায়ক লে. কর্নেল মাহবুব আলম।

Tag :
সর্বাধিক পঠিত

র‌্যাব-৭ চট্টগ্রামের তত্ত্বাবধানে ৫০ জলদস্যু আত্মসমর্পণ করলেন

Update Time : ০২:০৭:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪

তপন তালুকদার: র‌্যাব-৭, চট্টগ্রামের তত্ত্বাবধানে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার উপকূলীয় অঞ্চলের ৫০ জন জলদস্যু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। ৩০ মে বৃহস্পতিবার র‌্যাব-৭ পতেঙ্গা কার্যালয়ের এলিট হলে শর্তহীনভাবে জলদস্যুরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। এদের মধ্যে ৪৯ জন পুরুষ এবং ১ জন নারী। তবে ৫০ জন জলদস্যুর মধ্যে ৩ জন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত জলদস্যু। এর আগে আত্মসমর্পণকারী জলদস্যুরা তাদের অস্ত্র, গুলি ও অন্যান্য সরঞ্জাম জমা দিয়েছেন। সূত্র জানায়, আত্মসমর্পণকারী জলদস্যুরা চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার জেলার বাঁশখালী, চকরিয়া, পেকুয়া, মহেশখালী ও কুতুবদিয়া অঞ্চলের সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম সুসংগঠিত, ভয়ংকর ও সক্রিয় জলদস্যু বাহিনীর নেতা ও সদস্য। র‌্যাব জানায়, র‌্যাব-৭, চট্টগ্রামের তত্ত্বাবধানে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার উপকূলীয় অঞ্চলের এসব জলদস্যু আইনি প্রক্রিয়া শেষে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগ পাবেন। র‌্যাব আরও জানায়, চট্টগ্রাম জেলার বাঁশখালী এবং কক্সবাজার জেলার চকরিয়া, পেকুয়া, মহেশখালী ও কুতুবদিয়ার হাজার হাজার উপকূলবর্তী মানুষ দীর্ঘদিন ধরে কতিপয় চিহ্নিত জলদস্যু ও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী গ্রুপের কাছে জিম্মি হয়ে রয়েছে। এসব মানুষের মধ্যে অনেকে জলদস্যুদের দ্বারা অত্যাচারিত হয়ে দুঃসহ জীবনযাপন করছেন। আর এসব এলাকার স্থানীয় অস্ত্র কারিগররা প্রতিনিয়ত এই জলদস্যু ও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের দেশীয় অবৈধ অস্ত্রের বড় একটি অংশ সরবরাহ করে যাচ্ছে।চট্টগ্রাম-কক্সবাজারের বিস্তীর্ণ উপকূলীয় এলাকায় জলদস্যুদের দমন, দেশীয় অস্ত্র তৈরির কারিগর ও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে র‌্যাব প্রতিনিয়ত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। র‌্যাব-৭, চট্টগ্রাম প্রতিষ্ঠালগ্ন হতে অদ্যবধি বাঁশখালী, চকরিয়া, পেকুয়া, মহেশখালী ও কুতুবদিয়া অঞ্চলসহ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলের ৩৪২ জন কুখ্যাত জলদস্যু এবং অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীকে আটক করে এবং দেশি-বিদেশি মিলিয়ে ২ হাজার ৬০৩টি বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র উদ্ধার করে। এছাড়া ২০১৮ এবং ২০২০ সালে ৭৭ জন জলদস্যু র‌্যাবের কাছে আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসে সরকারি ও বেসরকারি প্রণোদনায় পুনর্বাসিত হয়। যার ফলে বাঁশখালী, চকরিয়া, পেকুয়া, মহেশখালী, কুতুবদিয়া অঞ্চলে বিভিন্ন জলদস্যু বাহিনীর অপতৎপরতা বহুলাংশে হ্রাস পেয়েছে। আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বন্দর পতেঙ্গা আসনের সংসদ সদস্য এম এ লতিফ, পুলিশের আইজি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন, র‌্যাবের মহাপরিচালক এম খুরশীদ হোসেন, চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার এম তোফায়েল ইসলাম, র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) মাহবুব আলম, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি নুরে আলম মিনা। স্বাগত বক্তব্যে জলদস্যু আত্মসমর্পণের বিস্তারিত তুলে ধরেন র‌্যাব-৭ চট্টগ্রামের অধিনায়ক লে. কর্নেল মাহবুব আলম।