চট্টগ্রাম প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে বিভিন্ন প্রার্থীদের প্রচারে জমে উঠেছে নির্বাচনী মাঠ। ভোটের লড়াইয়ে আটজন প্রার্থী থাকলেও নৌকার প্রার্থী খাদিজাতুল আনোয়ার সনি ও তরমুজ প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী এইচ এম আবু তৈয়ব হেভিওয়েট প্রার্থী।
তবে দুজনই আওয়ামী লীগের নেতা হওয়ায় ভোট কেন্দ্রে সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন ভোটাররা। এই নির্বাচনী আসনের সবচেয়ে বেশী ঝুঁকিপূর্ণ ১ নং বাগানবাজার ইউনিয়নের ভোটকেন্দ্রগুলো। এই ইউনিয়নে স্বতন্ত্র এক প্রার্থীর প্রচারণায় বহিরাগত সন্ত্রাসীদের ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বাগানবাজারে গত ২৩ ডিসেম্বর শনিবার রাত ১২ টায় দিকে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী খাদিজাতুল আনোয়ার সনির নির্বাচনী অফিসে ভাঙচুর করা হয়। ফটিকছড়ি উপজেলার বাগানবাজার ইউনিয়নের বাংলাবাজার ও নতুন রাস্তার মাথা এলাকার এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা বাগানবাজার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সাজুর অনুসারী তরমুজের কর্মী সমর্থকদের দায়ী করেছেন। বিগত ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহাদাত হোসেন সাজু চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে নৌকার সমর্থকরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। এদিকে বিএনপি নির্বাচনে না আসলেও আওয়ামী লীগের প্রার্থী রফিকুল আনোয়ারের কন্যা খাদিজাতুল আনোয়ার সনি নৌকা নিয়ে নির্বাচনী মাঠে থাকায় অধিকাংশ ভোটারের মধ্যে ভোটদানের আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। তবে ১ নং বাগানবাজার ইউনিয়নের অনেকে নির্বিঘ্নে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারা নিয়ে সন্দিহান। ইউনিয়নের সবাই নিরাপদে ভোট দান নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। নাম প্রকাশ না করা শর্তে গোয়েন্দা সংস্থার একজন কর্মকর্তা জানান, ১ নং বাগানবাজার ইউনিয়নের সবগুলো কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ। এদিকে সাধারণ ভোটাররা ১ নং বাগানবাজার ইউনিয়নের সবগুলো কেন্দ্রই সিসি ক্যামেরা স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন। জানা গেছে, গত ২১ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৭ টায় স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এম আবু তৈয়ব এর প্রচারের সভা করেন বাগানবাজার ইউপি চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সাজু। ১ নং বাগানবাজার ইউনিয়ন পরিষদ ব্যবহার করে নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর অভিযোগে চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সাজুকে শোকজও করেছে রিটার্নিং কর্মকর্তা। নৌকার সমর্থকরা জানান, ১ নং বাগানবাজার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সাজু পছন্দের বাহিরে কেউ কিছু বলতে পারেন না তাই বাগানবাজারে নৌকার প্রার্থীকে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারা নিয়ে শঙ্কায় আছেন নৌকার সমর্থকরা।
এদিকে সহকারি রির্টানিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণে বাগানবাজার ইউনিয়নের সবগুলো কেন্দ্রই নিরাপত্তার বিষয়ে আমাদের পরিকল্পনা আছে। আমাদের সব বিভাগ সমন্বয় করে কাজ করছে। অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য আমরা সচ্ছতার সঙ্গে কাজ করছি।
এব্যাপারে ভূজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: কামরুজ্জামান বলেন, বাগানবাজার ইউনিয়নের সবগুলো কেন্দ্রই নিরাপত্তার বিষয়ে আমাদের কোনো ঘাটতি নেই এই বিষয়ে আমাদের উপরের মহলও অবগত আছেন। তাই এই ইউনিয়নের প্রত্যেকটা কেন্দ্রকেই আমরা গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছি, আমাদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা আছে। এছাড়াও এখন থেকেই সার্বক্ষণিক আমাদের প্রশাসনিক নজরদারি রয়েছে।




















