তপন তালুকদার, সূর্যোদয়: দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য এম এ লতিফকে আবারও আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন দেয়ায় দলীয় এ প্রার্থীকে পরিবর্তন করতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর কাছে চিঠি দিয়েছেন স্থানীয় নেতারা। ফলে চট্টগ্রাম-১১ আসনে নৌকা প্রতিকের প্রার্থীকে নিয়ে চায়ের দোকান থেকে শুরু করে সবখানেই চলছে আলোচনা-সমালোচনা।
স্থানীয় ইউনিট, ওয়ার্ড ও থানা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অভিযোগ, বন্দর-পতেঙ্গা আসনের সংসদ সদস্য এম এ লতিফ গত ১৫ বছর ধরে দলের নেতাকর্মীদের সাথে কোনো ধরনের যোগাযোগ রাখেন না। নেতাকর্মীদের দাবী দলীয় নেতা কর্মীদের সাথে জন বিচ্ছিন্ন বর্তমান সংসদ সদস্য এ লতিফকে এবারও আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন দেওয়ায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারা। এদিকে নৌকা প্রতিকের এই প্রার্থীকে নিয়ে টানাটানি শুরু হওয়ার পর থেকে ওই আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন এম এ লতিফের ছেলে ওমর হাজ্জাজ। তিনি চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি। গত ২৮ নভেম্বর মঙ্গলবার মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন হাজ্জাজ।
একই আসনে স্বতন্ত্র হিসেবে মনোনয়ন নিয়েছেন ৩৯ নম্বর দক্ষিণ হালিশহর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জিয়াউল হক সুমন। তিনি স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা।
গত ২৭ নভেম্বর সোমবার রাতে স্থানীয় একটি কমিউনিটি সেন্টারে জিয়াউল হক সুমন মতবিনিময় সভা করে নৌকা প্রতিকের প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য এ লতিফকে পরিবর্তন করতে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাদের ঐক্যবদ্ধ করেন। ওই সভায় নগর আওয়ামী লীগগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনসহ সিনিয়র অনেক নেতা উপস্থিত ছিলেন। সভায় আ জ ম নাছির উদ্দিনসহ অন্যান্য বক্তারা লতিফের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ আনেন।
অন্যদিকে গত ২৮ নভেম্বর মঙ্গলবার চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামীলীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় এম এ লতিফের দলীয় নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারা।
সভায় ৩৯ নং দক্ষিণ হালিশহর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জিয়াউল হক সুমন এবং স্থানীয় নেতাকর্মীরা লতিফের প্রার্থী পরিবর্তনের অনুরোধ জানিয়ে একটি চিঠি মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীনের কাছে হস্তান্তর করেছেন। এই চিঠির প্রেক্ষিতে এম এ লতিফের মনোনয়ন পরিবর্তনের অনুরোধ জানিয়ে সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে চিঠি পাঠানোর সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নিয়েছে নগর আওয়ামী লীগ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি নঈম উদ্দীন চৌধুরী, এডভোকেট ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল, খোরশেদ আলম সুজন, এম. জহিরুল আলম দোভাষ, আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাচ্চু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বদিউল আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক নোমান আল মাহমুদ এমপি, কোষাধ্যক্ষ আচদুচ ছালাম, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিক আদনান, চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী, সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য শফিকুল ইসলাম ফারুক, সৈয়দ হাসান মাহমুদ শমসের, এড. শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী, চন্দন ধর, আহমেদুর রহমান সিদ্দিকী, হাজী মো. হোসেন, জালাল উদ্দীন ইকবাল, জোবাইরা নার্গিস খান, আবু তাহের, উপপ্রচার সম্পাদক শহিদুল আলম, উপদপ্তর সম্পাদক জহর লাল হাজারী, নির্বাহী সদস্য আবুল মনছুর, সৈয়দ আমিনুল হক, গাজী শফিউল আজিম, কামরুল হাসান বুলু, সাইফুদ্দিন খালেদ বাহার, নজরুল ইসলাম বাহাদুর, মহব্বত আলী খান আব্দুল লফিত টিপু, হাজী রোটারিয়ান মো. ইলিয়াছ, ড. নিছার উদ্দীন আহমেদ মঞ্জু, হাজী বেলাল আহমেদ, মোর্শেদা আক্তার চৌধুরী প্রমুখ।
তপন তালুকদার 



















