তপন তালুকদার : আগামী অক্টোবরের মধ্যে চলমান সরকার পতন আন্দোলনের সফল পরিণতি ঘটাতে পরামর্শ দিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র নেতারা। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই সরকার পতনের চলমান আন্দোলনকে সফল পরিণতিতে রূপ দেওয়ার জন্য বেশিরভাগ নেতা তাদের মতামত দেন।
নেতাদের বেশিরভাগই অক্টোবরের মধ্যে সরকারের পতন ঘটাতে হবে বলে মত দেন। পাশাপাশি ঢাকা ও তার আশপাশের জেলাকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করতে বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণের। গতকাল ৩ সেপ্টেম্বর রোববার রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের হাইকমান্ডের সঙ্গে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে দলের সিনিয়র নেতারা এ মতামত দেন।
গত ২৮ আগস্ট বিএনপির স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, চলমান সরকার পতনের আন্দোলন ইস্যুতে কর্মকৌশল ঠিক করতে দলের ভাইস চেয়ারম্যান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব, যুগ্ম মহাসচিবদের মতামত নিতেই এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে যুক্তরাজ্য থেকে ভার্চুয়ালি যোগ দিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সবার মতামত শোনেন।
এ সময় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে অংশ নেওয়া একাধিক সূত্রে জানা গেছে, আগামী জানুয়ারিতে ঘোষিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই মতামত জানাতে গিয়ে তারা বলেন, সারা দেশে বিএনপি নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে গায়েবি মামলায় আদালত যেভাবে সাজা দেওয়া শুরু করেছে, এর প্রতিবাদে আদালত ঘেরাও কর্মসূচি দেওয়া জরুরি। তাছাড়া, সরকার পতনের চলমান আন্দোলনকে আরও বেশি বেগবান করতে সচিবালয়, নির্বাচন কমিশন এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ঘেরাওয়ের মতো কর্মসূচি দিতেও মতামত দেন বিএনপির সিনিয়র তিন নেতা।
আবার দলের দুই নেতা বলেন, বিএনপির চলমান শান্তিপূর্ণ আন্দোলন সঠিক পথেই চলছে। তারা বলেন, আন্দোলনের শেষ সময়ে এসে কোনোভাবেই হঠকারী কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না। তাই শুধু ঢাকাকেন্দ্রিক নয়; আন্দোলন সফল করতে সারা দেশ নিয়ে পরিকল্পনা গ্রহণেও মতামত দেন তারা। বৈঠকে সিনিয়র এক নেতা বলেন, গত ২৯ জুলাই ঢাকার প্রবেশপথে অবস্থান কর্মসূচি আন্দোলনের প্রথম ধাপ ছিল। এখন চূড়ান্ত ধাপে যেতে হবে। এই সময়ে বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া নতুন কমিটি গঠন প্রক্রিয়া বন্ধ রাখার জন্যও মতামত দেন তিনি।
এতে বিভক্তি বাড়ে বলেও মনে করেন ওই নেতা। যার ফলে আন্দোলনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ভার্চুয়ালি উপস্থিত থেকে সবার মতামত শুনেছেন।




















