Dhaka ০৫:২৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ জুন ২০২৪, ৬ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

আশুলিয়ায় স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যা স্বামী গ্রেপ্তার

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:৫৯:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জুন ২০২৩
  • 12

মোঃ বাবুল শেখ, স্টাফ রিপোর্টার : ঢাকার আশুলিয়ায় পরকীয়ায় জড়িয়েছে সন্দেহে স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যার দু’দিন পর স্বামী ফারুক হোসেনকে রংপুরের পীরগাছা থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-৪। ২৩ জুন শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে র‌্যাব-৪, সিপিসি-২ এর কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান কোম্পানি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কমান্ডার রাকিব মাহমুদ খাঁন।

এর আগে, শুক্রবার ভোররাতে রংপুরের পীরগাছা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আসামীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার মো. ফারুক হোসেন গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ থানার মুকুন্দপুর গ্রামের তৈয়বর মিয়ার ছেলে। ভুক্তভোগী শিমু আক্তার একই এলাকার নয়া মিয়া ব্যাপারীর মেয়ে। তারা দুই সপ্তাহ আগে আশুলিয়ার গাজিরচট নয়াপাড়া এলাকায় এসে বসবাস শুরু করেন।

র‌্যাব জানায়, গত ২০ জুন দুপুরে আশুলিয়ার গাজিরচট এলাকায় নিজ স্ত্রীর গলা কেটে হত্যার পর মরদেহ বাথরুমে ফেলে রেখে শিশু সন্তানকে নিয়ে পালিয়ে যান ফারুক। এ ঘটনায় নিহতের বড় বোন আশুলিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করলে র‌্যাব আসামিকে খুঁজতে ছায়া তদন্তে শুরু করে। মামলাটির তদন্তে গিয়ে দেখা যায়, ৬ বছর আগে ফারুকের সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় শিমুর। তাদের একটি ৪ বছরের ছেলে সন্তান রয়েছে। তারা দু’জনেই আশুলিয়ায় একটি পোশাক কারখানায় কর্মরত ছিলেন। শিমুর বড় বোন লাবনীর বাসাও আশুলিয়ার একই এলাকায়। সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-৪, সিপিসি-২ এর কোম্পানি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কমান্ডার রাকিব মাহমুদ খাঁন জানান, ১০-১৫ দিন আগে গ্রামের বাড়িতে শিমুর সঙ্গে স্বামী ফারুকের বাকবিতণ্ডা হয়। এসময় শিমুর গলা টিপে ধরে নির্যাতন করেন ফারুক। ঢাকার আশুলিয়ায় আসার পর গত ১৯ জুন রাতে শিমুর বড় বোন লাবনীর বাসায় রাতের খাবার শেষে তারা নিজ বাসায় চলে আসেন। পরদিন সকালে লাবনী কর্মস্থলে যাওয়ার পথে শিমুর বাসার কক্ষের দরজা বন্ধ দেখতে পান। পরে অনেক ডাকাডাকির পর দরজা না খুললে ধাক্কা দিয়ে ভেতরে ঢুকে দেখতে পান শিমুর গলা কাটা রক্তাক্ত মরদেহ ওড়না দিয়ে পেচানো অবস্থায় বাথরুমে পড়ে আছে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

র‌্যাব কর্মকর্তা রাকিব মাহমুদ খান আরও জানান, আমরা ঘটনার পর পর ছায়া তদন্ত শুরু করি। আসামি ফারুককে শুক্রবার ভোর রাতে রংপুরের পীরগাছা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ফারুক জানিয়েছেন, পারিবারিক কলহের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে পেছন থেকে হাতের কাছে থাকা সবজি কাটার ছুরি দিয়ে স্ত্রী শিমুর গলা প্রায় দ্বি-খণ্ডিত করে মৃত্যু নিশ্চিত করেন। পরে মরদেহ বাথরুমে নিয়ে ওড়না দিয়ে ঢেকে ছেলেকে নিয়ে পালিয়ে যান। ফারুকের ধারণা শিমু পরকীয়া সম্পর্কে লিপ্ত হয়েছে। তাই তিনি স্ত্রীকে হত্যা করে।
আসামিকে আশুলিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও জানান এই র‌্যাব কর্মকর্তা।

Tag :
সর্বাধিক পঠিত

https://dainiksurjodoy.com/wp-content/uploads/2023/12/Green-White-Modern-Pastel-Travel-Agency-Discount-Video5-2.gif

দাঁতমারা সেলফি রোড়ে গাছের সঙ্গে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় নিহত ১

আশুলিয়ায় স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যা স্বামী গ্রেপ্তার

Update Time : ১১:৫৯:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জুন ২০২৩

মোঃ বাবুল শেখ, স্টাফ রিপোর্টার : ঢাকার আশুলিয়ায় পরকীয়ায় জড়িয়েছে সন্দেহে স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যার দু’দিন পর স্বামী ফারুক হোসেনকে রংপুরের পীরগাছা থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-৪। ২৩ জুন শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে র‌্যাব-৪, সিপিসি-২ এর কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান কোম্পানি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কমান্ডার রাকিব মাহমুদ খাঁন।

এর আগে, শুক্রবার ভোররাতে রংপুরের পীরগাছা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আসামীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার মো. ফারুক হোসেন গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ থানার মুকুন্দপুর গ্রামের তৈয়বর মিয়ার ছেলে। ভুক্তভোগী শিমু আক্তার একই এলাকার নয়া মিয়া ব্যাপারীর মেয়ে। তারা দুই সপ্তাহ আগে আশুলিয়ার গাজিরচট নয়াপাড়া এলাকায় এসে বসবাস শুরু করেন।

র‌্যাব জানায়, গত ২০ জুন দুপুরে আশুলিয়ার গাজিরচট এলাকায় নিজ স্ত্রীর গলা কেটে হত্যার পর মরদেহ বাথরুমে ফেলে রেখে শিশু সন্তানকে নিয়ে পালিয়ে যান ফারুক। এ ঘটনায় নিহতের বড় বোন আশুলিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করলে র‌্যাব আসামিকে খুঁজতে ছায়া তদন্তে শুরু করে। মামলাটির তদন্তে গিয়ে দেখা যায়, ৬ বছর আগে ফারুকের সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় শিমুর। তাদের একটি ৪ বছরের ছেলে সন্তান রয়েছে। তারা দু’জনেই আশুলিয়ায় একটি পোশাক কারখানায় কর্মরত ছিলেন। শিমুর বড় বোন লাবনীর বাসাও আশুলিয়ার একই এলাকায়। সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-৪, সিপিসি-২ এর কোম্পানি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কমান্ডার রাকিব মাহমুদ খাঁন জানান, ১০-১৫ দিন আগে গ্রামের বাড়িতে শিমুর সঙ্গে স্বামী ফারুকের বাকবিতণ্ডা হয়। এসময় শিমুর গলা টিপে ধরে নির্যাতন করেন ফারুক। ঢাকার আশুলিয়ায় আসার পর গত ১৯ জুন রাতে শিমুর বড় বোন লাবনীর বাসায় রাতের খাবার শেষে তারা নিজ বাসায় চলে আসেন। পরদিন সকালে লাবনী কর্মস্থলে যাওয়ার পথে শিমুর বাসার কক্ষের দরজা বন্ধ দেখতে পান। পরে অনেক ডাকাডাকির পর দরজা না খুললে ধাক্কা দিয়ে ভেতরে ঢুকে দেখতে পান শিমুর গলা কাটা রক্তাক্ত মরদেহ ওড়না দিয়ে পেচানো অবস্থায় বাথরুমে পড়ে আছে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

র‌্যাব কর্মকর্তা রাকিব মাহমুদ খান আরও জানান, আমরা ঘটনার পর পর ছায়া তদন্ত শুরু করি। আসামি ফারুককে শুক্রবার ভোর রাতে রংপুরের পীরগাছা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ফারুক জানিয়েছেন, পারিবারিক কলহের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে পেছন থেকে হাতের কাছে থাকা সবজি কাটার ছুরি দিয়ে স্ত্রী শিমুর গলা প্রায় দ্বি-খণ্ডিত করে মৃত্যু নিশ্চিত করেন। পরে মরদেহ বাথরুমে নিয়ে ওড়না দিয়ে ঢেকে ছেলেকে নিয়ে পালিয়ে যান। ফারুকের ধারণা শিমু পরকীয়া সম্পর্কে লিপ্ত হয়েছে। তাই তিনি স্ত্রীকে হত্যা করে।
আসামিকে আশুলিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও জানান এই র‌্যাব কর্মকর্তা।