Dhaka ০৮:৪০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ জুন ২০২৪, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের ৬১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৭:৩৬:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৩
  • 8179

সূর্যোদয় প্রতিবেদন : বাংলার কৃষক ও মেহনতী মানুষের অকৃত্রিম বন্ধু শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের ৬১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ ২৭ এপ্রিল বৃহস্পতিবার। ১৯৬২ সালের এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। এ কে ফজলুল হক ১৮৭৩ সালে ২৬ অক্টোবর ঝালকাঠি জেলার রাজাপুরের সাতুরিয়া গ্রামের মিঞা বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি রাজনৈতিক মহল এবং সাধারণ মানুষের নিকট শেরেবাংলা (বাংলার বাঘ) এবং ‘হক সাহেব’ নামে পরিচিত ছিলেন। তিনি ছিলেন উপমহাদেশের অন্যতম এক প্রজ্ঞাবান রাজনীতিবিদ। শেরেবাংলা কলকাতার মেয়র (১৯৩৫), অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী (১৯৩৭-১৯৪৩), পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী (১৯৫৪), পূর্ব বাংলার গভর্নরের (১৯৫৬-১৯৫৮) পদসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। যুক্তফ্রন্ট গঠনে প্রধান নেতাদের মধ্যে অন্যতম এবং ২১ দফা দাবির প্রণেতা ছিলেন তিনি। এ ছাড়া ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে অবদান রাখার পাশাপাশি ১৯৪০ সালে ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব উত্থাপন করেন শেরেবাংলা। এ কে ফজলুল হকের মৃত্যুবার্ষিকীতে দেওয়া বাণীতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেছেন, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের অসাধারণ ব্যক্তিত্ব, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতা আগামী প্রজন্মের জন্য অনুসরণীয় হয়ে থাকবে। শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হককে উপমহাদেশের এক অনন্য সাধারণ প্রজ্ঞাবান ও বিচক্ষণ রাজনীতিবিদ উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, তিনি ছিলেন অসাধারণ মেধাবী ও বাগ্মী। তিনি একাধারে বাংলা, ইংরেজি ও উর্দু ভাষায় অনর্গল বক্তৃতা করতে পারতেন। দক্ষ রাজনীতিবিদ ও সমাজসেবক হিসেবে প্রায় অর্ধ-শতাব্দীর অধিককাল তিনি গণমানুষের কল্যাণে কাজ করে গেছেন।
তিনি বলেন, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক ছিলেন গণমানুষের নেতা। অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শেরে বাংলা এ অঞ্চলের মানুষের শিক্ষা, রাজনীতি, সমাজ সংস্কারসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়নের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বাণীতে বলেছেন, এ কে ফজলুল হক এদেশের কৃষক সমাজের অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করতে আজীবন কাজ করেছেন। কৃষকদের অধিকার আদায়ে তিনি সব সময় সোচ্চার ছিলেন। তিনি বাংলার মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালে দরিদ্র কৃষক এবং প্রজাদের স্বার্থ রক্ষায় কৃষি ঋণ আইন এবং প্রজাস্বত্ব (সংশোধনী) আইনসহ বিভিন্ন আইন প্রণয়ন করেন। জমিদাররা রায়তদের উপর যে আবওয়াব ও সেলামি ধার্য করতেন, তিনি তা বিলোপ সাধন করেন। তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শিক ঐক্য ও রাজনৈতিক ঘনিষ্টতা ছিল। ফজলুল হকের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী।

Tag :

শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের ৬১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

Update Time : ০৭:৩৬:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৩

সূর্যোদয় প্রতিবেদন : বাংলার কৃষক ও মেহনতী মানুষের অকৃত্রিম বন্ধু শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের ৬১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ ২৭ এপ্রিল বৃহস্পতিবার। ১৯৬২ সালের এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। এ কে ফজলুল হক ১৮৭৩ সালে ২৬ অক্টোবর ঝালকাঠি জেলার রাজাপুরের সাতুরিয়া গ্রামের মিঞা বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি রাজনৈতিক মহল এবং সাধারণ মানুষের নিকট শেরেবাংলা (বাংলার বাঘ) এবং ‘হক সাহেব’ নামে পরিচিত ছিলেন। তিনি ছিলেন উপমহাদেশের অন্যতম এক প্রজ্ঞাবান রাজনীতিবিদ। শেরেবাংলা কলকাতার মেয়র (১৯৩৫), অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী (১৯৩৭-১৯৪৩), পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী (১৯৫৪), পূর্ব বাংলার গভর্নরের (১৯৫৬-১৯৫৮) পদসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। যুক্তফ্রন্ট গঠনে প্রধান নেতাদের মধ্যে অন্যতম এবং ২১ দফা দাবির প্রণেতা ছিলেন তিনি। এ ছাড়া ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে অবদান রাখার পাশাপাশি ১৯৪০ সালে ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব উত্থাপন করেন শেরেবাংলা। এ কে ফজলুল হকের মৃত্যুবার্ষিকীতে দেওয়া বাণীতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেছেন, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের অসাধারণ ব্যক্তিত্ব, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতা আগামী প্রজন্মের জন্য অনুসরণীয় হয়ে থাকবে। শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হককে উপমহাদেশের এক অনন্য সাধারণ প্রজ্ঞাবান ও বিচক্ষণ রাজনীতিবিদ উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, তিনি ছিলেন অসাধারণ মেধাবী ও বাগ্মী। তিনি একাধারে বাংলা, ইংরেজি ও উর্দু ভাষায় অনর্গল বক্তৃতা করতে পারতেন। দক্ষ রাজনীতিবিদ ও সমাজসেবক হিসেবে প্রায় অর্ধ-শতাব্দীর অধিককাল তিনি গণমানুষের কল্যাণে কাজ করে গেছেন।
তিনি বলেন, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক ছিলেন গণমানুষের নেতা। অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শেরে বাংলা এ অঞ্চলের মানুষের শিক্ষা, রাজনীতি, সমাজ সংস্কারসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়নের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বাণীতে বলেছেন, এ কে ফজলুল হক এদেশের কৃষক সমাজের অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করতে আজীবন কাজ করেছেন। কৃষকদের অধিকার আদায়ে তিনি সব সময় সোচ্চার ছিলেন। তিনি বাংলার মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালে দরিদ্র কৃষক এবং প্রজাদের স্বার্থ রক্ষায় কৃষি ঋণ আইন এবং প্রজাস্বত্ব (সংশোধনী) আইনসহ বিভিন্ন আইন প্রণয়ন করেন। জমিদাররা রায়তদের উপর যে আবওয়াব ও সেলামি ধার্য করতেন, তিনি তা বিলোপ সাধন করেন। তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শিক ঐক্য ও রাজনৈতিক ঘনিষ্টতা ছিল। ফজলুল হকের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী।