০৮:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভূজপুর থানা যুবদলনেতা একরামের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা ও জাল সনদের অভিযোগ

  • আপডেট: ০৮:১৪:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • 4

সূর্যোদয় ডেস্ক : চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার ভূজপুর থানা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মো. একরামুল হক একরাম আসন্ন দাঁতমারা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। সম্প্রতি দাঁতমারাকে মাদক-সন্ত্রাসমুক্ত ও নিরাপদ ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহের কথা জানান। তাঁর এ বক্তব্যের পরই স্থানীয়ভাবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় একাধিক সূত্রের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দাঁতমারা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামী লীগের সমর্থকদের বাড়িঘরে হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনার সঙ্গে একরামুল হক একরামের সম্পৃক্ততার অভিযোগও রয়েছে। একই সময়ে এক আওয়ামী লীগ সমর্থক ব্যবসায়ীর পরিবারকে জিম্মি করে কয়েক লাখ টাকা আদায় করে বলে জানাগেছে। অভিযোগ রয়েছে, ৫ আগস্টের পর স্থানীয় কয়েকজন মাদক কারবারির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা গড়ে তুলে এলাকায় একটি মাদক সিন্ডিকেট তৈরিতে একরামুল হক একরাম ভূমিকা রাখেন। স্থানীয়দের দাবি, ওই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকায় মাদক সরবরাহ ও বেচাকেনা নিয়ন্ত্রণ করেন। সম্প্রতি দাঁতমারা থেকে হেয়াকো পর্যন্ত মাদকবিরোধী কর্মসূচিতে একরামুল হক একরামের উপস্থিতির তথ্যও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এদিকে একরামুল হক একরামের বিরুদ্ধে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলোর একটি তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ নিয়ে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি ফটিকছড়ি উপজেলার দাঁতমারা মঈনুল উলুম দাখিল মাদরাসা পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি হওয়ার সময় এসএসসি ও এইচএসসিসহ সাউদার্ন ইউনিভার্সিটির বিবিএ ডিগ্রির সনদ জমা দেন। পরে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ এসব সনদের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাছে পাঠায়। সাউদার্ন ইউনিভার্সিটির যাচাই প্রতিবেদনে তাঁর বিবিএ সনদটি ভুয়া বলে উল্লেখ করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেকর্ডে আইডি নম্বর ১১১-৩১-৫৫-এর বিপরীতে কোনো সনদ বা শিক্ষার্থীর তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানানো হয়। একইভাবে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকেও তাঁর এসএসসি ও এইচএসসি সনদ যাচাই করে সেগুলোকে ‘ফলস’ বা অসত্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। সনদগুলোর আইডি নম্বর অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাটাবেজে কোনো শিক্ষার্থীর তথ্য পাওয়া যায়নি বলেও জানানো হয়। এ ঘটনায় সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষ মাদরাসার সুপারকে চিঠি দিয়ে বিষয়টি অবহিত করে এবং প্রযোজ্য বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানায়। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে প্রকাশিত একটি সংবাদ প্রতিবেদনেও একরামুল হক একরের বিরুদ্ধে জাল শিক্ষাগত সনদ ব্যবহার করে মাদরাসা পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি হওয়ার অভিযোগ এবং সাউদার্ন ইউনিভার্সিটির চিঠির বিষয়টি উঠে আসে। এব্যাপারে তার বক্তব্য জানতে একাধিক চেষ্ঠা করেও যোগাযোগ করা যায়নি।

 

সর্বাধিক পঠিত

ভূজপুর থানা যুবদলনেতা একরামের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা ও জাল সনদের অভিযোগ

ভূজপুর থানা যুবদলনেতা একরামের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা ও জাল সনদের অভিযোগ

আপডেট: ০৮:১৪:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সূর্যোদয় ডেস্ক : চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার ভূজপুর থানা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মো. একরামুল হক একরাম আসন্ন দাঁতমারা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। সম্প্রতি দাঁতমারাকে মাদক-সন্ত্রাসমুক্ত ও নিরাপদ ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহের কথা জানান। তাঁর এ বক্তব্যের পরই স্থানীয়ভাবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় একাধিক সূত্রের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দাঁতমারা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামী লীগের সমর্থকদের বাড়িঘরে হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনার সঙ্গে একরামুল হক একরামের সম্পৃক্ততার অভিযোগও রয়েছে। একই সময়ে এক আওয়ামী লীগ সমর্থক ব্যবসায়ীর পরিবারকে জিম্মি করে কয়েক লাখ টাকা আদায় করে বলে জানাগেছে। অভিযোগ রয়েছে, ৫ আগস্টের পর স্থানীয় কয়েকজন মাদক কারবারির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা গড়ে তুলে এলাকায় একটি মাদক সিন্ডিকেট তৈরিতে একরামুল হক একরাম ভূমিকা রাখেন। স্থানীয়দের দাবি, ওই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকায় মাদক সরবরাহ ও বেচাকেনা নিয়ন্ত্রণ করেন। সম্প্রতি দাঁতমারা থেকে হেয়াকো পর্যন্ত মাদকবিরোধী কর্মসূচিতে একরামুল হক একরামের উপস্থিতির তথ্যও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এদিকে একরামুল হক একরামের বিরুদ্ধে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলোর একটি তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ নিয়ে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি ফটিকছড়ি উপজেলার দাঁতমারা মঈনুল উলুম দাখিল মাদরাসা পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি হওয়ার সময় এসএসসি ও এইচএসসিসহ সাউদার্ন ইউনিভার্সিটির বিবিএ ডিগ্রির সনদ জমা দেন। পরে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ এসব সনদের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাছে পাঠায়। সাউদার্ন ইউনিভার্সিটির যাচাই প্রতিবেদনে তাঁর বিবিএ সনদটি ভুয়া বলে উল্লেখ করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেকর্ডে আইডি নম্বর ১১১-৩১-৫৫-এর বিপরীতে কোনো সনদ বা শিক্ষার্থীর তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানানো হয়। একইভাবে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকেও তাঁর এসএসসি ও এইচএসসি সনদ যাচাই করে সেগুলোকে ‘ফলস’ বা অসত্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। সনদগুলোর আইডি নম্বর অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাটাবেজে কোনো শিক্ষার্থীর তথ্য পাওয়া যায়নি বলেও জানানো হয়। এ ঘটনায় সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষ মাদরাসার সুপারকে চিঠি দিয়ে বিষয়টি অবহিত করে এবং প্রযোজ্য বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানায়। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে প্রকাশিত একটি সংবাদ প্রতিবেদনেও একরামুল হক একরের বিরুদ্ধে জাল শিক্ষাগত সনদ ব্যবহার করে মাদরাসা পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি হওয়ার অভিযোগ এবং সাউদার্ন ইউনিভার্সিটির চিঠির বিষয়টি উঠে আসে। এব্যাপারে তার বক্তব্য জানতে একাধিক চেষ্ঠা করেও যোগাযোগ করা যায়নি।