১০:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রিয়াদে প্রবাসীদের জিম্মি করে মুন্সিগঞ্জের জসিম আদায় করছে টাকা

  • আপডেট: ০৮:৫৬:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
  • 12

সূর্যোদয় ডেস্ক : || : সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে নতুন বাংলাদেশি প্রবাসীদের উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে জিম্মি করে পরিবারের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে মুন্সিগঞ্জের জসিম নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর দাবি, জসিমের নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে সৌদিতে নতুন আসা শ্রমিকদের টার্গেট করে এমন প্রতারণা ও নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত। ভুক্তভোগী স্বজন ও প্রবাসী সূত্রে জানা যায়, সৌদি আরবে পৌঁছানোর পর অনেক নতুন প্রবাসীকে বিমানবন্দর থেকেই চক্রের সদস্যরা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়। পরে ভালো বেতন ও উন্নত চাকরির আশ্বাস দিয়ে তাদের বিভিন্ন বাসা বা ফ্ল্যাটে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের মাধ্যমে দেশে থাকা পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তৌহিদ ও সালাম নামের দুই যুবক প্রায় ছয় মাস আগে কর্মসংস্থানের আশায় সৌদি আরবে যান। সেখানে পৌঁছানোর কিছুদিন পর জসিম পরিচয়ধারী এক ব্যক্তি তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি দাবি করেন, তৌহিদের জন্য মোটা অঙ্কের বেতনে একটি ভালো চাকরির ব্যবস্থা করা হবে। তবে এজন্য দ্রুত ৩ হাজার সৌদি রিয়াল সমপরিমাণ অর্থ বাংলাদেশে একটি বিকাশ নম্বরে পাঠাতে হবে। স্বজনদের অভিযোগ, প্রবাসী সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তারা চক্রটির নির্দেশনা অনুযায়ী পৃথক বিকাশ নম্বরে টাকা পাঠান। কিন্তু অর্থ পাঠানোর পরও প্রতিশ্রুত চাকরি মেলেনি। বরং পরবর্তীতে আরও অর্থ দাবির চাপ সৃষ্টি করা হয় বলে অভিযোগ করেন তারা। পরিবারগুলোর দাবি, প্রবাসীদের আটকে রেখে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীদের দিয়ে পরিবারের সদস্যদের ফোন করিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে অর্থ পাঠানোর অনুরোধ করানো হয়। এতে পরিবারগুলো বাধ্য হয়ে টাকা পাঠিয়ে দেয়। একাধিক প্রবাসীর স্বজন অভিযোগ করেন, বিদেশে থাকা সন্তান বা স্বামীর নিরাপত্তার কথা ভেবে তারা প্রশাসনের কাছেও যেতে সাহস পাননি। এ ধরনের ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ায় সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে নতুন কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা বাড়ছে। প্রবাসী অধিকারকর্মীরা বলছেন, বিদেশে কর্মী পাঠানোর আগে নিয়োগকর্তা, স্পন্সর ও গন্তব্যস্থলের তথ্য যাচাই করা জরুরি। একই সঙ্গে সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাস এবং সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। ভুক্তভোগী পরিবারগুলো অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রিয়াদে অবস্থিত বাংলাদেশী দুতাবাসের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা। উল্লিখিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে অভিযুক্ত জসিম বলেন, আমি চাকিুরী দিয়েছি কিন্তু এর বিনিময়ে ৩ হাজার সৌদি রিয়াল নেইনি, আমি নিয়েছি ১ হাজার সৌদি রিয়াল।

সর্বাধিক পঠিত

কর্নেল বাহারকে বাদ দিয়ে বনানী কলেজের সভাপতি মোজাম্মেল হায়দার বাবু

রিয়াদে প্রবাসীদের জিম্মি করে মুন্সিগঞ্জের জসিম আদায় করছে টাকা

আপডেট: ০৮:৫৬:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

সূর্যোদয় ডেস্ক : || : সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে নতুন বাংলাদেশি প্রবাসীদের উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে জিম্মি করে পরিবারের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে মুন্সিগঞ্জের জসিম নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর দাবি, জসিমের নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে সৌদিতে নতুন আসা শ্রমিকদের টার্গেট করে এমন প্রতারণা ও নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত। ভুক্তভোগী স্বজন ও প্রবাসী সূত্রে জানা যায়, সৌদি আরবে পৌঁছানোর পর অনেক নতুন প্রবাসীকে বিমানবন্দর থেকেই চক্রের সদস্যরা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়। পরে ভালো বেতন ও উন্নত চাকরির আশ্বাস দিয়ে তাদের বিভিন্ন বাসা বা ফ্ল্যাটে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের মাধ্যমে দেশে থাকা পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তৌহিদ ও সালাম নামের দুই যুবক প্রায় ছয় মাস আগে কর্মসংস্থানের আশায় সৌদি আরবে যান। সেখানে পৌঁছানোর কিছুদিন পর জসিম পরিচয়ধারী এক ব্যক্তি তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি দাবি করেন, তৌহিদের জন্য মোটা অঙ্কের বেতনে একটি ভালো চাকরির ব্যবস্থা করা হবে। তবে এজন্য দ্রুত ৩ হাজার সৌদি রিয়াল সমপরিমাণ অর্থ বাংলাদেশে একটি বিকাশ নম্বরে পাঠাতে হবে। স্বজনদের অভিযোগ, প্রবাসী সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তারা চক্রটির নির্দেশনা অনুযায়ী পৃথক বিকাশ নম্বরে টাকা পাঠান। কিন্তু অর্থ পাঠানোর পরও প্রতিশ্রুত চাকরি মেলেনি। বরং পরবর্তীতে আরও অর্থ দাবির চাপ সৃষ্টি করা হয় বলে অভিযোগ করেন তারা। পরিবারগুলোর দাবি, প্রবাসীদের আটকে রেখে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীদের দিয়ে পরিবারের সদস্যদের ফোন করিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে অর্থ পাঠানোর অনুরোধ করানো হয়। এতে পরিবারগুলো বাধ্য হয়ে টাকা পাঠিয়ে দেয়। একাধিক প্রবাসীর স্বজন অভিযোগ করেন, বিদেশে থাকা সন্তান বা স্বামীর নিরাপত্তার কথা ভেবে তারা প্রশাসনের কাছেও যেতে সাহস পাননি। এ ধরনের ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ায় সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে নতুন কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা বাড়ছে। প্রবাসী অধিকারকর্মীরা বলছেন, বিদেশে কর্মী পাঠানোর আগে নিয়োগকর্তা, স্পন্সর ও গন্তব্যস্থলের তথ্য যাচাই করা জরুরি। একই সঙ্গে সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাস এবং সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। ভুক্তভোগী পরিবারগুলো অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রিয়াদে অবস্থিত বাংলাদেশী দুতাবাসের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা। উল্লিখিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে অভিযুক্ত জসিম বলেন, আমি চাকিুরী দিয়েছি কিন্তু এর বিনিময়ে ৩ হাজার সৌদি রিয়াল নেইনি, আমি নিয়েছি ১ হাজার সৌদি রিয়াল।