০২:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ৩১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সৌদিতে গৃহকর্মী নিয়োগের নামে নারীদের পতিতা বৃত্তিতে বাধ্য করেন অজয় মল্লিক

  • আপডেট: ০২:০১:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
  • 14

সূর্যোদয় ডেস্ক : সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে একটি কোম্পানির চাকরির সুবাদে অবস্থানরত চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার ছদহা ইউনিয়নের বাসিন্দা অজয় মল্লিকের বিরুদ্ধে ভয়াবহ নারী পাচার ও প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, নারী গৃহকর্মী নিয়োগের আড়ালে বাংলাদেশ থেকে দরিদ্র ও অসহায় নারীদের সৌদি আরবে নিয়ে গিয়ে দালাল চক্রের কাছে বিক্রি করা হতো। এরপর তাঁদের ওপর চালানো হতো শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। একাধিক সূত্র জানায়, অজয় মল্লিক দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে অবস্থান করে বিভিন্ন মাধ্যমে নারী গৃহকর্মী নিয়োগের ভিসা সংগ্রহ করতেন। পরে দেশের বিভিন্ন জেলার আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরিবারের নারীদের বিদেশে “ভালো বেতনের চাকরি” দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ফাঁদে ফেলতেন। প্রথমদিকে কোনো অর্থ দাবি না করায় অনেকেই সহজেই তাঁর কথায় বিশ্বাস করতেন।অভিযোগ রয়েছে, ভ্রমণ ভিসা কিংবা গৃহকর্মী ভিসার নামে এসব নারীকে সৌদি আরবে নেওয়ার পর তাঁদের প্রকৃত কর্মস্থলে না পাঠিয়ে বিভিন্ন দালাল চক্রের কাছে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে হস্তান্তর করা হতো। পরে তাঁদের বিভিন্ন বাসা কিংবা গোপন স্থানে আটকে রেখে নির্যাতন চালানো হতো। এমনকি কয়েকজন নারীকে জোরপূর্বক অনৈতিক কাজে বাধ্য করার অভিযোগও উঠেছে। এ ঘটনায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার ৪নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা রহিমা বেগমের ঘটনা। প্রায় দুই বছর সৌদি আরবে গৃহকর্মীর কাজ করে দেশে ফেরার পর আবারও বিদেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। সেই সময় সৌদি আরবে অবস্থানরত অজয় মল্লিকের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ হয়। রহিমার পরিবারের অভিযোগ, অজয় মল্লিক তাঁকে সৌদি আরবে উচ্চ বেতনের চাকরির আশ্বাস দেন। তাঁর নির্দেশনা অনুযায়ী রাজধানীর একটি রিক্রুটিং এজেন্সিতে পাসপোর্ট জমা দেন রহিমা। পরে ২০২৩ সালের ৯ জুন সৌদি এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তিনি সৌদি আরবের উদ্দেশ্যে রওনা হন। কিন্তু সৌদি আরবে পৌঁছানোর মাত্র ৫ থেকে ৬ দিনের মাথায় রহিমা মোবাইল ফোনে তাঁর মা ও চাচার সঙ্গে যোগাযোগ করে কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, তাঁকে আটকে রাখা হয়েছে এবং ইচ্ছার বিরুদ্ধে ভয়াবহ নির্যাতন চালানো হচ্ছে। পরিবারের সদস্যদের কাছে তিনি দাবি করেন, তাঁকে গৃহকর্মীর কাজের জন্য নয়, বরং পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করার উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে নেওয়া হয়েছে। রহিমার স্বজনরা জানান, এরপর দীর্ঘ সময় তাঁর সঙ্গে স্বাভাবিক যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করা হলেও কার্যকর কোনো সহায়তা পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ তাঁদের। এদিকে, সৌদি আরবে নারী গৃহকর্মী নিয়োগের আড়ালে অজয় মল্লিকের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, বিদেশে কর্মসংস্থানের নামে মানবপাচার চক্র নতুন কৌশলে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে দরিদ্র নারীদের টার্গেট করে এ ধরনের প্রতারণা ভয়াবহ সামাজিক বিপর্যয় ডেকে আনছে। মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, বিদেশে নারী শ্রমিক পাঠানোর ক্ষেত্রে যথাযথ যাচাই-বাছাই না থাকলে এমন অপরাধ আরও বাড়তে পারে। তাঁরা এ ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে অজয় মল্লিকের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বিদেশে কর্মসংস্থানের স্বপ্ন দেখিয়ে নারীদের পাচার ও নির্যাতনের এ অভিযোগ নিয়ে দৈনিক সূর্যোদয়ের অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।
# ঘটনার নেপথ্যে থাকা রিক্রুটিং এজেন্সি, দালাল চক্র এবং সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক সংযোগ নিয়ে বিস্তারিত তথ্য নিয়ে আসছে পরবর্তী পর্বে।

সর্বাধিক পঠিত

সৌদিতে গৃহকর্মী নিয়োগের নামে নারীদের পতিতা বৃত্তিতে বাধ্য করেন অজয় মল্লিক

সৌদিতে গৃহকর্মী নিয়োগের নামে নারীদের পতিতা বৃত্তিতে বাধ্য করেন অজয় মল্লিক

আপডেট: ০২:০১:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

সূর্যোদয় ডেস্ক : সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে একটি কোম্পানির চাকরির সুবাদে অবস্থানরত চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার ছদহা ইউনিয়নের বাসিন্দা অজয় মল্লিকের বিরুদ্ধে ভয়াবহ নারী পাচার ও প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, নারী গৃহকর্মী নিয়োগের আড়ালে বাংলাদেশ থেকে দরিদ্র ও অসহায় নারীদের সৌদি আরবে নিয়ে গিয়ে দালাল চক্রের কাছে বিক্রি করা হতো। এরপর তাঁদের ওপর চালানো হতো শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। একাধিক সূত্র জানায়, অজয় মল্লিক দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে অবস্থান করে বিভিন্ন মাধ্যমে নারী গৃহকর্মী নিয়োগের ভিসা সংগ্রহ করতেন। পরে দেশের বিভিন্ন জেলার আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরিবারের নারীদের বিদেশে “ভালো বেতনের চাকরি” দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ফাঁদে ফেলতেন। প্রথমদিকে কোনো অর্থ দাবি না করায় অনেকেই সহজেই তাঁর কথায় বিশ্বাস করতেন।অভিযোগ রয়েছে, ভ্রমণ ভিসা কিংবা গৃহকর্মী ভিসার নামে এসব নারীকে সৌদি আরবে নেওয়ার পর তাঁদের প্রকৃত কর্মস্থলে না পাঠিয়ে বিভিন্ন দালাল চক্রের কাছে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে হস্তান্তর করা হতো। পরে তাঁদের বিভিন্ন বাসা কিংবা গোপন স্থানে আটকে রেখে নির্যাতন চালানো হতো। এমনকি কয়েকজন নারীকে জোরপূর্বক অনৈতিক কাজে বাধ্য করার অভিযোগও উঠেছে। এ ঘটনায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার ৪নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা রহিমা বেগমের ঘটনা। প্রায় দুই বছর সৌদি আরবে গৃহকর্মীর কাজ করে দেশে ফেরার পর আবারও বিদেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। সেই সময় সৌদি আরবে অবস্থানরত অজয় মল্লিকের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ হয়। রহিমার পরিবারের অভিযোগ, অজয় মল্লিক তাঁকে সৌদি আরবে উচ্চ বেতনের চাকরির আশ্বাস দেন। তাঁর নির্দেশনা অনুযায়ী রাজধানীর একটি রিক্রুটিং এজেন্সিতে পাসপোর্ট জমা দেন রহিমা। পরে ২০২৩ সালের ৯ জুন সৌদি এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তিনি সৌদি আরবের উদ্দেশ্যে রওনা হন। কিন্তু সৌদি আরবে পৌঁছানোর মাত্র ৫ থেকে ৬ দিনের মাথায় রহিমা মোবাইল ফোনে তাঁর মা ও চাচার সঙ্গে যোগাযোগ করে কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, তাঁকে আটকে রাখা হয়েছে এবং ইচ্ছার বিরুদ্ধে ভয়াবহ নির্যাতন চালানো হচ্ছে। পরিবারের সদস্যদের কাছে তিনি দাবি করেন, তাঁকে গৃহকর্মীর কাজের জন্য নয়, বরং পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করার উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে নেওয়া হয়েছে। রহিমার স্বজনরা জানান, এরপর দীর্ঘ সময় তাঁর সঙ্গে স্বাভাবিক যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করা হলেও কার্যকর কোনো সহায়তা পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ তাঁদের। এদিকে, সৌদি আরবে নারী গৃহকর্মী নিয়োগের আড়ালে অজয় মল্লিকের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, বিদেশে কর্মসংস্থানের নামে মানবপাচার চক্র নতুন কৌশলে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে দরিদ্র নারীদের টার্গেট করে এ ধরনের প্রতারণা ভয়াবহ সামাজিক বিপর্যয় ডেকে আনছে। মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, বিদেশে নারী শ্রমিক পাঠানোর ক্ষেত্রে যথাযথ যাচাই-বাছাই না থাকলে এমন অপরাধ আরও বাড়তে পারে। তাঁরা এ ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে অজয় মল্লিকের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বিদেশে কর্মসংস্থানের স্বপ্ন দেখিয়ে নারীদের পাচার ও নির্যাতনের এ অভিযোগ নিয়ে দৈনিক সূর্যোদয়ের অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।
# ঘটনার নেপথ্যে থাকা রিক্রুটিং এজেন্সি, দালাল চক্র এবং সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক সংযোগ নিয়ে বিস্তারিত তথ্য নিয়ে আসছে পরবর্তী পর্বে।