০৬:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাজা দেওয়ার ঘটনায় থানায় হামলা ও সংঘর্ষে পুলিশসহ আহত ২৫

  • আপডেট: ০৯:৪২:৫৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৪ জুলাই ২০২৫
  • 76

সূর্যোদয় ডেস্ক : লালমনিরহাটের পাটগ্রামে পাথরবাহী ট্রাক থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতে শ্রমিক দলের দুইজনকে সাজা দেওয়ার ঘটনায় বুধবার (২ ‍জুলাই) রাত সোয়া ১১টার দিকে জেলার পাটগ্রাম থানায় ঢুকে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়ে আসামিদের ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপির নেতা কর্মীদের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, বিএনপির নাম ভাঙিয়ে কতিপয় দুষ্কৃতিকারী এ ঘটনা ঘটিয়েছে। তবে স্থানীয় বিএনপি এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ডিআইজি আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, পাটগ্রামের সরেয়ার বাজার এলাকায় চাঁদা আদায়ের সময় ইউএনও এবং ওসি ঘটনাস্থল থেকে দুইজনকে ধরে এনে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজা দিয়ে থানায় নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় বিএনপির কতিপয় দুষ্কৃতিকারী আসামিদেরকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এ সময় পুলিশ বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তারা থানায় হামলা করে ল্যাপটপ ভাঙচুর, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তছনছ, পুলিশের পিকআপ ও অন্যান্য সরঞ্জাম ভাঙচুর করে। বর্তমানে পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তাছাড়া বিজিবির টহল রয়েছে। এর আগে, বৃহস্পতিবার সকালে পুলিশের রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি আমিনুল ইসলাম, লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) এইচ এম রকিব হায়দার, পুলিশ সুপার (এসপি) তরিকুল ইসলামসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান ও পাটগ্রাম থানা পরিদর্শন করেন। এ ঘটনায় পাটগ্রামের পাথর মহালের ইজারাদার মাহমুদ হোসেন বৃহস্পতিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করেন। এসময় তিনি দাবি করেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) উত্তম কুমার দাস ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান তাদের কাছে ১৫ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। টাকা না দেওয়ায় বুধবার রাতে চেকিং পয়েন্ট থেকে দুইজন কোয়ারি কর্মীকে ধরে নিয়ে যান। ঘটনা জানতে এদিন রাতে থানায় গেলে থানার ওসি ইজারাদার বাদশা জাহাঙ্গীর চপল ও তাকে শারিরীকভাবে আহত করেন। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে ব্যবসায়ী মহল এবং শুভাকাঙ্ক্ষীরা থানার সামনে জড়ো হয়। এ সময় ওসির নির্দেশে পুলিশ নির্বিচারে গুলি ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এতে ১৭ জন আহত হন। ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) উত্তম কুমার দাশ বলেন, পাথর কোয়ারির ইজারার শর্ত ভঙ্গ করে ইজারাদারদের পক্ষে মহাসড়কে চলাচলকারী পাথরবাহী ট্রাক থেকে টাকা আদায় করা হচ্ছে, এমন অভিযোগে উপজেলার সরেয়ার বাজার এলাকা থেকে রাতে সোহেল রানা ও বেলাল হোসেন নামের দুজনকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে প্রত্যেককে এক মাস করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এদিকে, বুধবার গভীর রাতে বিএনপিকে দায়ী করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম তার ভেরিফায়েড ফেসবুকে একটি পোস্ট দিলে, সেটি নিয়ে পাটগ্রাম ও হাতীবান্ধা বিএনপির মাঝে উত্তেজনা দেখা দেয়। পুলিশ জানায়, ওই দুজনকে থানায় নিয়ে আসার পরপরই কয়েকশ মানুষ থানায় হামলা চালায়। হামলায় থানার বিভিন্ন কক্ষ তছনছ করা হয়। এ সময় বেশ কয়েকটি ল্যাপটপ ও ডেস্কটপ কম্পিউটার, জানালার কাঁচ ভাঙচুর করা হয়। একপর্যায়ে পুলিশ ভ্যান ভাঙচুর করে সেখানে থাকা দণ্ডপ্রাপ্ত ওই দুই আসামিকে ছিনিয়ে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করলে পুলিশসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনার পরপরই পাশের হাতীবান্ধা থানা ও বড়খাতা হাইওয়ে থানা থেকে পাটগ্রামে পুলিশ পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হলেও স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীদের বাধায় তা সম্ভব হয়নি।

আগামীকাল ১৪ মে বৃহস্পতিবার দৈনিক সূর্যোদয়ের ১৫ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

সাজা দেওয়ার ঘটনায় থানায় হামলা ও সংঘর্ষে পুলিশসহ আহত ২৫

আপডেট: ০৯:৪২:৫৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৪ জুলাই ২০২৫

সূর্যোদয় ডেস্ক : লালমনিরহাটের পাটগ্রামে পাথরবাহী ট্রাক থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতে শ্রমিক দলের দুইজনকে সাজা দেওয়ার ঘটনায় বুধবার (২ ‍জুলাই) রাত সোয়া ১১টার দিকে জেলার পাটগ্রাম থানায় ঢুকে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়ে আসামিদের ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপির নেতা কর্মীদের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, বিএনপির নাম ভাঙিয়ে কতিপয় দুষ্কৃতিকারী এ ঘটনা ঘটিয়েছে। তবে স্থানীয় বিএনপি এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ডিআইজি আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, পাটগ্রামের সরেয়ার বাজার এলাকায় চাঁদা আদায়ের সময় ইউএনও এবং ওসি ঘটনাস্থল থেকে দুইজনকে ধরে এনে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজা দিয়ে থানায় নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় বিএনপির কতিপয় দুষ্কৃতিকারী আসামিদেরকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এ সময় পুলিশ বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তারা থানায় হামলা করে ল্যাপটপ ভাঙচুর, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তছনছ, পুলিশের পিকআপ ও অন্যান্য সরঞ্জাম ভাঙচুর করে। বর্তমানে পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তাছাড়া বিজিবির টহল রয়েছে। এর আগে, বৃহস্পতিবার সকালে পুলিশের রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি আমিনুল ইসলাম, লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) এইচ এম রকিব হায়দার, পুলিশ সুপার (এসপি) তরিকুল ইসলামসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান ও পাটগ্রাম থানা পরিদর্শন করেন। এ ঘটনায় পাটগ্রামের পাথর মহালের ইজারাদার মাহমুদ হোসেন বৃহস্পতিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করেন। এসময় তিনি দাবি করেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) উত্তম কুমার দাস ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান তাদের কাছে ১৫ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। টাকা না দেওয়ায় বুধবার রাতে চেকিং পয়েন্ট থেকে দুইজন কোয়ারি কর্মীকে ধরে নিয়ে যান। ঘটনা জানতে এদিন রাতে থানায় গেলে থানার ওসি ইজারাদার বাদশা জাহাঙ্গীর চপল ও তাকে শারিরীকভাবে আহত করেন। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে ব্যবসায়ী মহল এবং শুভাকাঙ্ক্ষীরা থানার সামনে জড়ো হয়। এ সময় ওসির নির্দেশে পুলিশ নির্বিচারে গুলি ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এতে ১৭ জন আহত হন। ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) উত্তম কুমার দাশ বলেন, পাথর কোয়ারির ইজারার শর্ত ভঙ্গ করে ইজারাদারদের পক্ষে মহাসড়কে চলাচলকারী পাথরবাহী ট্রাক থেকে টাকা আদায় করা হচ্ছে, এমন অভিযোগে উপজেলার সরেয়ার বাজার এলাকা থেকে রাতে সোহেল রানা ও বেলাল হোসেন নামের দুজনকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে প্রত্যেককে এক মাস করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এদিকে, বুধবার গভীর রাতে বিএনপিকে দায়ী করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম তার ভেরিফায়েড ফেসবুকে একটি পোস্ট দিলে, সেটি নিয়ে পাটগ্রাম ও হাতীবান্ধা বিএনপির মাঝে উত্তেজনা দেখা দেয়। পুলিশ জানায়, ওই দুজনকে থানায় নিয়ে আসার পরপরই কয়েকশ মানুষ থানায় হামলা চালায়। হামলায় থানার বিভিন্ন কক্ষ তছনছ করা হয়। এ সময় বেশ কয়েকটি ল্যাপটপ ও ডেস্কটপ কম্পিউটার, জানালার কাঁচ ভাঙচুর করা হয়। একপর্যায়ে পুলিশ ভ্যান ভাঙচুর করে সেখানে থাকা দণ্ডপ্রাপ্ত ওই দুই আসামিকে ছিনিয়ে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করলে পুলিশসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনার পরপরই পাশের হাতীবান্ধা থানা ও বড়খাতা হাইওয়ে থানা থেকে পাটগ্রামে পুলিশ পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হলেও স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীদের বাধায় তা সম্ভব হয়নি।